kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিরাট ঝুঁকি নিচ্ছেন জনসন

চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের দিকে এগোলেই নির্বাচন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের দিকে এগোলেই নির্বাচন

ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ রাজনীতির নাটকীয়তা চরমে উঠেছে। চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া সরকারি ও বিরোধীদলীয় এমপিদের হাতেই এখন হাউস অব কমন্সের নিয়ন্ত্রণ। গতকাল রাতে এ নিয়ে ভোটাভুটির কথা ছিল। এর আগে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো ভোটে ব্যর্থ হন বরিস জনসন। তাঁর নিজ দলেরই ২১ এমপি সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে ব্রেক্সিট বিলম্বিত করার দাবি তোলেন। নাটকীয়তায় ভরা মঙ্গলবারে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি তাদের এক আসনের সংখ্যাগষ্ঠিতাও খুইয়েছে। একই দিন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তাঁর বিরুদ্ধাচারী দলের ২১ এমপিকে বহিষ্কারের পাশাপাশি ভোটে আবারও ব্যর্থ হলে আগাম নির্বাচনের হুমকিও দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে নির্বাচন হবে আগামী মাসের মাঝামাঝি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিচ্ছেদ সম্পন্ন করার জন্য বেঁধে দেওয়া সময় ৩১ অক্টোবরের আগেই। কয়েক মাস ধরে নির্বাচনের দাবিতে উচ্চকণ্ঠ বিরোধী লেবার দল অবশ্য জানিয়েছে, তারা এখন নির্বাচন চায় না। জনসনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত নয় তাঁর দল কনজারভেটিভ পার্টিরও একটা বড় অংশ। তবে লেবার ও কনজারভেটিভ পার্টির নির্বাচনে বিরোধিকারী অংশের দাবি, চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের আশঙ্কা না থাকলে তাদের নির্বাচনে যেতে কোনো আপত্তি নেই।

জনসন নিজে নির্বাচন চাইলেও বিষয়টি তাঁর জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়াতে পারে। বহু বিশ্লেষক এ প্রসঙ্গে তাঁর পূর্বসূরি টেরেসা মের ২০১৭ সালে আগাম নির্বাচন আয়োজনের ঘটনার কথা স্মরণ করেন। সেবার অতি আত্মবিশ্বাসী মে নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন পার্লামেন্টে তাঁর দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরো কমে গেছে। জনসনের ক্ষেত্রেও তেমন আশঙ্কা রয়েছে। কারণ নবগঠিত ব্রেক্সিট পার্টিসহ লিব ডেমের কাছে কনজারভেটিভ পার্টি আসন হারাবে। আবার ব্রেক্সিটে ব্যাকস্টপ (সীমান্ত চুক্তি) শর্তের কারণে আইরিশ দলগুলোর সমর্থনও পাবে না তারা। ফলে জনসনের জন্য এ নির্বাচন বড় ধরনের জুয়া খেলা হয়ে দেখা দিতে পারে।

বড়ই নাজুক অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে আগাম নির্বাচনের হুমকি দিয়েছেন জনসন। ব্রেক্সিট নিয়ে ইইউর সঙ্গে একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছিলেন তাঁর পূর্বসূরি টেরেসা মে। সেই চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে ইইউও এখন নতুন করে কোনো চুক্তিতে যেতে আগ্রহী নয়। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে দুইবার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার পর আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ইইউর সঙ্গে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ সম্পন্ন করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতীজ্ঞ জনসন। তা সে চুক্তিসহ হোক (যা প্রায় অসম্ভব) অথবা চুক্তি ছাড়া। ব্রিটিশ রাজনীতিকদের একটা বড় অংশ চুক্তিছাড়া ব্রেক্সিটে সম্মত নয়। যেকোনো উপায়ে তারা একে ঠেকাতে আগ্রহী। পার্লামেন্ট সদস্যদের এ ক্ষেত্রে মতামত দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য জনসন আগামী ১১ অক্টোবর থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু ভজঘট বাধে গত মঙ্গলবারই। গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে ওই দিনই প্রথম বসে পার্লামেন্ট। প্রথম দিনই ব্রেক্সিট কার্যকরের তারিখ নির্ধারিত ৩১ অক্টোবর থেকে পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবে ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়। প্রস্তাবটি ৩২৮-৩০১ ভোটে গৃহীত হয়। এ সময় রক্ষণশীল দলের ২১ এমপি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। আর গতকাল পার্লামেন্টে চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের পথ রুখে দেওয়ার প্রস্তাবে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। জনসন তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া ২১ এমপিকে দল থেকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর অর্থ হবে—কনজারভেটিভ পার্টি থেকে এঁরা আর নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না। এই ২১ বিদ্রোহীর মধ্যে রয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড এবং কেন ক্লার্ক। রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিলের নাতি নিকোলাস সোয়ামেসের মতো ব্যক্তিত্ব। বিদ্রোহীরা জানান, তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থের ওপর দেশের স্বার্থকে স্থান দেওয়ার কারণেই দলের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। তবে এ ধরনের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের দল থেকে এই মুহূর্তে বহিষ্কার করা হলে তা কনজারভেটিভ পার্টির ঐক্যের পক্ষে খুব একটা সুবিধাজনক হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবারের ভোটাভুটির পরপরই একটি বিবৃতি দেন জনসন। এতে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এমপিদের এই অন্যায্য দাবির কাছে মাথানত করবেন না তিনি। গতকাল রাতের যে ভোট হওয়ার কথা ছিল তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওটাতেও পরাজিত হলে ‘আরো উত্তেজনা, আরো বিলম্ব ও আরো বিশৃঙ্খলা’ এড়ানোতে তিনি আগাম নির্বাচনের ডাক দেবেন। কারণ তাঁর দৃষ্টিতে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট রুখে দেওয়া হলে আলোচনার নিয়ন্ত্রণ ইইউর হাতে চলে যাবে। তিনি বলেন, ‘বুধবার চুক্তিহীন ব্রেক্সিট আটকে গেলে জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ১৭ অক্টোবর কে ইইউর সঙ্গে আলোচনায় বসবে।’ প্রসঙ্গত ১৭ অক্টোবর ইউরোপীয় সম্মেলন শুরু হবে। ৩১ অক্টোবর ব্রিটেনের ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগে এটিই ইইউর শেষ সম্মেলন। চুক্তির বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্তে আসার শেষ সময় এটি।

জনসন আরো বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিন বহুদিন থেকেই নির্বাচন চাইছেন। এবার হয়তো তাঁর আশা পূরণ হবে।’ তবে জনসন আগাম নির্বাচন চাইলেই আয়োজন করতে পারবেন বিষয়টি এতটা সরল নয়। নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদের আগে নির্বাচন ডাকতে চাইলে জনসনকে অবশ্যই ৬৫০ আসনের পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, পিটিআই।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা