kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নিপীড়কদের বিচার

স্বাধীন তদন্ত কাঠামো যাত্রাই শুরু করতে পারেনি

মেহেদী হাসান   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বাধীন তদন্ত কাঠামো যাত্রাই শুরু করতে পারেনি

রোহিঙ্গা নিপীড়নসহ ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ একটি স্বাধীন তদন্ত কাঠামো গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর। মূল লক্ষ্য ছিল—ভবিষ্যতে কোনো দিন মিয়ানমারের নিপীড়কদের বিচারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। কিন্তু প্রায় এক বছর পরও ওই কাঠামো তদন্ত শুরু করতে পারেনি। নিজেদের গোছাতেই বছর পার করে দিয়েছে তারা। এখন আবার তারা অন্য আন্তর্জাতিক আদালতের কাছ থেকে তদন্ত শেখার আগ্রহ প্রকাশ করছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৪২তম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী সপ্তাহে। সেই অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত কাঠামোর বার্ষিক প্রতিবেদন উত্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই কাঠামো এরই মধ্যে একটি খসড়া প্রতিবেদন তৈরি

করেছে এবং তা মানবাধিকার পরিষদের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে তদন্ত কাঠামো সৃষ্টির প্রস্তাব গৃহীত হলেও জাতিসংঘের প্রক্রিয়া শেষ করে কাঠামোপ্রধান নিয়োগ দিতেই অনেকটা সময় লেগে গেছে। মানবাধিকার পরিষদের ওই প্রস্তাব সাধারণ পরিষদে স্বাগত জানানো হয় গত ২২ ডিসেম্বর। এরপর গত ২ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত কাঠামোর প্রধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান আইনজীবী নিকোলাস কোমজিয়ানকে নিয়োগ দেন। নিকোলাস কোমজিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেন ১ জুলাই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিকোলাস কোমজিয়ানের নেতৃত্বে মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত কাঠামো গত কয়েক মাসে তার কৌশল নির্ধারণের ওপরই গুরুত্ব দিয়েছে। মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপনের জন্য খসড়া প্রতিবেদন থেকেই স্পষ্ট যে ওই কাঠামো এখনো পুরোপুরি কাজ শুরু করতে পারেনি। ওই কাঠামো তার নিজের কার্যকারিতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালসহ আন্তর্জাতিক জবাবদিহি ব্যবস্থা থেকে শেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

জানা গেছে, জেনেভায় জাতিসংঘ দপ্তরের একটি অস্থায়ী অফিস কক্ষে মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত কাঠামো প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। আগামী দিনগুলোতে জনবল নিয়োগ সাপেক্ষে তাদের অন্যত্র অফিস খুলতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশও তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় থাকবে। কারণ ২০১১ সালের পর মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত কাঠামো তার খসড়া প্রতিবেদনে বলেছে, তদন্ত কার্যক্রম চালাতে মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হবে। তবে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারযোগ্য অভিযোগপত্র তৈরি করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলে স্বাধীন তদন্ত কাঠামো মনে করছে। এ ক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্ত কাঠামোর যুক্তি হলো—শুধু অভিযোগ করলেই হবে না, প্রমাণসহ দায় নিরূপণও করতে হবে।

বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতি, প্রটোকল প্রণয়ন এবং উপযুক্ত ও দক্ষ জনবল নিয়োগ করাও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে স্বাধীন তদন্ত কাঠামো। এ ছাড়া মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী কমিশনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্তসহ আগামীতে যেসব তথ্য-উপাত্ত, প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে, সেগুলো জমা রাখার জন্য স্থায়ী দপ্তর ও সুরক্ষিত ভৌত অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে স্বাধীন তদন্ত কাঠামো। এখন অস্থায়ীভাবে জেনেভায় জাতিসংঘ দপ্তরের একটি সুরক্ষিত ভবনে তথ্য-উপাত্ত রাখা হচ্ছে।

তদন্ত কাঠামোর খসড়া প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার না পাওয়ার প্রতিদিনের যন্ত্রণা কতটা ভয়াবহ সে বিষয়ে তদন্ত কাঠামো অবগত। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী হওয়ার বিষয়টি তাদের ওপর সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর নির্ভর করছে। দায়মুক্তি অব্যাহত থাকলে মিয়ানমারে নিপীড়ন চলতেই থাকবে। আর এই অঞ্চল ও এর বাইরে শান্তি-স্থিতিশীলতায় এই সংকটের বিরূপ প্রভাব পড়বে।

তদন্ত কাঠামো সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বলেছে, তারা কোনো আদালত নয়। কাউকে গ্রেপ্তার করা, সাক্ষী বা অপরাধীকে তলব করার ক্ষমতাও তাদের নেই। এসব চ্যালেঞ্জ নিয়েই মিয়ানমারের অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তাদের বিরুদ্ধে মামলার ফাইল তৈরি করতে চায় তারা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা