kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিএমডিএতে দুদকের অভিযান

৪ খাতে ৭ কোটি টাকা অনিয়মের প্রমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৪ খাতে ৭ কোটি টাকা অনিয়মের প্রমাণ

পূর্ব অভিযোগের ভিত্তিতে রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে সাত কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর দুর্নীতির বিষয়ে নিশ্চিত হন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন ও বায়েজিদুর রহমান খান।

গতকাল নগরীর উপশহর আমবাগান এলাকায় বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দপ্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খতিয়ে দেখার পর চারটি খাতে দুর্নীতির প্রমাণ পান তদন্ত কর্মকর্তারা।

অনুসন্ধান দলের প্রধান আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, কোটেশনের মাধ্যমে কেনাকাটা, আমবাগান ইজারা, সরকারি পরিপত্র অমান্য করে বেতন স্কেল প্রদান ও পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভয়াবহ দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা এ বিষয়গুলো প্রতিবেদন আকারে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেবেন। উল্লেখ্য, রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলের খরাপ্রবণ বরেন্দ  এলাকার কৃষিসহ এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের অন্যতম বৃহৎ একটি প্রকল্প প্রতিষ্ঠান এই বিএমডিএ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অডিট আপত্তি, কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকৌশলী ভবন নির্মাণ করেও সেখানে প্রকৌশলী না থাকা, পিপিআর অমান্য করে খণ্ড খণ্ড আকারে সরঞ্জামাদি ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতিসাধন, গোদাগাড়ীতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার হিসাব জালিয়াতি, চলমান প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি পরিপত্র অমান্য করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল প্রদান ও পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহার করা এমন সাতটি সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। গত ১৯ আগস্ট কালের কণ্ঠে এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মাসুদুর রহমান গত বুধবার এক আদেশে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালককে তদন্তের নির্দেশ দেন। অনুসন্ধান করে তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য বলা হয়।

আদেশ পাওয়ার পরদিনই দুদকের এই দুই কর্মকর্তা বিএমডিএতে অনুসন্ধানে গিয়ে চারটি খাতে সাত কোটি টাকার অনিয়মের প্রমাণ পান। দুদক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখানকার নির্দেশনা পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে যদি মামলা করার নির্দেশনা আসে তাহলে তা-ই করা হবে।’

এ বিষয়ে জানতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিএমডিএর চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরীকে ফোন করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা