kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সবিশেষ

সন্তানের ব্যক্তিত্ব নির্ধারিত হয় গর্ভেই!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সন্তানের ব্যক্তিত্ব নির্ধারিত হয় গর্ভেই!

কোনো নারী যদি গর্ভবতী অবস্থায় অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকে, তার সন্তান ৩০ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই ‘পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার’ বা ব্যক্তিত্ববৈকল্যে আক্রান্ত হতে পারে। এ ঝুঁকি স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ গুণ বেশি হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এমনকি গর্ভবতী অবস্থায় মাঝারি মাত্রার মানসিক চাপ যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়, তাহলেও সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ফিনল্যান্ডে তিন হাজার ৬০০ গর্ভবতী নারী ও তাদের সন্তানদের ওপর এ গবেষণা চালানো হয়। ওই নারীরা যখন গর্ভবতী ছিল, তখন তাদের মানসিক চাপ নিরূপণ করা হয়। পরে তাদের সন্তান জন্ম নেওয়ার পর ওই সন্তানদের মানসিক বিকাশের ওপর নজর রাখা হয়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, গর্ভবতী নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। কিভাবে সন্তানকে বড় করা হয়, পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা কী, শিশু বয়সে সে কোনো সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়েছিল কি না, এগুলোও ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে ওই গবেষণায় জড়িত মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, গর্ভবতী মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাবও সন্তানের ব্যক্তিত্বে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

‘পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার’ এমন একটি মানসিক অবস্থা যাতে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের জীবন তো বটেই, অন্যের জীবনেও বড় ধরনের সংকট তৈরি করে। এরা অনর্থক ও অতিমাত্রায় উদ্বিগ্ন হতে পারে, আবেগের ওঠানামার পেছনে কোনো যুক্তি থাকে না, অতিমাত্রায় সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়ে। এমনকি অনেক সময় সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এ ধরনের মানুষ প্রায়ই মানসিক চাপে ভোগে। অনেক সময় এরা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। এ গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে মনোবিজ্ঞানবিষয়ক বিখ্যাত সাময়িকী ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি’তে।

গবেষণায় দেখা যায়, যেসব মা গর্ভবতী অবস্থায় দীর্ঘদিন বড় রকম মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিল, প্রধানত তাদের সন্তানরাই মানসিক সংকটে পড়েছে। যেসব মা গর্ভবতী অবস্থায় কম মানসিক চাপে ছিল, তাদের সন্তানদের চেয়ে চাপে থাকা মায়েদের সন্তানদের ব্যক্তিত্ববৈকল্য হয়েছে অনেক বেশি। প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।

ব্রিটেনের রয়াল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্টের অধ্যাপক ড. ট্রুডি সিনিভারত্নে বলছেন, গর্ভধারণ করলে অনেক নারী মানসিক চাপে পড়ে। তাদের জন্য সাহায্য খুবই জরুরি। যদি এই মানসিক চাপ ঠিকমতো নিরসন না করা হয়, তার পরিণতি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে, তাদের জন্য ও সন্তানদের জন্য।

ড. সিনিভারত্নে বলছেন, গর্ভবতী নারীদের অবশ্যই বাড়িতে ও কাজের জায়গায় সহায়তা করতে হবে। চাপ তৈরি হলে কিভাবে সে তা সামলাতে পারে, সে ব্যাপারে তাকে পরামর্শ দিতে হবে। তাদের জানতে হবে কিভাবে বিশ্রাম নিতে হয়, মানসিক চাপে পড়লে অন্যের কাছ থেকে কিভাবে সাহায্য চাইতে হয়। গর্ভবতীদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ধূমপান ত্যাগ ও যথেষ্ট ঘুমানো উচিত। সূত্র : বিবিসি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা