kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সড়কে শৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে টাস্কফোর্স

লক্ষ্য ১১১ সুপারিশ বাস্তবায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে টাস্কফোর্স

সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার লক্ষ্যে গঠিত কমিটির ১১১ সুপারিশ অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদ। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স। গতকাল বৃহস্পতিবার পরিষদের বৈঠকে ওই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। শিগগির ওই টাস্কফোর্স কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গতকাল সকালে রাজধানীর বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিষদের বৈঠক হয়। বৈঠকের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব টাস্কফোর্সকে সাচিবিক সহায়তা দেবেন এবং সমন্বয় করবেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করতে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। শিগগিরই অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা জোরদার করা এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছিল। সম্প্রতি কমিটি ১১১ দফা সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর কাছে। গতকাল পরিষদের বৈঠকে তা অনুমোদন করা হয়।

ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে ১১১টি সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। কয়েকটি অনুচ্ছেদে সংশোধনী এনে সুপারিশগুলো চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। টাস্কফোর্স দুই মাস পর পর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে।

ওবায়দুল কাদের জানান, জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে কিছু সুপারিশ। এ ছাড়া ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এবং চলমান প্রক্রিয়ায় সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

জানা যায়, সুপারিশমালার মধ্যে আছে ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ও তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম (সিএসডি) দ্রুত ঢাকার বাইরে স্থানান্তর, সরকারি খরচে বিআরটিএকে গাড়ি চালনার প্রশিক্ষক তৈরির কার্যক্রম গ্রহণ, ২০২০ সালের মধ্যে এক হাজার প্রশিক্ষক তৈরি, পেশাদার চালকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, যুব উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ড্রাইভিং ট্রেড চালু, মোটরসাইকেল আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা, সব ড্রাইভিং স্কুলকে নিবন্ধনের আওতায় আনা, লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে দুই দিনের নবায়ন প্রশিক্ষণ, সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসার ওপর প্রশিক্ষণ, অবৈধ চালকদের শনাক্ত করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হালকা শ্রেণির লাইসেন্স প্রদান, নারী চালকদের এ পেশায় আলাদা সুযোগ দেওয়া, শিক্ষিত বেকারদেরও এ পেশায় উৎসাহিত করা।

জানা যায়, সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে ফুটপাত দখলমুক্ত করে রেলিং তৈরি, ফুটপাতহীন স্থানে ফুটপাত নির্মাণ ও রাস্তা থেকে ফুটপাত আট ইঞ্চি উঁচু রাখা, স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে উঁচু জেব্রাক্রসিং নির্মাণ, সড়ক বিভাজনকে পথচারী প্রতিবন্ধক, রাস্তায় ম্যানহোল ও ডাস্টবিন না রাখা, যেসব স্থানে সাইকেল বেশি সেসব রাস্তায় সাইকেল লেন করার সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে। সব সড়কে প্রয়োজনীয় সাইন, মার্কিং ও সড়ক বাতির ব্যবস্থা করা হবে। দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকে প্রতি পাঁচ ঘণ্টা পর বিশ্রাম এবং আট ঘণ্টা পর একজন বিকল্প চালকের ব্যবস্থা করার সুপারিশও রয়েছে বাস্তবায়নের জন্য। মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে গতিবেগ নির্ধারণ এবং ১০০ মিটারের মধ্যে গাছপালা কেটে ফেলা হবে। নতুন মহাসড়ক নির্মাণের সময় সার্ভিস রোড রাখা হবে। ঢাকায় গণপরিবহনে পরস্পর প্রতিযোগিতা রোধে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিং, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করারও সুপারিশ রয়েছে। রিকশাকে এলাকাভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে ফেলারও সুপারিশ করা হয়েছে ১১১টি সুপারিশের মধ্যে।

সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সদস্য, বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ১১১ সুপারিশই অনুমোদন হয়েছে। ট্রাস্কফোর্স গঠনের পর বাস্তবায়ন শুরু হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেন, শাজাহান খান এমপি, মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, আইজিপি ড. জাভেদ পাটোয়ারী, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামছুল হক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সড়ক নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা