kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

ইইউ অঞ্চলে আশ্রয়

বাংলাদেশিদের ১০% আবেদনও টিকছে না

মেহেদী হাসান   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশিদের ১০% আবেদনও টিকছে না

উন্নত জীবনের আশায় এবং প্রতারক-মানবপাচারকারী চক্রের প্ররোচনায় পড়ে বেশ কয়েক লাখ টাকা খরচ করে অনেক বাংলাদেশি অবৈধভাবে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন ইউরোপীয় দেশগুলোতে। কয়েক দেশ ঘুরে বিপজ্জনকভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনেকে ইউরোপে পৌঁছে ‘অ্যাসাইলাম’ (আশ্রয়) চান। কিন্তু তাঁদের সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার হার ১০ শতাংশেরও কম।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত ইউরোপীয় দেশগুলোতে অ্যাসাইলামের আবেদনের নতুন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে এ বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও এর আশপাশের কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেছেন। প্রথম দফায় বেশির ভাগ আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। সর্বশেষ গত জুলাই মাসের হিসাবে দেখা যায়, ওই মাসে এক হাজার ১৮৭ জন বাংলাদেশির অ্যাসাইলামের আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৫১ জন ‘শরণার্থী’ মর্যাদা পেয়েছেন। এ ছাড়া ৩৩ জন ‘শরণার্থী’ মর্যাদা না পেলেও সাময়িকভাবে থাকার জন্য ‘সুরক্ষা’ মর্যাদা পেয়েছেন। অর্থাৎ এক হাজার ১০৩ জনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, যা নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের ৯৩ শতাংশ।

গত জুলাই মাস শেষে ‘ইইউ প্লাস’ অঞ্চলে (ইইউ এবং নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড) অ্যাসাইলামের জন্য ছয় হাজার ১১৬ জন বাংলাদেশির আবেদন ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। গত বছরের মে মাসের পর থেকে ইইউ অঞ্চলে বাংলাদেশিদের অ্যাসাইলাম আবেদনের হার কমার প্রবণতা থাকলেও গত জুলাই মাসে বেশ বড় মাত্রায় বেড়েছে।

বাংলাদেশের সরকারি সূত্রগুলো বলছে, ইউরোপে বাংলাদেশি ‘অনিয়মিত অভিবাসী’দের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যথেষ্ট চাপ আছে। বাংলাদেশ সরকারেরও অবস্থান হলো বিদেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসতে চাইলে তাঁকে এ বিষয়ে সহায়তা করা হবে।

ঢাকায় ইউরোপীয় একটি দূতাবাসের এক শীর্ষ কূটনীতিক গত সপ্তাহে কালের কণ্ঠকে বলেন, ইউরোপে যে বাংলাদেশিদের থাকার অধিকার নেই তাঁদের পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই বছর আগে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)’ সই হয়েছে। ওই এসওপিকে বেশ ভালো উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আওতায় যাঁরা ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসছেন তাঁদের এ দেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা দিচ্ছে ইইউ। তবে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের প্রতি ইইউর সহানুভূতি রয়েছে।

ইইউর হিসাবে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর ‘ইইউ প্লাস’ অঞ্চলে অ্যাসাইলামের জন্য আবেদনকারী ও প্রত্যাখ্যাত হওয়া—দুটির হারই বেড়েছে। বিশেষ করে গত জুনের তুলনায় জুলাই মাসে অ্যাসাইলাম আবেদনের হার ২৬ শতাংশ বেড়েছে। আবেদনকারীদের এক-তৃতীয়াংশই সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ভেনিজুয়েলার নাগরিক। বাকি আবেদনকারীদের উৎস শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় আছে যথাক্রমে পাকিস্তান, তুরস্ক, বাংলাদেশ, সোমালিয়া, চীন, পেরু, ভারত, সুদান, ইরিত্রিয়া ও হাইতি।

জানা গেছে, ইইউ অঞ্চলে বাংলাদেশিদের ‘অনিয়মিত অভিবাসনের’ ক্ষেত্রে অবৈধভাবে হলেও ইউরোপে ঢুকে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা ও মানবপাচারকারী-দালাল সিন্ডিকেটের প্রলোভন বড় ভূমিকা রাখছে। পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক গত সপ্তাহে ঢাকায় মানবপাচার প্রতিরোধ উদ্যোগ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, মানবপাচার মোকাবেলায় ‘পালেরমো প্রটোকল’ অনুসমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। আইনগতভাবে কার্যকরযোগ্য ওই প্রটোকল অনুসমর্থনের নথি জাতিসংঘে পাঠিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে মানবপাচার মোকাবেলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ধারাবাহিক উদ্যোগ নেবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা