kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

৫০ বাঁক কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ ও সময়

আবদুল হাকিম রানা, পটিয়া (চট্টগ্রাম)   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৫০ বাঁক কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ ও সময়

এমনই বিপজ্জনক বাঁক, সামনে গাড়ি আছে কি না দেখা যায় না। ছবিটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পটিয়া উপজেলার গৈরালারটেক থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ৬৬ কিলোমিটারজুড়ে রয়েছে ৫০টি বিপজ্জনক বাঁক। এই বাঁকগুলো রীতিমতো মরণফাঁদ। শাহ আমানত তৃতীয় সেতু থেকে শুরু করে পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি পর্যন্ত এসব বাঁক রয়েছে। এ ছাড়া এ মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা, বিশেষ করে অসংখ্য হাট-বাজার থাকার কারণেও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা এবং যানজট লেগে থাকে। ফলে দূরপাল্লার যানবাহনগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে। অথচ এ মহাসড়কই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই পর্যটন জেলা কক্সবাজার ও বান্দরবান যাওয়ার পথ।

সব মিলিয়ে মৃত্যুর সড়কে পরিণত হয়েছে এই মহাসড়ক, দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। গত ১৫ দিনে পটিয়ার আমজুরহাট মোড়ের বাঁক এবং পটিয়া বাইপাস সড়ক, বাসস্টেশন, চন্দনাইশ উপজেলা এবং লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পটিয়া বাইপাস সড়ক চালু হওয়ায় পটিয়া সদরের ছয়টি স্পটের যানজট কমে এলেও বাঁকগুলো এখনো সোজা করার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনার ঝুঁকি মাথায় নিয়েই যানবাহনগুলো চলাচল করছে।

দেখা গেছে, এই মহাসড়কের শাহ আমানত তৃতীয় সেতুর পর মইজ্যারটেক, পটিয়া ক্রসিং, পটিয়ার ভেল্লাপাড়া, শান্তিরহাট,

কলেজ বাজার, বাদামতল, মনসা, মনসা চৌমুহনী, পাইরোল আকবর শাহ মাজারের বাঁক, শাহগদি মার্কেট, গৈড়লার টেক, মুন্সেফ বাজার, থানার মোড়, ডাকবাংলোর মোড়, বাসস্ট্যান্ড, পোস্ট অফিস মোড়, চন্দনাইশের রৌশন হাট, বাগিচারহাট, কেরানীহাট, দোহাজারী বাজার, সাতকানিয়ার কেরানীহাট ও লোহাগাড়ার বটতলী এলাকায় রয়েছে প্রায় ৫০টি বাঁক।

এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের কারণে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে কক্সবাজারের পথে চকরিয়া থেকে দোহাজারী সেতু পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ৫০ মিনিট। বাঁক একটু কম থাকার কারণে এই অংশে গাড়ির গতি একটু বেশি থাকে। কিন্তু দোহাজারী সাঙ্গু সেতু থেকে চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত বাকি ৫০ কিলোমিটার সড়কে সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। এর একমাত্র কারণ সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক।

যাত্রীদের অভিযোগ, বাঁক ছাড়াও স্পিডব্রেকার, নিষিদ্ধ তিন চাকার গাড়ি চলাচল এবং দ্রুতিগতিতে গাড়ি চালানোর কারণে এ সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। বাঁক, ধীরগতির তিন চাকার যান এবং সড়কের পাশে দোকানপাটের কারণে চালকরা সুযোগ পেলেই হঠাৎ করে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিতে চায় বলে যাত্রীরা মনে করে।

হাইওয়ে পুলিশ ও গাড়িচালকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া মইজ্যারটেক, পটিয়া, আনোয়ারা ক্রসিং, মনসার টেক, বাদামতল, গৈড়লার টেক, আমজুরহাট, পটিয়া পোস্ট অফিস, আদালত গেট মোড়, থানার মোড়, ডাকবাংলোর মোড়, বাসস্টেশন, কমল মুন্সীর হাটসহ ২০টি পয়েন্টে ও চন্দনাইশ থেকে লোহাগাড়ার চুনতি পর্যন্ত প্রায় ৩০টির অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। শাহ আমানত তৃতীয় সেতুর দক্ষিণ পাশ থেকে লোহাগাড়া উপজেলা সদর পর্যন্ত ৬৬ কিলোমিটার দূরত্বে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ছাড়াও অবৈধভাবে গড়ে ওঠা গাড়ির স্ট্যান্ড, গ্যারেজ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তার পাশ ঘেঁষে নিয়মিত হাট-বাজার বসে। তা ছাড়া যত্রতত্র অপরিকল্পিত স্পিডব্রেকার গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, অবৈধ হাট-বাজার ছাড়াও রাস্তার দুই পাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মহেন্দ্র, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহন রাখার কারণেও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

এসব কারণে চট্টগ্রাম থেকে লোহাগাড়া পর্যন্ত ৬৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে দেড় ঘণ্টার স্থলে তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। পটিয়ার বাসযাত্রী মুনছুর আহমদ জানান, এ সড়কের বাঁক সোজাকরণ প্রকল্প ২০০৮ সালে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এ প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। তবে পটিয়া বাইপাস চালু হওয়ায় শহর এলাকায় যানজট কমে এসেছে। তিনি কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু থেকে যেভাবে চার লেনের সড়ক হয়েছে সেভাবে যদি পটিয়া ক্রসিং থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামজুড়ে সড়ক সম্প্রসারণ করা হয়, তাহলে শুধু পটিয়া নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের সড়ক নেটওয়ার্কিংয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। 

পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, মহাসড়কের ৬৬ কিলোমিটারজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, রাস্তার পাশে অবৈধ স্থাপনা, হাট-বাজার, অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে মূলত দুর্ঘটনা ও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ সড়কে বাঁক সোজাকরণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার বিকল্প নেই।

দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকোশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ সড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্প উচ্চপর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন। এটি বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে সম্প্রসারণ করা হলে এ সড়কে আর যানজট থাকবে না। দ্রুততম সময়ে মানুষ গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা