kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সপরিবারে জেলায় নেই অর্ধেকের বেশি

উভয়সংকটে ডিসিরা

বাহরাম খান   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উভয়সংকটে ডিসিরা

একদিকে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন, অন্যদিকে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের চাকরি—কোনটি রক্ষা করবেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। সরকারপ্রধানের অনুশাসন অনুযায়ী প্রত্যেক ডিসিকে সপরিবারে সংশ্লিষ্ট জেলায় থাকতে হবে। কিন্তু বেশির ভাগ ডিসি এই নিয়ম মানতে পারছেন না। এ নিয়ে উভয়সংকটে পড়েছেন তাঁরা। গত সপ্তাহে ২১টি জেলায় খবর নিয়ে জানা গেছে, ১২ জেলায় সপরিবারে থাকছেন না ডিসিরা।

সম্প্রতি জামালপুরের সাবেক ডিসির কেলেঙ্কারি প্রকাশ পাওয়ার পর ডিসিদের অফিস সময় ও সপরিবারে জেলায় থাকার জন্য বিভাগীয় কমিশনারদের কঠোর নির্দেশ দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কারা সপরিবারে থাকেন না তার তথ্য জানাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনের স্বামী পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি। কক্সবাজারের ডিসি কামাল হোসেন, টাঙ্গাইলের ডিসি শহীদুল ইসলাম ও শেরপুরের ডিসি আনার কলি মাহবুব। এই তিনজনের প্রথম দুজনের স্ত্রী ও পরের জনের স্বামী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ঢাকায় কর্মরত। তাঁদের কারোরই জেলা পর্যায়ে পদায়নের সুযোগ নেই। ফলে ইচ্ছা করলেই সপরিবারে জেলায় থাকতে পারছেন না তাঁরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিসি হায়াত-উদ-দৌলা খানের স্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত।

এই ডিসিদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিবার নিয়ে থাকতে কার না ভালো লাগে। কিন্তু আমরা তো উভয়সংকটে পড়ে গেছি।’

আবার অনেক ডিসির স্ত্রী চাকরি না করলেও সন্তানরা ঢাকার নামি স্কুল-কলেজে পড়ালেখা করে। জেলা পর্যায়ে সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। সেই সঙ্গে ডিসি থেকে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হলে ঢাকায় এসে বাসা বরাদ্দ পেতে বেগ পেতে হয়।

২০১৬ সালের ৬ মার্চ মন্ত্রিপরিষদের এক পরিপত্রে বলা হয়েছিল, ডিসির স্বামী বা স্ত্রী সরকারি কর্মচারী হলে তাঁদের ও তাঁদের সন্তানদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে (লিয়েন সুবিধাসহ) সংশ্লিষ্ট জেলায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে ডিসিদের মধ্যে যাঁরা দায়িত্ব শেষে ঢাকায় ফিরবেন, তাঁদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাসা বরাদ্দের ব্যবস্থা করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

সম্প্রতি বিভাগীয় কমিশনারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক বৈঠক এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয়সভাতেও ডিসিদের পরিবার নিয়ে থাকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের ডিসি এস এম ফেরদৌস, খুলনার ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, ভোলার ডিসি মাসুদ আলম সিদ্দিকের স্ত্রী ঢাকায় কলেজে শিক্ষকতা করছেন। নওগাঁর ডিসি হারুন-অর-রশিদের স্ত্রী জেলা পর্যায়ের একটি কলেজের শিক্ষক। তাঁকে নওগাঁয় বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

এর বাইরে সম্প্রতি জামালপুর, চুয়াডাঙ্গা ও খাগড়াছড়িতে নতুন ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা এখনো পরিবার নিয়ে যেতে পারেননি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পর মাঠ প্রশাসন তদারকির দায়িত্বে আছেন বিভাগীয় কমিশনাররা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে একজন বিভাগীয় কমিশনার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেসব ডিসির স্ত্রী বা স্বামী ভিন্ন চাকরি করেন, তাঁদের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অবহিত আছে। তাই এ নিয়ে আমরা ঠিক কী করব বুঝতে পারছি না।

কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে কয়েকজন ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেউই নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঢাকার কাছাকাছি একটি জেলার ডিসির মতে, ডিসিদের মেয়াদ তিন মাস বা তিন বছরও হতে পারে। এ কারণে স্ত্রীসহ বদলি হয়ে আসা খুব কঠিন।

আরেকজন ডিসির অভিমত, স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চাকরি করেন বর্তমানে এমন সংখ্যা অনেক। তাই আগের বাস্তবতায় জারি করা পরিপত্র নতুন বাস্তবতায় জারির চিন্তা করা উচিত। অন্যদিকে কোনো ডিসির স্ত্রী বা স্বামী চাকরি না করলেও পরিবার নিয়ে থাকা কঠিন। কারণ তাঁদের সন্তানরা ঢাকায় পড়ালেখা করে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিপত্রে যা আছে, তা-ই অনুসরণ করতে হবে। আমার আলাদা কোনো মন্তব্য নেই।’

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা