kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তাল ক্যাম্পাস, সংহতি জানাল স্থানীয় আ. লীগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



উত্তাল ক্যাম্পাস, সংহতি জানাল স্থানীয় আ. লীগ

বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা গতকালও ক্যাম্পাসে সমাবেশ করেন। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রবিবার সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাঁদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা ক্যাম্পাসে আন্দোলনস্থলে গিয়ে এ সংহতি প্রকাশ করেন।

গতকাল দুপুরে ক্যাম্পাসে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধাণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এম বি সাঈফ ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ।

নেতারা বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলন। তাই আমরা তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে ক্যাম্পাসে এসেছি। আশা করব, শিক্ষার্থীরা কোনো হিংসাত্মক আন্দোলন করবে না। শান্তিপূর্ণভাবে তারা তাদের আন্দোলন করবে।’

এই সময় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ রুহুল আমিন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র কাজী লিয়াকত আলী লেকু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিটু, জেলা যুবলীগের সভাপতি জি এম সাহাবউদ্দিন আযম, সাধারণ সম্পাদক এম বি সাঈফ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, টুঙ্গিপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ তোজাম্মেল হোসেন টুটুল উপস্থিত ছিলেন।

যে ১৬ কারণে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি :  উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের অপসারণের এক দফা জানানোর পেছনে নানা কারণ দেখিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসব কারণের মধ্যে ১৬টি কারণ দেখানো হয়েছে এবং ছাপানো একটি লিফলেট রবিবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিলি করা হয়েছে।

অভিযোগগুলো হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণকাজ শুরুর আগেই আড়াই কোটি টাকার নির্মাণ ব্যয় দেখানো, ভিসি কোটার নামে অসংখ্য ভর্তি বাণিজ্য ও ভর্তি জালিয়াতি, অনৈতিকভাবে অযোগ্য বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষক নিয়োগ, গত ছয় মাসে অনৈতিকভাবে জিনিয়াসহ মোট ২২ শিক্ষার্থীকে শোকজ এবং আটজনকে সামান্য কারণে বহিষ্কার, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ডেকে নিয়ে অপমান ও অর্ঘ্যের মতো শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স আট বছর পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী কোনো শহীদ মিনার না থাকা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি মনোনীত সোনালি দলের হয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন করলেও এখন সরকার সমর্থক বনে যাওয়া, অতিরিক্ত ভর্তি ফি, সেমিস্টার ফি ও বিভাগীয় উন্নয়ন ফির নামে জালিয়াতি, এক আয়ার গর্ভধারণসহ নারী  কেলেঙ্কারি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, ভিসি ভবনে বিউটি পার্লারের নামে কেলেঙ্কারি, বৃক্ষরোপণের নামে কোটি টাকা আত্মসাত্, দুই কোটি টাকার গোবর ক্রয়ের নামে দুর্নীতি, শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশে বাধা ও বাক্স্বাধীনতা হরণ এবং উপাচার্যের একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার। এ ছাড়া আরো শতাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. বশির উদ্দিন বলেন, ‘মুষ্টিমেয় কয়েকজন শিক্ষক, সংখ্যায় ১৫-র অধিক হবে না, তাঁরা নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য আমাদের সন্তনের মতো শিক্ষার্থীদের দিয়ে এসব করাচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে।’

শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থান : এক দফা দাবিতে চলমান আন্দোলন সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিলেও তাঁরা হলেই অবস্থান করছেন। অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী হল ছেড়েছেন বলে জানা গেছে। এক দফা দাবির আন্দোলনে চতুর্থ দিনে গতকালও বিপুলসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন এবং উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্ল্যাকার্ড বহন করেন ও স্লোগান দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নূরউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন,  ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালানো হলেও তারা আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করেছে, কিন্তু বেশির ভাগই রয়ে গেছে।’

এ ব্যাপারে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘উপাচার্যের নির্দেশে আমাদের হলে পানি ও বিদ্যুত্ বন্ধ করে দিয়েছিল। সেটা আমরা নিজেরাই ঠিক করেছি। আমাদের ক্যান্টিনের খাবার বন্ধ করে দিয়েছে। এটা হতে পারে না।’

হামলার নিন্দা জানালেন উপাচার্য : গত রবিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের দিয়ে হামলার ঘটনার জন্য উপাচার্য খোন্দকার নাসিরকে দায়ী করে আসছেন আন্দোলনকারীরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য ঘটনার এক দিন পর গতকাল রবিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই হামলার নিন্দা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ত্যাগের নির্দেশের পর বিশ্ববিদ্যালয়মুখী শিক্ষার্থীদের ওপর দুই কিলোমিটার দূরে রাস্তায় হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। গত সাড়ে চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো প্রকার হামলা হয়নি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কোনো সহিংসতা না করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’ তাঁর ধারণা, এ হামলার ঘটনার মাধ্যমে কেউ নাশকতা (স্যাবোটাজ) করে থাকতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা