kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চক্রের নিরাপদ ঘাঁটি ক্যাম্পাসের বস্তি

শাহাদত হোসেন, শেকৃবি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চক্রের নিরাপদ ঘাঁটি ক্যাম্পাসের বস্তি

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কর্মচারীদের জন্য ক্যাম্পাসেই বেশ বড় এলাকা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল আবাসনব্যবস্থা। সবার কাছে তা পরিচিতি পায় মিনি মার্কেট বস্তি হিসেবে। কর্মচারীদের অস্থায়ী বসবাসের জন্য এই বস্তি-আবাসনের জন্ম হলেও দিন দিন তা হয়ে উঠেছে বহিরাগত বিপুল মানুষের আবাসস্থল। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে এখানে জেঁকে বসেছে। আর দিন দিন এই বস্তি হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিদের নিরাপদ আস্তানা।

সরকারি-বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, শেকৃবি ক্যাম্পাসের এই মিনি মার্কেট বস্তিতে বর্তমানে আট শতাধিক বহিরাগত বসবাস করছে। আর তাদের মধ্যে চিহ্নিত ১৯ জন মাদক ও অস্ত্রের কারবার এবং ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। অস্ত্র মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিও রয়েছে।

বস্তিতে ঘাঁটি গেড়ে বসা চিহ্নিত অপরাধীদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবগত। তারা এই বস্তি উচ্ছেদে একাধিকবার উদ্যোগও নিয়েছে। কিন্তু তা সফল হয়নি। কারণ বস্তির এই অপরাধীচক্র বরাবরই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। তাদের হস্তক্ষেপের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার মিনি মার্কেট বস্তি উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েও সফল হতে পারেনি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর বাধার মুখে বস্তি উচ্ছেদে নেওয়া উদ্যোগগুলো প্রতিবারই শুরু হতে না হতেই থেমে গেছে। বস্তুত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় এক নেতা ওই মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে এসব অপরাধীর ঢাল হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর প্রভাবে প্রশাসনও মাদকের এই আস্তানা উচ্ছেদে জোরালো ভূমিকা নিতে পারছে না।

গোয়েন্দা সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসের বস্তিতে অবস্থান করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন কর্মচারী সরাসরি মাদক সেবন ও মাদকের কারবারে জড়িত। ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত ছিনতাই কর্মকাণ্ডেও তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনই নিরাপত্তা প্রহরী। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত গার্ড। আরেকজন কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা হলের গার্ড।

বস্তির এক ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে শেকৃবির প্রথম গেট এলাকায় তেলের চোরাকারবার ও মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। আরেক ভাড়াটিয়া নাজমুল শেকৃবির এই মিনি মার্কেট বস্তি থেকে গত ১৭ আগস্ট ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, কীটতত্ত্ব বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত ল্যাব অ্যাটেনডেন্টের ছেলে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে আসছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করলেও তার কারবার থেমে নেই। পানি মিস্ত্রি ফজলুর জামাতা কাউসার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি এবং অস্ত্র মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। একজন নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে যৌথভাবে সে মাদকের কারবার পরিচালনা করে থাকে। বস্তির ভাড়াটিয়া ও রিকশাচালক রাসেল মাদক বহনের কাজে সহযোগিতা করে।

এ ছাড়াও ছয় ভাড়াটিয়া মিনি মার্কেট বস্তিকে আশ্রয় করে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। এদের একজন রমজানের নিজের দোকান রয়েছে গণভবন স্কুলের পাশে। সেখানে বসে অন্য ব্যবসার আড়ালে সে গাঁজা ও ইয়াবার কারবার চালায়। ফারুক নামে আরেকজনের মাদক বিক্রির স্পট পাকা মার্কেট এলাকায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জাবের আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিনি মার্কেট বস্তি থেকে ইয়াবাসহ নাজমুল নামের একজনকে আটকের তথ্য পেয়েছি। এ ছাড়া আমরাও বস্তি এলাকায় অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও ভাড়াটিয়াকে মাদকসহ আটক করেছি। গত বছরের ২ নভেম্বর লিফটম্যান আক্তার ও ভাড়াটিয়া তারিফকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে তারিফকে র‌্যাবে সোপর্দ করা হয়। আর আক্তারের বিরুদ্ধে প্রক্টরিয়াল বডি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। পরে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না জানা যায়নি।’ 

প্রক্টর ড. ফরহাদ হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তারিফকে র‌্যাবে সোপর্দ করা হয়। আর আক্তারের বিষয়ে লিখিত রিপোর্ট দিয়েছিলাম ভিসি স্যার বরাবর। তবে পরে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটা দুঃখজনক। আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা