kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সামনে আসছে ২০১২ সালের সমীকরণ

আ. লীগের এক অংশ জাপার বিদ্রোহী প্রার্থী আসিফের পক্ষ নিয়েছে

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সামনে আসছে ২০১২ সালের সমীকরণ

রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার ওরফে আসিফ শাহরিয়ার লড়ছেন এরশাদের ছেলে সাদ এরশাদের বিপক্ষে। জাতীয় পার্টির একটি অংশ আসিফ শাহরিয়ারের পক্ষে গোপনে, আবার কেউ কেউ প্রকাশ্যে কাজ করছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় দলটির অনেকেই আসিফের পক্ষে কাজ করছে। এ অবস্থায় ২০১২ সালের রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সমীকরণ সামনে চলে আসছে।

২০১২ সালে নবগঠিত রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়নি। তবে দলটির একাধিক নেতা মেয়র পদে নির্বাচন করেন। শেষ পর্যন্ত নাগরিক কমিটির ব্যানারে আওয়ামী লীগ নেতা শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু বিজয়ী হন। ওই নির্বাচনে কৌশলগত কারণে জাতীয় পার্টি সরে দাঁড়িয়েছিল, যার ফলে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির উল্লেখযোগ্য অংশই ঝন্টুর পক্ষে প্রচারে নামে। তখন এমন কথাও চাউর হয়েছিল, ঝন্টু নির্বাচিত হলে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যেতে পারেন। অর্থাৎ জাতীয় পার্টির সাবেক এই নেতা আবার জাতীয় পার্টিতে ফিরে যাবেন। তবে নির্বাচনের পরে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ঝন্টু আওয়ামী লীগেই থেকে যান।

আসিফ শাহরিয়ার জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত, কিন্তু এরশাদ পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাঁর পক্ষে জাতীয় পার্টির তথা এরশাদের সমর্থকদের একটি অংশ মাঠে রয়েছে। স্থানীয় নেতাদের প্রার্থী না করায় দলের বিক্ষুব্ধ অংশটিও তাঁর পক্ষে গোপনে বা প্রকাশ্যে কাজ করছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রত্যাহার করায় ক্ষমতাসীন দলটির বিক্ষুব্ধ অংশের সমর্থন তাঁর পক্ষে যেতে পারে। সে জন্য আসিফ শাহরিয়ার চেষ্টাও করছেন। যদিও রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগ এর মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এরশাদপুত্র রাহগীর আল মাহী সাদকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেছেন, আসিফ শাহরিয়ার আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি তাঁদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন যে নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন।

স্থানীয় অনেকেই মনে করছে, আরো কয়েক দিন গেলে নির্বাচনের হালচাল অনুমান করা যাবে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাদের ভূমিকা কী হয় সেটাও নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সাদ এরশাদকে মনোনয়ন দেওয়ার পর তাঁর পক্ষে কাজ না করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি আমার অবস্থানে অনড় রয়েছি। সকালে এক কথা, বিকেলে আরেক কথা বলব এমন নেতা আমি নই। আমি জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষেও নেই, বিপক্ষেও নেই। আমার অবস্থান নিরপেক্ষ। আর প্রটোকল অনুযায়ী ভোটে আমি কারো পক্ষে কাজ করতে পারি না। কর্মীদের বিষয়েও আমার কোনো নির্দেশনা নেই।’

২০১২ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘এটা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে এটা হওয়া উচিত।’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় অনেকে অনেক কিছু ভাববে, ধারণা করবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে রংপুরের মানুষের কাছে এরশাদ পরিবারের অনেক ঋণ আছে। আমি তাঁর (এরশাদ) অবর্তমানে সেই ঋণ শোধ করতে নির্বাচনে নেমেছি।’

ঠিক যে ফরমুলায় শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন, উপনির্বাচনেও সেই ফরমুলার আভাস দেখছে স্থানীয় লোকজন। এমনটি হলে লাঙলের বিজয়ী হওয়া সহজসাধ্য হবে না। আবার জাতীয় পার্টি ও বিএনপির দুই প্রার্থী থাকেন রাজধানী ঢাকায়। রংপুরের লোকজন কাজের সুবিধার্থে স্থানীয় কাউকে সংসদ সদস্য হিসেবে বেছে নিতে পারে। কারণ তারা মনে করে, সব সময় কাছে পাওয়া যাবে—এমন জনপ্রতিনিধিই দরকার তাদের।

তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাদ এরশাদ কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘রংপুরের লোকজনের কাছে আমি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছি। ভোটের ফলাফলেই বুঝতে পারবেন। তারা আমাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। আমি তাদের ভালোবাসায় মুগ্ধ।’

দলটির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা দাবি করেছেন তাঁদের প্রার্থী সাদ লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন। আসিফ শাহরিয়ার জাতীয় পার্টির কেউ না জানিয়ে রাঙ্গা বলেন, ‘এরশাদ জীবিত থাকাকালেই তাঁকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করে গেছেন। গত রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন আসিফ। তাতে কোনোই প্রভাব পড়েনি। এবারের নির্বাচনেও কোনো প্রভাব পড়বে না।’

এদিকে উপনির্বাচনে সাদ এরশাদকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ। শুক্রবার রাতে রংপুর নগরীর শিরিন পার্ক ও কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল ও জেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা