kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নরসিংদীতে যৌতুক না পেয়ে চাপাতির কোপে স্ত্রীর হাত বিচ্ছিন্ন

নরসিংদী প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নরসিংদীতে যৌতুক না পেয়ে চাপাতির কোপে স্ত্রীর হাত বিচ্ছিন্ন

এক যৌতুকলোভী চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রীর হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ক্ষতবিক্ষত করেছে দেহের অন্যান্য অংশও। নরসিংদী জেলা সদরে গত সোমবার দিবাগত রাতে এমন নৃশংস ও বর্বর ঘটনা ঘটেছে। হামলার শিকার দীপা চন্দ্র সূত্রধর (২৭) রাজধানীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর স্বামী হামলাকারী বিষ্ণু সূত্রধরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পরিবারের লোকজন জানায়, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা এলাকার হরিশ সূত্রধরের ছেলে বিষ্ণু সূত্রধরের সঙ্গে ২০১০ সালে বিয়ে হয় দীপার। বিষ্ণু ময়মনসিংহে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কাজ করে। আর দীপা চাকরি করছেন নরসিংদী শহরের বিষ্ণুপ্রিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। চাকরির সুবাদে দীপা তাঁর বাবার বাসা শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়ায় থাকেন। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। দীপার বাবা দিলীপ সূত্রধর সম্প্রতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চাকরি থেকে অবসর নিয়ে পেনশনের টাকা পান। এটা জেনে বিষ্ণু ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। কিন্তু দীপা তা বাবাকে বলতে অস্বীকৃতি জানান।

যৌতুকলোভী বিষ্ণু গত সোমবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর শ্বশুরবাড়িতে আসে। রাত ৩টার দিকে সে আকস্মিক চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রীর ডান হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এ সময় চাপাতির কোপ তাঁর ডান গাল এবং বাঁ হাতেও লাগে। দীপার চিৎকার শুনে বাবা দিলীপ সূত্রধর, মা অরুণা সূত্রধর ও ভাই রাজীব সূত্রধর এসে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর দীপাকে ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে দীপার ছোট ভাই রাজীব বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় বিষ্ণু সূত্রধরকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। থানার পুলিশ ওই দিনই মামলার একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

আহত দীপা বলেন, ‘গভীর রাতে আমি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়ই সে চাপাতি দিয়ে আমার হাতে কোপ দিয়ে কবজি পর্যন্ত কেটে ফেলে। এরপর সে আমাকে গলা কেটে হত্যা করতে চেয়েছিল। সেই আঘাতই আমার গাল ও বাঁ হাতে লেগেছে। সে নাকি আমাকে খুন করার পর দুই ছেলে-মেয়েকেও খুন করত।’

দীপার মা অরুণা সূত্রধর বলেন, ‘বিষ্ণু বিয়ে করার সময় দীপার পরিবারের কাছে আগে বিয়ে করার তথ্য গোপন করে। দীপার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর তার আগের স্ত্রী মামলা ঠুকে দেয়। সেই মামলা আমাদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ও দীপার বেতনের টাকা দিয়ে সে নিষ্পত্তি করে। এখন আবার ১০ লাখ টাকা চাইছে।’

ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরীফ বলেন, আহত দীপার ডান হাত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাঁর মুখের ডান পাশেও লম্বালম্বিভাবে মাংস আলাদা হয়ে গেছে। বাঁ হাতেও আঘাত লেগেছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর মডেল থানার এসআই রুহুল আমিন জানান, আসামি বিষ্ণু রায়কে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। পারিবারিক কলহ থেকেই সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা