kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কূটনীতিকদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠক

আন্দোলনের বার্তা খালেদার মুক্তির বিষয়ে পদক্ষেপের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আন্দোলনের বার্তা খালেদার মুক্তির বিষয়ে পদক্ষেপের আহ্বান

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষস্থানীয় নেতারা কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, তাঁর বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন মামলার সর্বশেষ অবস্থা, ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ নানা বিষয় উঠে আসে।

ফ্রন্টের নেতারা সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলন শুরু করবেন বলে কূটনীতিকদের জানিয়েছেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে থেকে কূটনীতিকদের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গতকাল বুধবার গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের বাসায় এ বৈঠক হয়। সকাল ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গণতন্ত্রের ন্যূনতম যে স্পেস (মিছিল-মিটিং করার) সেটা এই সরকার আমাদের দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আমাদের বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। ফ্রন্টের শরিক দলগুলো তাদের দল গোছাচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই আমাদের আন্দোলন শুরু হবে। আমরা বিষয়গুলো কূটনীতিকদের জানিয়েছি।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষস্থানীয় নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কূটনীতিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন, কানাডার উপহাইকমিশনার, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা ।

বৈঠকে উপস্থিত সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার জানতে চান, বাংলাদেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা এখন কী করবেন বা কী করতে চান? জবাবে ড. কামাল বলেন, বাংলাদেশে যে সংবিধান আছে, সে অনুযায়ী দেশ চলছে না। এই বিষয়টি কূটনীতিকরা জানেন। তিনি আরো বলেন, যারা দেশ চালাচ্ছে তারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি। একটা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান পার্লামেন্ট গঠন করা হয়েছে। এই অবস্থায় ফ্রন্টের নেতারা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।

ড. কামালের এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মিলার বলেন, ‘আপনারা তো এই পার্লামেন্টে গেছেন।’ জবাবে ড. কামাল বলেন, গণতন্ত্রেও ন্যূনতম যে স্পেস সেটা তো সরকার দিচ্ছে না। তাঁরা বাধ্য হয়ে এই সংসদে গিয়েছেন, যাতে কথা বলার কিছু সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু সংসদেও গণতন্ত্রচর্চার ন্যূনতম সুযোগ নেই। সরকার যাতে দ্রুত নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয় সে জন্য তিনি কূটনীতিকদের তাঁদের তরফ থেকে সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করতে বলেন।

বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানান, মির্জা ফখরুল কারাবন্দি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরেন। তিনি কূটনীতিকদের বলেন, দেশের স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়ার মুক্তি অত্যন্ত জরুরি। কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে থেকেই তাঁরা যেন এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেন।

সূত্র মতে, ড. কামাল ও মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ড. মঈন খান বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। তাঁরা কূটনীতিকদের বলেন, সংসদে গেলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হবে বলে তাঁরা ভেবেছিলেন, কিন্তু সরকার সে পথে যায়নি। সরকার দাবি করছে যে বিএনপির সঙ্গে জনগণ নেই। কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় গত সোমবার যে শোভাযাত্রা হয়েছে সেটা প্রমাণ করে যে বিএনপি এখনো এই দেশের জনপ্রিয় দল। নিম্ন থেকে উচ্চ আদালত এই সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী মামলার রায় দেন বলেও কূটনীতিকদের কাছে অভিযোগ করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

বৈঠকে কূটনীতিকরা কোনো মন্তব্য না করে শুধু নোট নিয়েছেন।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘তাঁরা আপনাদের (সাংবাদিক) মতোই নোট নিয়েছেন। এগুলো তাঁদের দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন।’

তবে বৈঠকে থাকা এক নেতা জানান, তিন মাস পর পর এমন বৈঠক আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন কূটনীতিকরা।

বৈঠক শেষে ড. কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রদূতরা দেশের সর্বশেষ অবস্থা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন। আমরা আমাদের দিক থেকে তা তুলে ধরেছি। দেশে কী রকম নির্বাচন হয়েছে তা আপনারা জানেন, তাঁরাও জানেন। বিদেশিরা আমাদের বক্তব্য শুনেছেন।’

জেএসডি সভাপতি রব সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকটি চায়ের আড্ডা হলেও রাষ্ট্রদূত-হাইকমিশনাররা দেশের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে আমরা তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা