kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল

খালেদা সুস্থ হয়ে গেছেন—এ বক্তব্য ষড়যন্ত্রের অংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালেদা সুস্থ হয়ে গেছেন—এ বক্তব্য ষড়যন্ত্রের অংশ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী কেন্দ্রীয়ভাবে ১১ সেপ্টেম্বর বুধবার ঢাকা মহানগরে এবং পরদিন বৃহস্পতিবার সারা দেশে মানববন্ধন করবে সংগঠনটি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রবিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘অঙ্গসংগঠনগুলো এ ধরনের মানববন্ধন ও সমাবেশের কর্মসূচি সুবিধাজনক সময়ে পালন করবে। আমরা অবিলম্বে আইনগতভাবে প্রাপ্য নেত্রীর জামিন দাবি করছি। অন্যথায় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের যেকোনো পরিণতির জন্য সম্পূর্ণভাবে এই অনির্বাচিত সরকারই দায়ী থাকবে।’

ফখরুল বলেন, এসব কর্মসূচির পাশাপাশি ২৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে, ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশ করব। সিলেটে ২১ তারিখ সমাবেশ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর হবে রংপুরে। গণতান্ত্রিক ন্যূনতম যে স্পেসটুকু পাচ্ছি সেগুলোকে আমরা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।

খালেদা জিয়ার জন্য প্যারোলের আবেদন করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘প্যারোল চাওয়ার অধিকার তো আমাদের নেই। এখন পর্যন্ত উনি (খালেদা জিয়া) চাননি। ভবিষ্যতে চাইবেন কি না আমরা বলতে পারব না।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রতিদিনই নেত্রীর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। আত্মীয়-স্বজন ও আমরা যখন গিয়েছি তাকে বিছানা থেকে উঠতেও দুজনকে সাহায্য করতে হয়। এখনো তিনি পা ভাঁজ করতে পারেন না, চেয়ারে বসলে পা সোজা করে রাখতে হয়। তাঁর দুই কাঁধ ও হাতগুলো প্রায় ফ্রোজেন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে যে ক্ষতিটা হবে তা আর কোনো চিকিত্সাতেই ফিরে আসবে না। অথচ বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর গতকাল (শনিবার) সাংবাদিকদের বলেছেন যে তিনি (খালেদা জিয়া) এখন সুস্থ হয়ে গেছেন। এটা ষড়যন্ত্রেরই একটা অংশ। তাঁকে চিকিত্সা না দিয়ে আবার কারাগারে পাঠানোর একটা ক্ষেত্র তৈরি করতে চাচ্ছে। অনেকেই এই মামলাগুলোতে জামিনে মুক্ত আছেন। নেত্রীকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না উদ্দেশ্যমূলকভাবে। একটাই উদ্দেশ্য—রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পুরোপুরিভাবে নিশ্চিহ্ন করা এবং তাঁকে চিকিত্সাবঞ্চিত করে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। অথচ জামিনে মুক্তি পেলে সুবিধামতো দেশে হোক বা বিদেশে তিনি চিকিত্সা নিতে পারতেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবেই নেত্রীর জামিন পাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু পদে পদে বাধা, রাজনৈতিক প্রভাব। এই সরকারের কোনো মানবিক দিক নেই।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স এখন ৭৫ বছর চলছে। এ অবস্থায় যেকোনো সময় ওনার ব্লাড সুগার ১৪। তারা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) বলছে এটা নাকি নরমাল। চিকিত্সক হিসেবে আমরা শপথ নিয়েছি অথচ আজকে আমরা সেই প্রফেশনাল দায়িত্ব পালন করতে পারছি না।

সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, রুহুল কবীর রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা