kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘লন্ডনি’ পোকার চাষ বিশ্বনাথের গ্রামে

মোহাম্মদ আলী শিপন, বিশ্বনাথ (সিলেট)   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘লন্ডনি’ পোকার চাষ বিশ্বনাথের গ্রামে

চাষ হচ্ছে পোকার। এই পোকাই হবে মুরগির খাবার। বাণিজ্যিকভাবে এমন এক উদ্যোগই নিয়েছেন বিশ্বনাথের প্রবাসফেরত যুবক খলিলুর রহমান। ছবি : কালের কণ্ঠ

লন্ডন থেকে পোকা এনে সিলেটের বিশ্বনাথে খামার করেছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী খলিলুর রহমান। তিনি উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের তেঘরী গ্রামের নিজ বাড়ির পাশে হাজী বায়োসাইকেল কম্পানি নামে প্যারেট পোকার (ব্ল্যাক শোল্ডার ফ্লাই) খামারটি করেন। এ ধরনের পোকার খামার বিশ্বনাথে এই প্রথম।

জানা যায়, খলিলুর রহমান বিশ্বনাথে একটি কোয়েল পাখি ও লেয়ার মুরগির খামার করার পরিকল্পা করেন। কিন্তু কোয়েল পাখি ও লেয়ার মুরগির খাবারের দাম বেশি হওয়ায় তিনি চিন্তা করেন কিভাবে কম দামে খাবার সংগ্রহ করা যায়। পরে তিনি একটি প্যারেট পোকার খামার করার সিদ্ধান্ত নেন। যাতে কম দামে খামারের কোয়েল পাখি ও লেয়ার মুরগির পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ সম্ভব হবে। তিনি যুক্তরাজ্যের একটি খামার থেকে ১৫০ গ্রাম (প্রায় দেড়শ পোকা) পোকা সংগ্রহ করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এরপর গত ২৬ জুন থেকে বাড়ির পাশে শুরু করেন পোকার চাষ।

গত শনিবার বিকেলে সরেজমিন খলিলুর রহমানের খামারটিতে গিয়ে দেখা যায়, একটি টিনশেড ঘরের ভেতরে পাঁচটি বড় মশারি দিয়ে সুন্দর করে তৈরি করা হয়েছে পাঁচটি খাঁচা। খাঁচার ভিতে রয়েছে পোকা। আর এই পোকার খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিত্যক্ত বিভিন্ন খাবার (ওয়েস্ট ফুড)।

খলিলুর রহমান জানান, পাখি ও মুরগির পুষ্টিকর খাবার ‘প্যারেট পোকা’। এই পোকায় রয়েছে ৪০ শতাংশ প্রোটিন ও ২০ শতাংশ ফ্যাট। একটি স্ত্রী পোকা ৫০০ থেকে ৬০০টি ডিম পাড়তে পারে। ডিম থেকে বাচ্চা (লার্ভা) জন্ম নেয়। এরপর ২১ দিনে পোকা পরিপূর্ণ হলে তা পাখি ও মুরগির খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৫ দিনে একটি পোকা ডিম দেওয়ার উপযুক্ত হয় এবং ডিম দেওয়ার পরই ওই পোকা মারা যায়। পোকার খাদ্য হিসেবে উচ্ছিষ্ট ও পচা খাবার ব্যবহৃত হয়। চাষের জন্য প্রতি কেজি ১২ হাজার টাকা এবং পাখি ও মুরগির খাবারের জন্য প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকা দরে পোকা বিক্রি করা সম্ভব হবে মনে করেন তিনি। এটি একটি লাভজনক খামার। খামারে তিন ধরনের (ভিটল, কিক্রেটস ও ব্ল্যাক শোল্ডার ফ্লাই) পোকা চাষ করা যায়।

খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে বায়োকনভারশন ইনোভেটিভ সেন্টার শুরু করার লক্ষ্যে ১৫০ গ্রাম (প্রায় ১৫০টি) পোকা দুই পাউন্ডে (২৫০ টাকা) কিনেছিলাম। বর্তমানে খামারে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার পোকা রয়েছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আরো বড় খামার করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা