kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বকেয়া আদায় করতে না পেরে বিটিআরসির নোটিশ

জিপি-রবির লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জিপি-রবির লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না

বকেয়া পাওনা না আদায় করতে না পেরে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি)। টাকা না দেওয়ায় লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুই অপারেটরকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। তবে এই নোটিশ দেওয়ার পর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রামীণফোন বিষয়টিকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়েছে।

নোটিশ পাঠানোর আগে দুই দফা চাপ দিয়েও নিরীক্ষা আপত্তির বকেয়া আদায় করতে পারেনি বিটিআরসি। এবার গ্রামীণফোন ও রবির বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত’ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তারা।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ এর ৪৬(২) ধারা মোতাবেক মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়েছে নোটিশে।’ তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না দিলে বা পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে পরবর্তী পদক্ষেপ বিষয়ে এই দুই অপারেটরে প্রশাসক নিয়োগের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিটিআরসির পাঠানো নোটিশকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে গ্রামীণফোন বলছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই ‘অন্যায্য’ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা তারা নেবে। বিবৃতিতে গ্রামীণফোন বলেছে, ‘বিটিআরসির নোটিশটি অযৌক্তিক। সেই সঙ্গে একটি বিতর্কিত অডিট দাবির বিষয়ে আমাদের গঠনমূলক সমাধান প্রস্তাবের বিপরীতে তাদের অনীহার আরেকটি বহিঃপ্রকাশ। নোটিশটি পর্যালোচনা করার পর গ্রামীণফোন এ বিষয়ে উত্তর দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের প্রতিষ্ঠান, শেয়ারহোল্ডার ও সম্মানিত গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যায্য যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

বিটিআরসির দাবি, গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আর রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে তাদের। বিটিআরসির দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করার প্রস্তাব দিয়েছিল রবি ও জিপি। তবে তাতে সাড়া না দিয়ে বিটিআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়, আইনে এ ধরনের ক্ষেত্রে সালিশের কোনো সুযোগ নেই।

প্রথম ধাপে ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দিয়ে এবং দ্বিতীয় ধাপে বিভিন্ন ধরনের সেবার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র দেওয়া বন্ধ রেখেও কাজ না হওয়ায় সরকার এমন পদক্ষেপে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে বিটিআরসি কর্মকর্তারা জানান। তাগাদা দেওয়ার পরও ওই টাকা পরিশোধ না করার যুক্তি দেখিয়ে গত ৪ জুলাই গ্রামীণফোনের ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি ৩০ শতাংশ এবং রবির ১৫ শতাংশ সীমিত করতে আইআইজিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল বিটিআরসি। গ্রাহকের সমস্যা হওয়ায় ১৩ দিনের মাথায় ওই নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপর ২২ জুলাই গ্রামীণফোন ও রবিকে বিভিন্ন প্রকার সেবার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

জানা যায়, বিটিআরসি ‘এনওসি’ দেওয়া বন্ধ রাখায় গ্রামীণফোন ও রবি বর্তমান সেবা চালিয়ে নিতে কোনো সমস্যায় পড়ছে না। তবে তারা নেটওয়ার্ক সমপ্রসারণ বা বিটিএস স্থাপন করতে পারছে না, যন্ত্রাংশ আমদানির অনুমতি পাচ্ছে না, নতুন কোনো প্যাকেজ বাজারে ছাড়তে পারছে না, চলতি প্যাকেজে কোনো পরিবর্তনও আনতে পারছে না।

দেশে গ্রাহকের হাতে থাকা ১৬ কোটি ৮২ হাজার নিবন্ধিত মোবাইল সিমের মধ্যে ৭ কোটি ৪৭ লাখ সিম গ্রামীণফোনের। আর রবির ৪ কোটি ৭৬ লাখ সিম রয়েছে গ্রাহকের হাতে। এই হিসাবে মোট গ্রাহকের ৪৬.৪৯ শতাংশ গ্রামীণফোন এবং ২৯.৬৫ শতাংশ রবির সেবা নিয়ে থাকে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা