kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দেশের প্রধান ৪৮ নদীর তথ্যভাণ্ডার হচ্ছে

আজিজুল পারভেজ   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের প্রধান ৪৮ নদীর তথ্যভাণ্ডার হচ্ছে

দেশের প্রধান ৪৮টি নদীর তথ্যভাণ্ডার তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই, পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ কৌশল এবং দূষণমুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ‘নদীদূষণ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং অন্যান্য দূষণ থেকে ৪৮টি নদী রক্ষা ও নদীর তথ্যভাণ্ডার তৈরি ও গবেষণা প্রকল্প (১ম পর্ব)’ হাতে নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

প্রকল্প পরিচালক ইকরামুল হক জানান, এই প্রকল্পের আওতায় জাতীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য ৪৮টি নদী পর্যবেক্ষণ এবং সমন্বিত আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নদী ও শাখা নদীগুলোর দখল, দূষণ ও নাব্যতা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দেশের সব নদ-নদী ব্যবস্থার ঊর্ধ্ব-সংযোগ, নিম্ন-সংযোগ, আন্ত সংযোগ, পার্শ্ব সংযোগসহ টাইম সিরিজ ও রিয়েল টাইম ডাটা যাচাই, পুনঃ যাচাইয়ের মাধ্যমে রিমোট সেন্সিংয়ের ভিত্তিতে হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল এবং থিমেটিক মানচিত্র তৈরি করা হবে। এতে প্রতিটি নদীর স্যাটেলাইট ইমেজসহ দূষণ, অবৈধ দখল চিহ্নিত করা হবে। বিপদাপন্ন, মৃতপ্রায় ও প্রবহমান নদীগুলো চিহ্নিত করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক আরো জানান, নদীব্যবস্থার উন্নয়ন বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। নদীগুলো দূষণ, অবৈধ দখল, অপব্যবহার থেকে রক্ষা ও পুনরুদ্ধার করার কৌশল প্রণয়ন করা হবে। নদীদূষণের উৎসমুখ চিহ্নিত করাসহ দূষণ প্রতিরোধ কার্যক্রমের এবং পানির বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহার রোধ করার সুপারিশ করা হবে। নদীসংশ্লিষ্ট প্রাকৃতিক সম্পদের (জলজ) তথ্য সংগ্রহ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হবে। নদ-নদী ও জলাশয় রক্ষায় কমিউনিটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে নদী রক্ষা কমিটি করা হবে।

জানা যায়, প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ২৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২১।

নির্বাচিত ৪৮ নদী : যে ৪৮টি নদীর তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে সেগুলো হলো—ঢাকা বিভাগের ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা; মাদারীপুর ও ফরিদপুরের আড়িয়াল খাঁ; গোপালগঞ্জের ঘাগর, কালীগঙ্গা, বিলরুট চ্যানেল ও মধুমতী; মানিকগঞ্জের ধলেশ্বরী; গাজীপুরের তুরাগ, বালু ও বংশী; চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, সাঙ্গু ও মাইনি; কক্সবাজারের বাকখালী; খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও ফেনী; খুলনা বিভাগের খুলনার রূপসা, কয়রা, আঠারোবেকী ও মৌরি; যশোরের কপোতাক্ষ ও ভৈরব; চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা; রাজশাহী বিভাগের রাজশাহীর বড়াল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা; পাবনার ইছামতী; নওগাঁর আত্রাই, পাগলা ও বাঙ্গালী, বগুড়ার করতোয়া; বরিশাল বিভাগের বরিশালের কীর্তনখোলা ও সন্ধ্যা; পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক, পটুয়াখালী ও পায়রা; পিরোজপুরের বলেশ্বর, কচা ও কালীগঙ্গা; বরগুনার মধুমতী; রংপুর বিভাগের রংপুরের করতোয়া ও ঘাগট; কুড়িগ্রামের বুড়ি তিস্তা; সিলেট বিভাগের সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা; মৌলভীবাজারের মনু; সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, কালনী ও বাশিয়া; ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদ, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও খাগিন; নেত্রকোনার সোমেশ্বরী এবং টাঙ্গাইলের পুঙ্গলী ও লৌহজং।

হাইকোর্টের নির্দেশে সারা দেশে নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের যে তালিকা তৈরি হয়েছে, তার আওতায় এই নদীগুলোর দখলদারদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে ক্রাশ প্রগ্রাম হাতে নিতে এরই মধ্যে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা