kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিবিদ্বেষ সহিংসতায় নিহত ৫

পুলিশকে বাংলাদেশিদের সহযোগিতার অনুরোধ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিবিদ্বেষ সহিংসতায় নিহত ৫

ছবি: ইন্টারনেট

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি ওপর বিদ্বেষজনিত সহিংসতায় বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলা এ সহিংসতায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর মিলেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ১৮৯ জনকে। প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের চলাফেরার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানিয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশের অন্যান্য দেশের সরকারগুলোও সহিংসতা বিষয়ে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে।

এদিকে বিদেশি নাগরিকদের সম্পদ লুট ও তাঁদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তিনি বলেছেন, কোনো দক্ষিণ আফ্রিকানেরই অন্য দেশের নাগরিকদের ওপর হামলা চালানোর অধিকার নেই।

রামাফোসা টুইটারে ভিডিওবার্তায় বলেছেন, বিদেশি নাগরিকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা দক্ষিণ আফ্রিকায় আমরা হতে দিতে পারি না। শিগগিরই এ ধরনের অরাজকতা বন্ধ করা হবে।

গত রবিবার রাতে মালভেনের জুলিস এস্টেটে স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকরা তাণ্ডব চালিয়ে প্রায় শতাধিক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আছে সেন্ট্রাল সুপার সেইব, মালবেন, ফাতেমা ক্যাশ এন্ড ক্যারি, লো কস্ট, বাই রাইট, এলডি শপ ও কেএনএল সুপার মার্কেট।

সোমবার সকাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গের স্মল অ্যাস্টেট, ব্রি অ্যাস্টেট, জিপি অ্যাস্টেট, এমটিএন ট্যাক্সি, রেংক ব্রি ট্যাক্সি রেংঙ্ক, হিলব্রো ও নিউটাউন শহরে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ছুড়েতে হয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে বিদেশি নাগরিকদের চালিত লরি লক্ষ্য করে হামলা, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও দোকান লুটপাট করতে দেখা গেছে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, পুলিশের সহযোগিতার জন্য স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর ফলে হামলাকারিরা আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার জোহানেসবার্গের আলেক্সান্দ্রা টাউনশিপে সহিংসতা অব্যাহত ছিল। সেখানকার বিক্ষুব্ধ জনগণ সরকারের কাছে কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছে ।

নাইজেরিয়ার এক ব্যবসায়ী বলেন, এটা মোটেও অপরাধমূলক হামলা নয়। এটা বিদেশিদের ওপর বিদ্বেষ থেকে হামলা। অভিভাসীরা অসংখ্য মিথ্যা অভিযোগের শিকার।

আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) এক বিবৃতিতে এ সহিংসতাকে ‘ঘৃণ্য কাজ’ অ্যাখ্যা দিয়ে এর কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি টোটাল অনির্দিষ্টককালের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। সহিংসতার ঘটনায় অসন্তুষ্টির কথা জানাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি। নাইজেরিয়ার সরকার জোহানেসবার্গে তাদের নাগরিকদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হামলার ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে নাইজেরিয়ানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

চলমান অস্থিরতায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইথিওপিয়া দূতাবাস নাগরিকদের তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দিয়েছে। যে কোনো সংঘাত ও সহিংসতা এড়িয়ে চলতে এবং দামি গহনা পরে বাইরে বের না হতে ইথিওপীয়দের পরামর্শ দিয়েছে তারা। এদিকে লরি চালকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ার আগ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় যাত্রা এড়িয়ে চলতে বলেছে জাম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশমন্ত্রী ভেকি সেলে বলেছেন, বিদেশিবিদ্বেষ অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কোনোকিছুই দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে কোনো ধরনের সংঘাতের স্ফুলিঙ্গ ছড়াতে পারে না।

স্থানীয় বাংলাদেশিদের পুলিশকে সহযোগিতার অনুরোধ হাইকমিশনের : এদিকে আমাদের কূটনৈতিক প্রতিবেদক জানান, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন গত ৩০ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের চলাফেরার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানিয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার শাব্বির আহমদ চৌধুরী গত মঙ্গলবার দেশটিতে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন শহরে সহিংসতা হচ্ছে। তিনি এ ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।

হাইকমিশনার বলেন, সহিংসতার প্রেক্ষাপট, কী কারণে ঘটছে এবং কারা জড়িত এসব তথ্য পেলে হাইকমিশনের পক্ষে কাজ করা সহজ হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন তথ্য পেলে দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তা অবহিত করে এবং তাদের নির্দেশ মতো কাজ করে। দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশকে অবহিত করে। কোনো বাংলাদেশি যদি ক্ষতিগ্রস্ত হন তবে প্রয়োজনে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ হাইকমিশন তাকে সমস্যা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে।

তিনি আরো বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ছাড়া আমরা কখনও সেখানে যেতে পারি না। যখন প্রয়োজন তখন আমরা অবশ্যই যাই। তারা পুলিশকে অবহিত করেন এবং সে অনুযায়ী বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা যান।’

বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছেন বর্তমানে যে সহিংসতা, আক্রমণগুলো হচ্ছে তার অন্যতম বড় কারণ হলো সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা নানা কারণে বিদেশিদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। যদিও অপরাধীর সংখ্যা খুবই কম। তবুও তারা যে ধরনের অপরাধ করছেন তাতে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যারা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের ব্যাপারে পুলিশকে অবহিত করতে হাইকমিশনার বাংলাদেশি সম্প্রদায়কে অনুরোধ জানান।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা