kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

জিআর বরাদ্দ-বণ্টন নিয়ে টানাপড়েন

ডিসিদের একক কর্তৃত্বে ক্ষোভ এমপিদের

নিখিল ভদ্র   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডিসিদের একক কর্তৃত্বে ক্ষোভ এমপিদের

মানবিক সহায়তা কর্মসূচির (জিআর) বরাদ্দ বণ্টনে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) একক ক্ষমতা নিয়ে নাখোশ সংসদ সদস্যরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি ওই কাজে এমপিদেরও সম্পৃক্ত করার জন্য জোর সুপারিশ জানিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন উৎসব কিংবা মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় দেওয়া বরাদ্দের তালিকা এমপিদের সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিষয়টি নিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এমপিদের যুক্তি, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক। নির্বাচন থেকে শুরু করে সরকারকে সহায়তায় এমপিদের ভূমিকাই মুখ্য। সেদিক থেকে ডিসিরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। রাষ্ট্রের নির্বাহী আদেশ পালন করাই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু জিআরসহ নানা বিশেষ বরাদ্দ বণ্টনে একক কর্তৃত্ব ডিসিদের হাতে। ফলে সরকারের উন্নয়ন ও সুষম বণ্টনে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা দেখা দিচ্ছে।

তবে ডিসিরা বলছেন, বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চাইলে তা নিয়ে তাঁদের আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা থাকতে হবে।

কমিটি সূত্র জানায়, গত রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে কয়েকজন সদস্য জিআর বরাদ্দে ডিসিদের একক কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অনেকটা ক্ষোভ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমানকে উদ্দেশে তাঁরা বলেন, জিআরের যে বরাদ্দ জেলায় বণ্টন করা হয়, তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ব্যক্তিরা ডিসিদের তালিকায় থাকে না। ডিসিরা অধীনস্তদের কাছ থেকে শুনে তাঁদের ইচ্ছা অনুসারে বিলি-বণ্টন করেন। ফলে প্রকৃত ব্যক্তিরা সরকারের আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে এমপিদের সম্পৃক্ত করা হলে কারা পাওয়ার অধিকার রাখে কিংবা রাখে না সেটিও দৃশ্যমান হবে। এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দে ডিসিদের সঙ্গে এমপিদের সম্পৃক্ত করা উচিত।

সূত্র আরো জানায়, আসন্ন শারদীয় দুর্গা উৎসবে বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে জিআর দেওয়া হবে উল্লেখ করে কমিটির সদস্য ও এমপিরা বলেন, এ ক্ষেত্রেও ডিসিরা তাঁদের ইচ্ছানুযায়ী পূজামণ্ডপগুলোকে বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। কিন্তু কোন মণ্ডপে কার কি বরাদ্দ লাগবে সেটা ডিসিদের চেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা আইন প্রণেতা এমপিরাই বেশি জানেন। এখানে সরকার যে উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দিচ্ছে তার পুরোটাই বিফলে যাচ্ছে বলে মনে করেন এমপিরা।

বৈঠক সূত্র জানায়, এই ইস্যুতে বেশি সোচ্চার ছিলেন কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন)। তাঁকে সমর্থন জানিয়ে কথা বলেন সাতক্ষীরা-২ সদর আসনের এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবিসহ অন্যরা।

সরকারদলীয় সদস্য মীর মোস্তাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো জিআরের বরাদ্দ ডিসিরা এককভাবে দিতে পারবেন না। এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা যে তালিকা দেব সেগুলো ডিসিরা বাস্তবায়ন করবেন। কারণ তাঁরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী।’ তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার কথা তুলে ধরে বলেন, সাতক্ষীরা সদর আসনটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। অথচ এখানে সম্প্রতি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৪টি। অথচ অনেক সংসদীয় আসনে ৩৭ থেকে ৭২টি পর্যন্ত ঘর দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জিআর কিংবা অন্য কোনো বরাদ্দের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা তালিকা দিলে আমাদের বিরোধিতা করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ উনারা (এমপি) জনপ্রতিনিধি। আমি দিলেও সাধারণ মানুষ পাবে, উনাদের তালিকানুযায়ী দিলেও জনগণই পাবে। তাই এখানে কোনো সমস্যা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই। তবে, প্রশ্ন হচ্ছে—এসব বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত দিবে কারা এই বরাদ্দের কাজটি পরিচালনা করবেন। সরকার যে সিদ্ধান্ত দিবে সে অনুযায়ী আমরা দায়িত্ব পালন করব।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মসজিদ-মন্দিরের জন্য বরাদ্দ করা জিআর প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুয়া প্রকল্প জমা দিয়ে অনেকেই বরাদ্দের পুরোটাই বিক্রি করে দেন। এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে গত বছর। এক দিনে ঠাকুরগাঁও জেলার ৫২টি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে জানা যায়। একই ধরনের অনিয়মের খবর প্রকাশ পেয়েছে নাটোর জেলায়ও। গত বছর নাটোরে অতিথি আপ্যায়নের নামে নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ দেওয়া দেড় কোটি টাকার ৪৬০ মেট্রিক টন চাল নয়ছয় করা হয়। এসব ঘটনায় দুদকে অভিযোগ জমা পড়েছে। সারা দেশেই এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকে বলে সংসদীয় কমিটির কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা