kalerkantho

বিদ্যুতের নতুন ইতিহাস

সরকারি সৌরবিদ্যুৎ যোগ হলো জাতীয় গ্রিডে

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদ্যুতের নতুন ইতিহাস

কাপ্তাইয়ের সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রায় ৬০ বছর আগে দেশের প্রথম এবং একমাত্র পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা থেকে। কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি করা হয়েছিল। সেখান থেকেই দেশের প্রথম সরকারি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হলো। গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো এখানকার বিদ্যুৎ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নাম ‘কাপ্তাই ৭.৪ মেগাওয়াট সোলার পিডি গ্রিড কানেকটেড বিদ্যুৎকেন্দ ’। পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধ লাগোয় ২৩ একর জায়গার ওপর নির্মিত হয়েছে এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

২০২০ সালের মধ্যে দেশে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদনের লক্ষ্য সামনে রেখেই কাপ্তাইয়ে এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। যদিও ব্যক্তি উদ্যোগে বাসা-বাড়িতে বিদ্যুতের জন্য সোলার প্যানেল ব্যবহার হচ্ছে। সরকারি হিসাবে প্রায় ৪০ লাখ বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম রয়েছে।

কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এ টি এম আব্দুজ্জাহের সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব। এরই সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে সৌরশক্তির সাহায্যে সরকারিভাবে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে ১১০ কোটি টাকা। অর্থ সহায়তা দিয়েছে এশীয় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ৯ জুলাই। পরীক্ষামূলকভাবে আগেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ টাকা ৪৮ পয়সা। সরকারিভাবে এটাই প্রথম কোনো সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, যেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আব্দুজ্জাহের জানান, চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেডটিই করপোরেশন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে। আগামী দুই বছর কেন্দ্রের সার্বিক দেখভালের দায়িত্বে থাকবে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দে র কাছে হস্তান্তর করা হবে।

একইভাবে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে এডিবির আর্থিক সহায়তায় কাপ্তাই হ্রদে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দে র ব্যবস্থাপক।

জেডটিইর প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, সৌর প্যানেলগুলোর মেয়াদ ২৫ বছর। আর ইনভার্টারের ১০ বছর ওয়ারেন্টি। এরপর পরিবর্তন করে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া যাবে। এখন আবহাওয়া অনুযায়ী উৎপাদন কমবেশি হচ্ছে। ২৪ হাজার ১২টি সোলার প্যানেল রয়েছে এ কেন্দ্রে। আর ইনভার্টার রয়েছে ২৪০টি।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দে র সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই প্রকল্পের বিদ্যুৎ রাঙামাটি, কাপ্তাই ও লিচুবাগান পর্যন্ত সরবরাহের পর বাকি আরো দু-তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থাকে, যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদ ব্যবহার করে আমরা আরো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চিন্তাভাবনা করছি। কাপ্তাই হ্রদের ওপর ভাসমান সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর কাজ খুব শিগগির শুরু হবে।’

মন্তব্য