kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা

দেড় শ নেতাকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেড় শ নেতাকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো শুরু আজ

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় নৌকার বিরোধিতাকারী আওয়ামী লীগের দেড় শ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দলটি। আজ রবিবার থেকে  এসব নেতাকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো শুরু হচ্ছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির কার্যালয়ে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী ছিল, তাদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত আগেই ছিল। সেটা বাস্তবায়নের প্রসেস কিভাবে দ্রুত করা যায়, আজ তা-ই আলোচনা করেছি। আগামীকাল থেকে ১৫০টির মতো শোকজ নোটিশ ইস্যু হবে। শোকজের জবাবের জন্য তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে।’

নৌকার বিরোধিতাকারী প্রভাবশালী নেতাদের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এমপি-মন্ত্রীরা যাঁরা মদদ দিয়েছেন তাঁরাও নোটিশ পাবেন। মদদদাতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাও থাকতে পারেন। যাঁদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ও মদদ দেওয়ার অভিযোগ আছে, তাঁরা সবাই শোকজ পাবেন।’ কারা এই নোটিশ পাচ্ছেন জানতে চাইলে তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

অভিযুক্ত অনেক নেতা গণমাধ্যমকে বলছেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নিজেই বলেছিলেন, বিএনপি না এলে নির্বাচন উত্সবমুখর করার জন্য প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকবে। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা মাঠে নেমেছি, কিন্তু এখন আবার কেন শাস্তি দেবে?’ তৃণমূলের নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কথা বলেছেন, কোনো রেকর্ড আছে? হাওয়া থেকে বললে তো হবে না।’ একজন সাংবাদিক তখন ওবায়দুল কাদেরকে মনে করিয়ে দেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে তিনি এমনটি বলেছিলেন। তখন ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা অনেক আগের কথা।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নিজেদের দ্বন্দ্বে জাতীয় পার্টি দুর্বল হয়ে গেলে এখানে তো আমাদের কিছু করার থাকে না। জাতীয় পার্টি তো আওয়ামী লীগের কোনো শাখা সংগঠন নয় যে এটা আওয়ামী লীগকে দেখতে হবে। এটা তাদের বিষয়, তারাই দেখবে। এখানে প্রধানমন্ত্রীর কোনো দায়িত্ব নেই।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর আমাদের তো দরকার নেই। জাতীয় পার্টিতে কী হয়েছে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এখন জাতীয় পার্টি বিরোধী দল। সত্যিকার অর্থে তারা বিরোধী দল হিসেবে শক্তিশালী থাকুক, এটা আমরাও চাই। আমরা চাই জাতীয় পার্টির যে ব্যাপারগুলো, এটা তারা নিজেরাই মীমাংসা করুক।’

ফরিদপুর মেডিক্যালের পর্দা কেনাসহ নানা দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির নেতারা বলছেন, সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাট এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এমন বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ ধরনের ছিঁচকে কাজগুলো যারা করে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা কিন্তু কোনো এমপি কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী নয়।’

বিএনপির আমলে নানা আলোচিত দুর্নীতির কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখানে তো হাওয়া ভবনের মতো লুটপাটের বিষয় নেই। লুটপাটের কোনো ভবন এই সরকারের আমলে নেই। বালিশ আর পর্দার সঙ্গে তো হাওয়া ভবনের লুটপাটের বিষয় মেলালে চলবে না।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা