kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ

বিটিআরসির সঙ্গে গ্রামীণফোন-রবির বিরোধ মিটছে

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিটিআরসির সঙ্গে গ্রামীণফোন-রবির বিরোধ মিটছে

পাওনা আদায় নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) তথা সরকারের সঙ্গে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির বিরোধের অবসান হতে যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা বা এক ধরনের সালিসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে গতকাল বুধবার উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জরুরি বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু ভুল-বোঝাবুঝির কারণে দুই অপারেটরের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে যাচ্ছিল। এ অবস্থা চলমান থাকলে আমাদের ক্ষতি হতো, আমরা রাজস্ব হারাতাম। মোবাইল ফোন অপারেটররা যে মামলা করেছে, তা তারা তুলে নেবে। অন্যদিকে তাদের বিটিআরসি যে নোটিশ দিয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হবে।’ অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে দু-তিন সপ্তাহের মধ্যেই গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

বৈঠকের পর গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, ‘আমরা খুব আশাবাদী। বিষয়টিকে স্বচ্ছ ও গঠনমূলক উপায়ে সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে আজ আমরা সবাই মিলে একমত হয়েছি। এ অগ্রগতির বিষয়ে সহায়তা করার জন্য অর্থমন্ত্রী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এবং এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা এমন একটি সুন্দর সমাধানের প্রত্যাশা করছি, যেটি টেলিযোগাযোগ খাত ও সরকারকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে পুনরায় মনোনিবেশ করতে সহায়তা করবে।’

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, অডিটের মাধ্যমে নির্ধারিত গ্রামীণফোন ও রবির কাছে পাওনা প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বিলম্ব ফি ও সুদের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। পাওনার বেশির ভাগই হচ্ছে বিলম্ব ফি ও সুদ। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

এদিকে গ্রামীণফোন ও রবির কাছ

থেকে পাওনা আদায়ে নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা জানাতে বিটিআরসি গতকাল বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল। সংবাদ সম্মেলনের পর পুঁজিবাজারে আরো বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে—গ্রামীণফোনের এমন আশঙ্কার বিষয় অর্থমন্ত্রীকে জানানো হয়। এরপর সংবাদ সম্মেলনের আগেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ডাক আসে। পরে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান দ্রুত অর্থ মন্ত্রণালয়ে যান।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণফোন ও রবির কাছে সরকারের রাজস্ব ও বিটিআরসির পাওনার বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। পাওনার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই একটি সুন্দর সমাধান আসবে। এতে আমরা নিজেরা হারব না, কাউকে হারাব না।

সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বিটিআরসির সঙ্গে  মোবাইল অপারেটরদের দেনা-পাওনার বিরোধ আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে মিটিয়ে নেব। দৃশ্যপট বদলে গেছে, মোবাইল কম্পানিগুলো জাতীয় অর্থনীতি ও তথ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রাখছে। আমরা জাতীয় স্বার্থ বহাল রেখে পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়ে ব্যবসার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা গ্রামীণফোনকে পরামর্শ দিয়েছি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অতি দ্রুত তাদের মূল প্রতিষ্ঠান টেলিনরের সঙ্গে কথা বলতে। তারা আমাদের পরামর্শ গ্রহণ করেছে। তারা চেয়েছিল আরবিট্রেশনের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করতে। কিন্তু বিটিআরসির আইনে আরবিট্রেশনের কোনো সুযোগ নেই। 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস ও গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি। রবির সিইওকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সময়স্বল্পতার কারণে তিনি যেতে পারেননি বলে জানা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা