kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শিক্ষার সব স্তরে চালু হচ্ছে জিপিএ ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষার সব স্তরে চালু হচ্ছে জিপিএ ৪

শিক্ষার সব স্তরেই জিপিএ ৫-এর পরিবর্তে জিপিএ ৪ চালু হচ্ছে। চলতি বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা থেকেই জিপিএ ৪ চালু করার চিন্তা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমনকি প্রাথমিক শিক্ষায়ও যাতে জিপিএ ৪ চালু করা হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল রবিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানে গ্রেড পরিবর্তনসংক্রান্ত এক কর্মশালায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেড পরিবর্তন কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন নতুন গ্রেড পদ্ধতি উপস্থাপন করেন। এরপর সবার সম্মতিতে খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়। তবে এ নিয়ে আরো দু-একটি সভা হবে বলে নিশ্চিত করেন সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা।

গ্রেড পরিবর্তনসংক্রান্ত প্রস্তাবে উল্লেখ আছে, জেএসসি-জেডিসি, এসএসসি-সমমান, এইচএসসি-সমমান পরীক্ষায় নম্বরের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ জিপিএ ৪ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ৯০ থেকে ১০০ পর্যন্ত এ প্লাস, গ্রেড পয়েন্ট জিপিএ ৪; ৮০-৮৯ পর্যন্ত ‘এ’, গ্রেড পয়েন্ট ৩.৫; ৭০-৭৯ বি প্লাস, গ্রেড পয়েন্ট ৩; ৬০-৬৯ ‘বি’, গ্রেড পয়েন্ট ২.৫; ৫০-৫৯ ‘সি’ প্লাস, গ্রেড পয়েন্ট ২; ৪০-৪৯ ‘সি’, গ্রেড পয়েন্ট ১.৫; ৩৩-৩৯ ‘ডি’, গ্রেড পয়েন্ট ১; এবং শূন্য থেকে ৩২ ‘এফ’ গ্রেড বা ফেল নির্ধারণ করার প্রস্তাব রয়েছে।

সভা শেষে অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে নতুন জিপিএ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে বহির্বিশ্বের সঙ্গেও সমন্বয় থাকছে। তিনি আরো বলেন, সভায় নতুন গ্রেডসংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাব প্রকাশের পর এ নিয়ে উপস্থিত সবার মত চাওয়া হলে সবাই তাতে একমত প্রকাশ করেন। চলতি বছর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা থেকে জিপিএ ৪ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হতে পারে।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি বড় কর্মযজ্ঞ, তাই এটি চূড়ান্ত করার আগে আরো দু-একটি সভা করা প্রয়োজন। বিশ্বের সঙ্গে সমন্বয় রেখে গ্রেড পদ্ধতি পরিবর্তন করা হচ্ছে। কোনো পরিবর্তনের ফলে কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি নিয়ে মাথায় রাখতে হবে। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে একই গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, সে বিষয়টির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে গ্রেড পরিবর্তন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দেশে আমাদের গ্রেডিং পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় না থাকায় শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের সমস্যায় পড়ছে। নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে সে সমস্যার নিরসন হবে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসেন, মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. সৈয়দ গোলাম ফারুক, মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সফিউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা