kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ

বড় প্রকল্পের জন্যই দেড় লাখ কোটি টাকা

সজীব হোম রায়   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বড় প্রকল্পের জন্যই দেড় লাখ কোটি টাকা

বিদেশি ঋণে নয়, পদ্মা সেতুর মতো বড় বড় প্রকল্প নিজের অর্থেই বাস্তবায়ন করা হবে। আর সে জন্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যবহার করা হবে। বর্তমানে বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দুই লাখ ১২ হাজার কোটিরও বেশি উদ্বৃত্ত বা অলস টাকা রয়েছে। এর মধ্য থেকে সরকার ২৫ শতাংশ অর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে রেখে দেবে। বাকি ৭৫ শতাংশ অর্থ সরকারি কোষাগারে নিয়ে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হবে। এতে সরকারের কোনো ধরনের সুদ ব্যয় হবে না। কারণ এই অর্থের জন্য সরকারকে ব্যাংক বা সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে না। আবার বিদেশি সংস্থাগুলোর কাছেও ধরনা দিতে হবে না। বড় প্রকল্পের পাশাপাশি এ অর্থ সরকারের দেনা পারিশোধে ব্যবহার করা হবে। এমনকি রাষ্ট্রীয় দৈনন্দিন ব্যয়েও ব্যবহার হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার এসংক্রান্ত আইন সংসদে পাস না হওয়ায় এবং কাজ চলমান থাকায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, বিপুল এ অর্থ উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হলে উন্নয়নও হবে, আবার সরকারের সুদ ব্যয়ও বাড়বে না। তাই স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ এ খাতে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, সরকার যখন কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে তখন দুই ধরনের উৎস থেকে ঋণ নেওয়া হয়। প্রথমত, অভ্যন্তরীণ। দ্বিতীয়ত, বৈদেশিক। অভ্যন্তরীণ উৎসর মধ্যে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া হয়। ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নিলে সরকারকে ৭ শতাংশ সুদ গুনতে হয়। সঞ্চয়পত্র থেকে নিলে গুনতে হয় ৯ থেকে ১১ শতাংশ সুদ। আর বৈদেশিক উৎস অর্থাৎ বিশ্বব্যাংকের মতো বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হয়। বিদেশি ঋণে সুদের হার কম থাকলেও এতে থাকে নানা শর্তের বেড়াজাল। ফলে এর ব্যয় বেড়ে যায় অনেক। দুই উৎস থেকে ঋণ নেওয়া হলেই সুদ ব্যয়ের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবহার করলে সরকারকে এক পয়সা সুদও দিতে হবে না। অর্থাৎ বিনা খরচে বিপুল অর্থ ব্যবহার করতে পারবে সরকার। এ কারণেই বড় বড় প্রকল্পে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে যে অর্থ জমা আছে তার ৭৫ শতাংশ সরকার ব্যবহার করবে। বাকি ২৫ শতাংশ অর্থ প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করা হবে। এই ৭৫ শতাংশ অর্থের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকারও বেশি। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ব্যয়ের পরিমাণ (সংশোধনের পর) ৩০ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো পাঁচটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আর বিদেশি খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। স্বাভাবিকভাবেই ঘাটতি মেটাতে বিশাল এ ঋণের সুদ ব্যয়ও হবে অনেক। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকার সুদ ব্যয়েও খরচ করবে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে দৈনন্দিন কাজেও এ অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তবে এই অর্থ ব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। আর তা হচ্ছে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের দুই লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত রয়েছে। এ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিয়ে আসা হলে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তারল্য সংকটের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্যাংকের ডিপোজিট ভাঙা হবে না। ফলে তারল্য সংকট হবে না।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বড় প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের এটি প্রচলিত খাত নয়। বড় প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা আছে। সরকার এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একটা ব্যাপার স্পষ্ট করে দিল যে সরকারের আর্থিক সংকট রয়েছে। এ ছাড়া এ খাতে হাত দেওয়ার কথা নয়।

তিনি আরো বলেন, এ টাকা সরকারি কোষাগারে নিয়ে যাওয়ার ফলে সংস্থাগুলোর সমস্যা হবে। কারণ এটি হয়তো তাদের ভবিষ্যতের জন্য রাখা ছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা