kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোহিঙ্গা নিয়ে হঠাৎ অন্য রকম দুশ্চিন্তা

মেহেদী হাসান   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা নিয়ে হঠাৎ অন্য রকম দুশ্চিন্তা

প্রত্যাবাসন শুরু করার উদ্যোগ দুই দফায় ব্যর্থ হওয়া এবং গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে কয়েক লাখ রোহিঙ্গার সমাবেশের পর এই সংকট নিয়ে নানা রকম দুশ্চিন্তা ও শঙ্কার ইঙ্গিত মিলছে দেশি-বিদেশি কোনো কোনো বিশ্লেষকের বিশ্লেষণে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) ওয়েবসাইটে গত বুধবার প্রকাশিত এক নিবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে সারা জীবনের জন্য থেকে গেলে কী হবে?’ জাপানের নিক্কিই বিজনেস পাবলিকেশনসের অনলাইনে গত বুধবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়, ‘নিজস্ব রাষ্ট্রের জন্যই মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা হলে তারা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে।’

অন্যদিকে সংঘাত নিরসন ও সংলাপ উৎসাহিতকরণ বিষয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থার কর্মী জামাল বিন ফাথোনি এ দেশের একটি গণমাধ্যমে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রোহিঙ্গারা তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করতে পারছে না। মিয়ানমার সরকার এ ব্যাপারে আগ্রহীও নয়। ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গেই আলোচনা করতে হতে পারে।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে। গত মাসের শেষ দিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে ডয়েচে ভেলের বাংলা সংস্করণে প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়েছে, ‘জাতিসংঘকে বাংলাদেশ : রোহিঙ্গা স্থানান্তর সমর্থন করো, নইলে দেশ ছাড়ো’।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিতে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এনজিও কক্সবাজারে যে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে তার ছিটেফোঁটাও নেই মিয়ানমারের রাখাইনে। এমনকি পরিবেশ অনুকূল না থাকার অজুহাত দেখিয়ে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদেরও রাখাইনে যেতে দেয় না মিয়ানমার সরকার। এমন প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা যখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের কাছে তাদের প্রত্যাশার মাত্রা বাড়াচ্ছে তখন এ নিয়ে দৃশ্যত ক্ষুব্ধ সরকারের নীতিনির্ধারকরা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে বলেছেন, বাংলাদেশ তার দায়িত্ব পালন করছে। ওই সংস্থাগুলোর উচিত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক রাষ্ট্রদূত গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই দিন আগেও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে আছে। এর অর্থ কি যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সঙ্গে নেই? সেটি তো মনে হয় না। তারা মুখে যা বলে বাস্তবে তা বিশ্বাস করলে তো রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ নিপীড়ন চালানো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নৌমহড়ায় অংশ নিত না।’

সাবেক ওই রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, মুখে মানবাধিকারের বুলি আওড়ানো পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকা এখন পর্যন্ত লোক-দেখানো। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে আছে, মিয়ানমারের সঙ্গেও আছে। আর সঙ্গে থাকার কথা বলে তারা উভয় দেশ থেকে সুবিধা নিতে চায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা