kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আইসিসিবিতে বস্ত্র খাতের প্রদর্শনী

বর্ণিল পণ্যসম্ভার নিয়ে নানা বর্ণের মানুষ

এম সায়েম টিপু   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বর্ণিল পণ্যসম্ভার নিয়ে নানা বর্ণের মানুষ

বসুন্ধরায় আইসিসিবিতে পোশাক খাতের পণ্য ও যন্ত্রপাতির মেলায় দর্শনার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নানা রঙের কাপড়, সুতা, বস্ত্র ও পোশাক শিল্প-সংশ্লিষ্ট পণ্যে ভরা হলগুলো। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় এসবের বিস্তৃতি বিশাল প্রদর্শনী মাঠজুড়েও। আর তা ঘিরে নানা দেশের নানা রঙ ও বর্ণের মানুষের পদচারণা। একই ছাদের নিচে সবাই একাকার।

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) গতকাল বৃহস্পতিবার দেখা গেছে এমন চিত্র। পোশাক খাতের পণ্য ও যন্ত্রপাতি নিয়ে এই বিশাল আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক আয়োজক সংস্থা সেমস গ্লোবাল। গত বুধবার শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী চলবে আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে এই প্রদর্শনী। কোনো প্রবেশমূল্য নেই।

‘২০তম টেক্সটেক বাংলাদেশ-২০১৯’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে হাজার হাজার মানুষ। আর টেক্সটেক প্রদর্শনীর সঙ্গেই হচ্ছে ‘১৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শো-২০১৯’ ও ‘৩৮তম ডাই-ক্যাম বাংলাদেশ এক্সপো-২০১৯’।

দেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষ খাত তৈরি পোশাক শিল্প। বাংলাদেশের এই শিল্প নজর কেড়েছে সারা বিশ্বের ব্যবসায়ীদের। প্রতিবছরই আগ্রহ বাড়ছে বিশ্বের বড় বড় উদ্যোক্তাদের। অংশগ্রহণও বাড়ছে লক্ষণীয়ভাবে। সে সুবাদে দিন দিন বাড়ছে এর আকার-আয়তন ও প্রবৃদ্ধি।

গতকাল প্রদর্শনীতে আসা পোশাক শিল্প খাতের উদ্যোক্তা রুকসানা বেগম বলেন, ‘এটা এক অন্যরকম বাংলাদেশ। বিশ্বের নানা রঙের মানুষের এক অন্যরকম মিলন মেলা। এক খণ্ড রঙিন ভুবনে পরিণত হয়েছে এই আইসিসিবি’র এই প্রদর্শনী কেন্দ্র। দেশ-বিদেশের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে নানারকম পোশাক পণ্যের এই প্রদর্শনী এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের বস্ত্র খাত যে বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে এই প্রদর্শনী তার অনন্য উদাহরণ।’

নানা রঙের উন্নত মানের কাপড় নিয়ে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে চীনের প্রতিষ্ঠান বারভেস্ট টেক্স। প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কেবিন লিউ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা আমার তৃতীয়বারের মতো অংশগ্রহণ। বেশ ভালো লাগছে। ক্রেতাদের সারাও বেশ। গত বছর প্রায় অর্ধ মিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়েছে। প্রতিবছরই সাড়া পাচ্ছি। গত দু’দিনে পাঁচজন ক্রেতার সঙ্গে পাকা কথা হয়েছে। আশা করছি এবারের মেলায় অংশগ্রহণও বেশ সফল হবে।’

জিপার ও বোতামের মতো তৈরি পোশাক খাতের সহযোগী পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। এরপরও এই প্রদর্শনীতে এক্সেসরিজ পণ্যের স্টল কম নয়। ‘হো হো’ নামের একটি স্টলে দেখা গেল, উন্নতমানের নানা রঙের পণ্য নিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্টলকর্মী খালেদ খানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বাংলাদেশে এসব পণ্য উৎপাদনের বড় বড় প্রতিষ্ঠান থাকলেও উচ্চ মূল্যে সংযোজনী পণ্য তৈরি দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য এখনই লাভজনক হয়ে ওঠেনি। তাই উদ্যোক্তারা ইচ্ছা করলেও স্থানীয়ভাবে সব তৈরি করে না। আর এই শূন্যস্থান পূরণে ভূমিকা রাখছে বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস গ্লোবালের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক (সেল্স) আশরাফ হোসেন বলেন, ‘সারা বিশ্বে ফেব্রিক ও ইয়ার্নের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী এটি। এতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও দেশের সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। এ বছর প্রায় ১৩শ’ প্রদর্শক এবং ২৫টি দেশের প্রতিষ্ঠান এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করছে।’

আশরাফ হোসেন জানান, এক সময় আইসিসিবি’র প্রদর্শনী হলগুলোতে আয়োজন সীমাবদ্ধ থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে এর পরিধি বাড়ছে। এবার হলের বাইরেও নয়টি বড় বড় তাঁবু টাঙানো হয়েছে। আর গত দু’দিনে প্রায় ১০ হাজার দর্শনার্থী মেলায় অংশগ্রহণ করেছে।

সেমস গ্লোবাল জানায়, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট শিল্পের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি, বিভিন্ন ধরনের সুতা, ডেনিম, নিটেড ফেব্রিকস, ফ্লিস, ইয়ার্ন অ্যান্ড ফাইবার, আর্টিফিশিয়াল লেদার, এমব্রয়ডারি, বাটন, জিপার, লিনেন ব্লেন্ডসহ অ্যাপারেল পণ্য প্রদর্শন করছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা