kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিলেটে পুলিশের ওপর ‘ধর্ষকদের’ হামলা

► খুলনা থেকে অপহৃত কিশোরী উদ্ধার
► পুলিশসহ আহত ৫ গ্রেপ্তার ২

সিলেট অফিস   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিলেটে পুলিশের ওপর ‘ধর্ষকদের’ হামলা

খুলনার দৌলতপুরে মাকে ধর্ষণের পর তাঁর কিশোরী মেয়েকে অপহরণ করে সিলেটের ওসমানীনগরে এনে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আসামি ধরতে গেলে ওসমানীনগরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় আসামি-পুলিশ সংঘর্ষে এক আসামি গুলিবিদ্ধ ও চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার এবং আসামি খোকন মিয়া (২৮) ও তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার গভীর রাতে ওসমানীনগর উপজেলার বড় ইউসুফপুর গ্রামের এক প্রবাসীর বাড়ির সামনে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি খোকন মিয়া বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার ধননগর গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক। তাঁর বাবা জাহাঙ্গীর মিয়া ওসমানীনগর উপজেলার বড় ইউসুফ গ্রামের এক প্রবাসীর বাড়ির কেয়ারটেকার। অপহৃত কিশোরীর বাড়ি খুলনার দৌলতপুর উপজেলায়।

পুলিশ ও থানায় দায়ের হওয়া এজাহার সূত্রে জানা যায়, খুলনায় এক নারীকে (৩৪) বিয়ের আশ্বাসে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিলেন ট্রাকচালক খোকন। খোকনকে বিয়ের জন্য ওই নারী বারবার বললেও কাজ হয়নি। এতে প্রতারণা বুঝতে পেরে ওই নারী তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। এরপর গত ১০ আগস্ট খোকন ওই নারীর কিশোরী মেয়েকে (১৩) অপহরণ করে সিলেটের ওসমানীনগরের বড়

ইউসুফপুর গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়িতে নিয়ে আসেন। ওই বাড়ির কেয়ারটেকারের চাকরি করছেন তাঁর বাবা জাহাঙ্গীর মিয়া।

এর পর থেকে ওই বাড়িতে রেখেই খোকন মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। সেখানে থাকা অবস্থায় ধর্ষণের শিকার মেয়েটি এক সুযোগে জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোন থেকে মাকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে গত শনিবার মেয়ের মা সিলেটে এসে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মা ও মেয়েকে ধর্ষণ এবং কিশোরী মেয়েকে অপহরণ মামলার আসামি খোকন মিয়াকে ধরতে ওসমানীনগর থানার ওসি এস এম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রবিবার রাতে উপজেলার বড় ইউসুফপুর গ্রামে অভিযানে যায়। আসামিকে ধরে ফেরার পথে ১৫-২০ জনের সংঘবদ্ধ দল পুলিশের ওপর দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালায়। এ সময় খোকন মিয়া ছাড়াও পুলিশের চার সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। তাঁরা হলেন পুলিশের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম, ইয়াসীর আরাফাত, কনস্টেবল জীবন চন্দ্র দে ও মোহাম্মদ শিমুল। তাঁদের ওসমানীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ওসমানীনগরের ওসি এস এম আল মামুন বলেন, ‘আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধ্য হয়ে শটগানের ১১ রাউন্ড গুলি চালায়। এ ঘটনায় আসামি গুলিবিদ্ধ এবং পুলিশের চার সদস্য আহত হন।’ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আসামিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

ওসি জানান, এ ঘটনায় একটি পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আসামি খোকনের বাবা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা