kalerkantho

সরকারের কথা ও কাজের মধ্যে মিল চায় যুক্তরাজ্য

জেনেভায় বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

মেহেদী হাসান   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারের কথা ও কাজের মধ্যে মিল চায় যুক্তরাজ্য

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ওই দেশটি একই সঙ্গে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কথা ও কাজের মধ্যে মিল দেখতে চেয়েছে।

জেনেভা থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৪২তম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনার সময় যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ওই উদ্বেগ নিরসনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদকে কাজ করার আহ্বান জানান। তবে জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার গত সোমবার মানবাধিকার পরিষদে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছিলেন তাতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ছিল না।

যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক রাষ্ট্রদূত রিটা ফ্রেঞ্চ গত মঙ্গলবার জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন, ‘বাংলাদেশে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ক্রমশই সংকুচিত হওয়া রাজনৈতিক পরিবেশ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে নেওয়া উদ্যোগগুলোর বিষয়ে আমরা (যুক্তরাজ্য) উদ্বিগ্ন।’

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নীতি সমুন্নত রাখা ও মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করার ব্যাপারে বাংলাদেশ যে অঙ্গীকার করেছে তার সঙ্গে সংগতি রেখেই কাজ করা উচিত এবং সেই কাজে সংবিধানে বর্ণিত মূল্যবোধগুলোর প্রতিফলন হওয়া উচিত।’

যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত ক্যামেরন জিম্বাবুয়ে, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, হংকং ও বাহরাইনে মানবাধিবার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ না করলেও এবারের অধিবেশনে উত্থাপিত গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ এসেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক নিরুদ্দেশ বা গুমের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারকে অন্তত ১০ দফা চিঠি ও তাগিদ পাঠিয়েছে গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে একটি অনুচ্ছেদে সুনির্দিষ্টভাবে চিঠির কথা উল্লেখ করে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে বলা হয়েছে, ‘সাধারণ অভিযোগ ও কয়েকটি ঘটনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোনো জবাব না পাওয়ায় ওয়ার্কিং গ্রুপ আবারও দুঃখ প্রকাশ করেছে।’

তবে যুক্তরাজ্য জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানোর সময় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনেছে। গত ১ জানুয়ারি ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের তৎকালীন এশিয়াবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড এক বিবৃতিতে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানালেও নির্বাচনে অনিয়ম ও বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকার কথা জানিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সরকার ওই নির্বাচন নিয়ে সব অভিযোগের পূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছিল।

এরপর গত এপ্রিল মাসে মার্ক ফিল্ড বাংলাদেশ সফরের সময় নির্বাচনে অনিয়ম ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ব্যাপারে ব্রিটিশ সংসদ ও সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উদ্বেগ জানিয়েছেন। পরে তিনি বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর লক্ষ্যে সব অভিযোগ নিষ্পত্তি, সুশাসন ও মানবাধিকারের ওপর জোর দিয়েছিলেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক বেশ জোরালো। অন্য সব দেশের মতো যুক্তরাজ্যও এ দেশের পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি রাখে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার থেকেই যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ পরিস্থিতির ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে।

মন্তব্য