kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আসামির স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলা পিবিআইয়ে

‘এসআই খাইরুলকে ভালোভাবে চিনি আমি’

যশোর অফিস ও বেনাপোল প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘এসআই খাইরুলকে ভালোভাবে চিনি আমি’

যশোরে আসামির স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ভয়ভীতির কারণে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে এসআই খাইরুলের নাম প্রকাশ করতে পারেননি বলে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেছেন ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ। তিনি গতকাল শুক্রবার এসআই খাইরুল আলমসহ সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এদিকে শুক্রবার নির্যাতিত গৃহবধূর বাড়ি পরিদর্শন করেছেন বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল। তাঁরা ধর্ষণের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে গতকাল শুক্রবার মামলাটি পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) হস্তান্তর করা হয়েছে।

যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামে পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারী নারী গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁর বাড়িতে বসে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এসআই খাইরুলকে আমি ভালোভাবেই চিনি। কয়েকদফা তিনি আমার বাড়িতে এসে টাকা নিয়ে গেছেন। তিনিও ধর্ষণ করেছেন।’ তিনি জানান, এসআই খাইরুলকে তাঁর সামনাসামনি করার পর তাঁর চোখ রাঙানির কারণে তিনি ধর্ষক হিসেবে খাইরুলের নাম বলেননি।

তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ যখন খায়রুলকে আমার সামনে নিয়ে আসছিল এবং জিজ্ঞেস করছিল—ইনি ছিলেন কি না। তখন আমি বিবেচনা করে দেখলাম, সে তো পুলিশের লোক। যখন সে বারেবারে আমার স্বামীরে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, তার সঙ্গে আমি পারব না। তা ছাড়া খায়রুল আমার দিকে এমনভাবে তাকাইছে, তার চোখের ভাষায় আমি বুঝতি পারছি।’  তিনি দাবি করেছেন, ডিএনএ টেস্ট করলেই বোঝা যাবে ধর্ষণে এসআই খাইরুল জড়িত ছিলেন কি না। তিনি বলেন, ‘এসআই খাইরুলের

সঙ্গে যারা ছিল তারা এলাকার ভয়ঙ্কর লোক। তারা ছাড়া পেলে আমাদের আরো ক্ষতি করার চেষ্টা করবে।’ তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

এর আগে পুলিশ দাবি করেছিল, এসআই খাইরুল আলমকে নির্যাতিতের সামনে উপস্থিত করলে তিনি তাঁকে চিনতে পারেননি। যে কারণে এসআই খাইরুল আলমকে বাদ দিয়ে মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমান বলেন, ‘ওই গৃহবধূ সেদিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনেই এসআই খায়রুল সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাঁকে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়নি।’

এদিকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা নির্যাতিত ওই নারীর বাড়িতে যান। এ সময় তাঁরা ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেন ও তাঁর খোঁজখবর নেন এবং আইনগত সহায়তার আশ্বাস দেন।

পরে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্যসচিব নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। সারা দেশে শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউ নিরাপদ নয়। ধর্ষণকাজে পুলিশও বাদ যাচ্ছে না।’ তিনি যশোরের এ ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত এবং ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেন। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ সংগঠনের যশোর জেলা নারী ও শিশু ফোরামের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার গৃহবধূ ধর্ষণ মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিন বিকেলে যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, বৃহস্পতিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশ পাওয়ার পর আজ (শুক্রবার) মামলাটির নথিপত্র পিবিআইকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে পিবিআই যশোরের পুলিশ পরিদর্শক শেখ মোনায়েম হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আছি। ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত সে বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা