kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাজশাহীতে ‘তুচ্ছ কারণে’ সাংবাদিক রফিকুলের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৫

নেপথ্য ভিন্ন কারণ নিয়ে সন্দেহ সাংবাদিক নেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজশাহীতে ‘তুচ্ছ কারণে’ সাংবাদিক রফিকুলের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৫

রাজশাহী মহানগরীতে একটি ভবনের সামনের ফুটপাতে ‘মোটরসাইকেল রাখায়’ কালের কণ্ঠ’র ব্যুরোপ্রধান রফিকুল ইসলামকে পিটিয়ে আহত করেছেন ভবনটির নিরাপত্তাকর্মীরা। গতকাল সোমবার সকালে রাজশাহীর নিউ মার্কেট এলাকায় ‘থিম ওমর প্লাজা’ নামের একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে হামলার ঘটনায় রফিকুল ইসলাম নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। এতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। হামলার পর পাঁচজনকে পুলিশ আটক করেছে। মামলার পর তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এই পাঁচজন হলেন থিম ওমর প্লাজার  নিরাপত্তাকর্মী আবদুল হাকিম (৪৫), নাহিদ হাসান (২০), সনি (২০), জামাল হোসেন ওরফে মুন্না (২৫) ও সাঈদ আলী (৩৪)। তাঁদের কাছ থেকে সাংবাদিক রফিকুলের একটি মুঠোফোন এবং মোটরসাইকেলের হেলমেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সকালে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম থিম ওমর প্লাজার ফটকের পশ্চিম পাশে ফুটপাতে নিজের মোটরসাইকেলটি রেখে রাস্তার বিপরীতে মাছ কিনতে যান। এ সময় ভবনটির নিরাপত্তাকর্মীরা রফিকুলের মোটরসাইকেলের হেলমেটটি নিয়ে চলে যান। এরপর তাঁরা সাংবাদিক রফিকুলকে সেখান থেকে মোটরসাইকেল সরিয়ে নিতে বলেন। সাংবাদিক রফিকুল হেলমেট ছিনিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে হেলমেটটি ফেরত চান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিরাপত্তাকর্মীরা হেলমেট ফেরত না দিয়ে সাংবাদিক রফিকুলের মোটরসাইকেলটি তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ জানালে ওই নিরাপত্তাকর্মীরা তখন লাঠি ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। আঘাত করা হয় মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা রফিকুলকে ভবনের নিচতলার গ্যারেজের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন আশপাশের লোকজন তাঁকে রক্ষায় এগিয়ে যায়। নিরাপত্তাকর্মীরা তখন তাদেরও পেটাতে শুরু করেন। এতে ভয়ে লোকজন পালিয়ে গেলে আবার রফিকুলকে পেটানো শুরু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এবং অন্য সাংবাদিকরা গিয়ে রফিকুলকে উদ্ধার করেন। রাজশাহীর সাংবাদিকরা ভবনের ফটকের সিঁড়িতে বসে তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ জানান।

পরে পুলিশ থিম ওমর প্লাজা থেকে ওই পাঁচ নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। আর সাংবাদিকরা আহত রফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুপুরে রফিকুল ইসলাম থানায় গিয়ে মামলা করেন।

সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিচয় দেওয়ার পর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিরাপত্তাকর্মীরা পেটাতে শুরু করেন। তিনি ঘটনার পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ পোষণ করেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি মোড়ে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে।

এক বিবৃতিতে আরইউজের সভাপতি কাজী শাহেদ, সহসভাপতি শরীফ সুমন, সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রকি, কোষাধ্যক্ষ সরকার দুলাল মাহবুব, কার্যনির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান টুকু ও সামাদ খান ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ওই ভবনের অন্যতম মালিক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। তাঁর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠেও একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে এর পেছনে শুধু ফুটপাতে মোটরসাইকেল রাখা, নাকি অন্য কিছু, তা খুঁজে বের করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহসভাপতি মামুন-অর-রশিদ, কার্যনির্বাহী সদস্য আনু মোস্তফা ও জাবীদ অপু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, দুর্গাপুর প্রেস ক্লাব, রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পৃথক বিবৃতি দিয়ে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

তবে ভবনটির অন্যতম মালিক রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ঘটনার পরে সাংবাদিক রফিকুলকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। আপনার ওপর অন্যায়ভাবে হামলা হয়েছে। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামীতে তারা কখনোই এখানে চাকরি করতে পারবে না। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আমি নিজে হাতে ব্যবস্থা নেব।’

জানতে চাইলে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, থিম ওমর প্লাজার ব্যবস্থাপক তাঁকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন যে হামলায় জড়িত পাঁচ নিরাপত্তাকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে হামলাকারীদের আগামীকাল (আজ) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। আর এ হামলার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাঁকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা