kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তাজিয়া মিছিলে জঙ্গি হামলা

বিচার বিলম্বিত ভুল তদন্তে

আশরাফ-উল-আলম   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিচার বিলম্বিত ভুল তদন্তে

রাজধানীর হোসেনি দালানের সামনে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে গ্রেনেড হামলার চার বছর হতে যাচ্ছে। কিন্তু বহুল আলোচিত এ মামলার বিচার এখনো হয়নি। ভুল তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য সাক্ষ্যগ্রহণ থেমে রয়েছে প্রায় এক বছর।

১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গত বছর ২২ অক্টোবর আসামিপক্ষ থেকে এক দরখাস্ত দেওয়া হয়। দরখাস্তে বলা হয়, মামলার আসামি জাহিদ হাসান ওরফে রানা অপ্রাপ্তবয়স্ক। অন্য আসামিদের সঙ্গে তার বিচারকাজ বেআইনি। এর পক্ষে আসামির স্কুল সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য কাগজপত্র দাখিল করা হয়। ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই থেকেই মূলত এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় মোট দশজনকে আসামি করে ২০১৬ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে মামলার বিচারও শুরু হয়। প্রথমে ঢাকা মহানগর অষ্টম অতিরিক্ত দায়রা জজ ও পরে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে মামলাটি বিচারের জন্য স্থানান্তরিত হয়। এ সময় চার্জশিটভুক্ত দশ আসামিকেই প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু জাহিদ হাসান ওরফে রানার পক্ষে তার আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে দরখাস্ত দিয়ে জানান, সে অপ্রাপ্তবয়স্ক। দাখিলকৃত কাগজপত্র পরীক্ষা করে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান তদন্তের নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে গত ১১ মে সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন, যা ২৫ জুন ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেন। সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, আসামি জাহিদ হাসান রানা অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ কারণে গত ৩১ জুলাই এই আসামির বিচার শিশু আইন অনুযায়ী পৃথক আদালতে পাঠানো হয়।

সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, মামলার বিচার চলাকালে আসামিপক্ষ থেকে দরখাস্ত দেওয়ায় বিচার বিলম্বিত হয়েছে। গত প্রায় এক বছর ধরে বিচারকাজ বন্ধ ছিল। তবে এখন বিচারের বাধা কাটল। আগামীকাল (আজ) মামলার শুনানির তারিখ ধার্য আছে। সাক্ষী হাজির হলে সাক্ষ্য নেওয়া হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুখ আহম্মেদ বলেন, আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক। অথচ চার্জশিটে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখানো হয়। মামলার বিচার চলাকালে বিষয়টি চোখে পড়ে। এ কারণে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা হয়। সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদনেও বিষয়টি প্রমাণিত বলে উল্লেখ আছে। তাই একজনের বিচার শিশু আইন অনুযায়ী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে হবে। অন্যদের বিচার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে হবে। তদন্তে আসামি জাহিদ হাসান রানার বয়সের বিষয়টি ভুল ছিল বিধায় বিচারকাজে দেরি হচ্ছে।

২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর পবিত্র আশুরা উপলক্ষে হোসেনি দালানের সামনে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় গ্রেনেড হামলা হয়। এই ঘটনায় দুজন নিহত হয়। আহত হয় শতাধিক ব্যক্তি। গ্রেনেড বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে শোকের মিছিলে উপস্থিত লোকজন। মুহূর্তেই শোকের মিছিল বিষাদে পরিণত হয়।

এ ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন ওই থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিন। পরে তদন্ত করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক শফিউদ্দিন শেখ দশজনের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৮ অক্টোবর অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আসামিরা হচ্ছে জাহিদ হাসান ওরফে রানা ওরফে মোসায়েব, আরমান, রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব, কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক, মাসুদ রানা, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ, আবু সাঈদ সোলায়মান ওরফে সালমান, শাহ জালাল, ওমর ফারুক ওরফে মানিক ও চাঁন মিয়া। এই হামলার সঙ্গে আরো তিন জঙ্গি জড়িত ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। তারা হলো শাহাদাৎ ওরফে আলবানি ওরফে মাহফুজ ওরফে হোজ্জা, আবদুল বাকি আলাউদ্দিন ওরফে নোমান ও সাঈদ ওরফে হিরন ওরফে কামাল। এরা তিনজনই জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বিভিন্ন সময়ে মারা গেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়। তাজিয়া মিছিলে হামলার ঘটনায় জড়িত সবাই জেএমবির সদস্য।

আসামিদের মধ্যে জাহিদ হাসান ওরফে রানা, আরমান ও কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে অন্য জড়িতদের নাম প্রকাশ করে। তাদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, প্রথমে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে শিয়াদের ওপর হামলার পরিকল্পনা ছিল। পরে হোসেনি দালানে হামলার পরিকল্পনা করে এবং তারা কামরাঙ্গীর চরে বাসা ভাড়া নেয়। জঙ্গিরা পাঁচটি গ্রেনেড ছুড়ে মেরেছিল ঘটনাস্থলে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা