kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আইসিসিবিতে পোশাকশিল্প প্রদর্শনী

ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে শেষ হচ্ছে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে শেষ হচ্ছে আজ

আইসিসিবিতে পোশাকশিল্প প্রদর্শনীতে গতকাল এক স্টলে পণ্য বাছাইয়ে ব্যস্ত ক্রেতারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দর্শনার্থীদের পদচারণে জমজমাট বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, সুতা ও রাসায়নিক সামগ্রীর চার দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ২০তম টেক্সটেক বাংলাদেশ-২০১৯। গতকাল শুক্রবার ছিল মেলার তৃতীয় দিন। ছুটির দিন হওয়ায় বিকেলের পর দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস গ্লোবালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করে। এসব দর্শনার্থীর বেশির ভাগ বস্ত্র ও পোশাক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। এর আগের দুই দিনও ২০ হাজার দর্শনার্থী মেলায় আসে।

গত বুধবার শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীর আজ শেষ দিন। আজও সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে প্রদর্শনী। এতে কোনো প্রবেশমূল্য নেই। 

এবার টেক্সটেক প্রদর্শনীর সঙ্গেই হচ্ছে ‘১৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শো-২০১৯’ ও ‘৩৮তম ডাই-ক্যাম বাংলাদেশ এক্সপো-২০১৯’। এ দুটি মেলার আয়োজকও সেমস গ্লোবাল। মেলায় সব মিলে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, জাপান, তুরস্ক, ইতালি, শ্রীলঙ্কাসহ ২৫টি দেশের প্রায় এক হাজার ২৫০টি প্রতিষ্ঠান এক হাজার ৫০০টি স্টলের মাধ্যমে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে।

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) মূল হলগুলোতে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় বিস্তৃত মাঠের খোলা জায়গায় তাঁবু টানিয়ে স্টল দেওয়া হয়েছে। তাঁবুসহ মোট ১১টি হলে এ মেলা চলছে। কোন হলে কোন কম্পানির বুথ, দর্শনার্থীদের নাম নিবন্ধনের সময় সেটি ম্যাপসংবলিত তালিকা সরবরাহ করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

গতকাল বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, নানা রঙের কাপড়, সুতা, বস্ত্র ও পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট পণ্যে ভরা হলগুলো। কাপড় উৎপাদক মেশিনারিজ, নিত্যনতুন টেকনোলজি ও রাসায়নিক দ্রব্যের বিশাল সমাহার।

কথা হয় মেলায় অংশগ্রহণকারী চীনা প্রতিষ্ঠান গুয়াংডং খানহুয়াতাই টেক্সটাইলের বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসানের সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। পুরনো ক্রেতাদের পাশাপাশি নতুন ক্রেতারাও যোগাযোগ করছে। আমাদের কম্পানির চিকন সুতার বাংলাদেশের বাজারে বেশ চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া ডেনিম ফেব্রিক্সের জন্যও ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।’

অর্ডার পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেলায় তেমন অর্ডার পাওয়া যায় না। বেশির ভাগ ক্রেতা পণ্য সম্পর্কে ধারণা নেন, পরিচিত হন।’

মেশিনারিজের জন্য প্রদর্শিত হলে বয়লার প্রদর্শন করছে বাংলাদেশের আলিপ বয়লার নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই কম্পানির মার্কেটিং অফিসার আকরাম হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিন টন পর্যন্ত বয়লার আলিপ কম্পানি সরবরাহ করে। এর ওপরে হলে বিদেশ থেকে আমদানি করে আমরা সরবরাহ করি।’ 

মেলায় এসেছেন লজিস্টিকস ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত টিজি লজিস্টিকসের পরিচালক ও অপারেশন বিভাগের প্রধান মহসিন খান। তিনি বলেন, ‘বস্ত্র ও পোশাক খাতের মেশিনারিজসহ বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়ার পরিবহন সহায়তা দিয়ে থাকে আমাদের প্রতিষ্ঠান। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই আমাদের কাস্টমার। মেলায় এসেছি পুরনো ক্রেতা-বিক্রেতার পাশাপাশি নতুন ক্রেতা-বিক্রেতার খোঁজখবর নিতে।’

জার্মান-বাংলাদেশ জয়েন্ট ভেঞ্চার কম্পানি স্যাগ ফ্যাশনের সহকারী ম্যানেজার (মার্চেন্ডাইজিং) প্রকৌশলী শাহমিজ বকুল মেলায় বস্ত্র ও  পোশাকশিল্পের মেশিনের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখছিলেন। মেলায় আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কয়েক মাস পর পর এ মেলা হয়। এখানে চীন, হংকংসহ বিভিন্ন দেশের সরবরাহকারীরা তাদের দেশের বিভিন্ন পণ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আসেন। আমরা এসব পণ্যের সঙ্গে পরিচিত হই। এ ছাড়া নতুন মেশিনের সঙ্গে আর কোনো প্রযুক্তি সংযুক্ত হয়েছে কি না সেটিও জানার চেষ্টা করেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা