kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আসামির স্ত্রীকে ডেকে তুলে ধর্ষণ

মামলায় নাম নেই এসআই খায়রুলের

গ্রেপ্তার ৩, তদন্ত কমিটি গঠন, এসআই প্রত্যাহার

যশোর অফিস ও বেনাপোল প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মামলায় নাম নেই এসআই খায়রুলের

ফাইল ছবি

যশোরের শার্শা উপজেলার একটি গ্রামে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ ধর্ষণ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে বাদ দিয়ে চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ওই গৃহবধূ শার্শা থানায় মামলাটি করেন বলে জানান থানার ওসি এম মশিউর রহমান।

নির্যাতিত গৃহবধূ মঙ্গলবার দুপুরে শার্শার গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম ও পুলিশের এক সোর্সের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন। এ ঘটনায় এসআই খায়রুলকে আসামি করা না হলেও গতকাল বুধবার সকালে তাঁকে যশোর পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলো শার্শা উপজেলার চটকাপোতা গ্রামের হামিজ উদ্দীনের ছেলে পুলিশের সোর্স কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল, লক্ষ্মণপুর গ্রামের মজিদের ছেলে আব্দুল কাদের ও মাজেদের ছেলে আব্দুল লতিফ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন শিকদার বলেন, এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি একজন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রধান অভিযুক্ত এসআই খায়রুলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি কেন—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নির্যাতিত গৃহবধূর সামনে মঙ্গলবার রাতে এসআই খায়রুলকে কয়েকবার আনা হয়েছিল; কিন্তু তিনি তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেননি।

নির্যাতিত গৃহবধূ ভয়ে প্রধান অভিযুক্তের নাম বলেননি, নাকি তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘তাঁকে কোনো প্রকার ভয়ভীতি দেখানো হয়নি।’ ঘটনায় জড়িত নন কিন্তু এসআই খায়ুেলকে কেন প্রত্যাহার করা হলো—জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘তদন্তে যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সে কারণে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি দোষী, সে কারণে প্রত্যাহার হয়েছেন এমনটি নয়। তা ছাড়া যেহেতু তাঁর নামে অভিযোগ করা হয়েছে, তাই কর্মস্থলে তিনি কাজ করতে অস্বস্তি বোধ করতে পারেন।’

পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, ‘অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত যে-ই হোক না কেন ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আরিফ আহম্মেদ জানিয়েছেন, ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নির্যাতিত নারী বলেছিলেন, ‘আগে আমার স্বামী চোরাচালানিদের পণ্য বহন করত। এখন কৃষিকাজ করে। ২৫ আগস্ট এসআই খায়রুল আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে ফেনসিডিল দিয়ে চালান করা হয়। সোমবার রাতে এসআই খায়রুল, সোর্স কামরুল এবং গ্রামের লতিফ ও কাদের নামে চারজন এসে আমাকে ডাকাডাকি শুরু করে। আমি দরজা খুলতে না চাইলে তারা বলে, স্বামীর মামলার ব্যাপারে কথা আছে। তখন আমি দরজা খুলি। দারোগা খায়রুল আমাকে বলেন, ৫০ হাজার টাকা দিলে আমার স্বামীর মামলা হালকা করে দেবেন। আমি বলি, বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ফেনসিডিল দিয়ে চালান দিয়েছেন। এখন বলছেন টাকা দিলে হালকা হয়ে যাবে। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। তখন খায়রুল আমাকে গালি দেন। এরপর ঘরে নিয়ে খায়রুল ও কামরুল আমাকে ধর্ষণ করেন।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা