kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আফগানিস্তান ছাড়ছে ৫৪০০ মার্কিন সেনা

কাবুলে হামলায় নিহত ১৬

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফগানিস্তান ছাড়ছে ৫৪০০ মার্কিন সেনা

আফগানিস্তান থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ হাজার ৪০০ সেনা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। আর এটি করা হবে তালেবানের সঙ্গে ‘নীতিগত’ চুক্তির অংশ হিসেবে। গত সোমবার রাতে আফগানিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল ‘টোলো নিউজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী জালমে খলিলজাদ।

তালেবানের সঙ্গে বহুল প্রত্যাশিত শান্তিচুক্তির ব্যাপারে এই প্রথম বিস্তারিত তুলে ধরলেন খলিলজাদ। টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে বিষয়টি তিনি আফগান কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন। তবে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার রাতে যখন খলিলজাদের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হচ্ছিল, তখন কাবুলে বড় ধরনের বোমা হামলা চালায় তালেবান। তাতে নিহত হয় অন্তত ১৬ জন। হামলার লক্ষ্য ছিলে বিদেশিদের একটি আবাসিক প্রাঙ্গণ। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু যারাই হোক, প্রাণ দিতে হলো সাধারণ জনগণকেই।

এ ঘটনার পর গতকাল সকালে কাবুলে সড়ক অবরোধের পাশাপাশি টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে আফগানরা। তাদের দাবি, অবিলম্বে বিদেশিদের আফগানিস্তান ছাড়তে হবে।

আব্দুল জামিল নামে কাবুলের এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘বিদেশিদের কারণে সাধারণ মানুষের প্রাণ যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। আমরা বিদেশিদের আফগানিস্তানে আর দেখতে চাই না।’

তালেবানের এই হামলায় পর অনেকের মধ্যে এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে তালেবানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি হলেও সহিংসতার ইতি ঘটবে না।

২০০১ সালে মার্কিন হামলার পর যেকোনো সময়ের চেয়ে আফগানিস্তানের আরো বেশি অঞ্চল এখন তালেবানের দখলে রয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি। তারা আফগান সরকারকে মূল্যায়ন করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হাতের পুতুল’ হিসেবে।

‘আফগান ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এর গবেষক ইজাজ মালিকজাদা মনে করেন, পরিস্থিতি ভালো হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমে তালেবানকে দেখছি, দোহায় আলোচনার টেবিলে তাদের দেখছি, ফেসবুকে তাদের কথা শুনছি; কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ছে না। তারা বোমা হামলা থেকে সরে দাঁড়াবে বলে মনে হয় না।’

টোলো নিউজে খলিলজাদ চুক্তির যে খসড়া তুলে ধরেন, সেটি মূলত তালেবানের সঙ্গে ৯ দফা আলোচনার ‘ফসল’। কাতারের রাজধানী দোহায় এসব আলোচনা হয়েছে। খলিলজাদ জানান, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তালেবানকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তাদের মিত্রদের ওপর হামলার জন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।

আফগানিস্তানে বর্তমানে ১৪ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। খালিলজাদ বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে চুক্তি অনুযায়ী সব কিছু চললে ১৩৫ দিনের মধ্যে ৫৪০০ মার্কিন সেনা পাঁচটি ঘাঁটি ছেড়ে চলে যাবে।’

তালেবানের এক মুখপাত্র বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে চুক্তির যে রূপরেখা খলিলজাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তা ঠিক আছে। বিবিসি জানায়, বাকি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্ভর করবে তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের শান্তিচুক্তির ওপর।

সোমবার সকালে আফগান প্রেসিডেন্টে মুখপাত্র সিদিক সিদিকি জানান, চুক্তিটি পর্যালোচনা করার পর প্রেসিডেন্ট তাতে নিজের মতামত দেবেন। এ ছাড়া তালেবান শান্তির ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কি না, সে বিষয়টিও সরকারকে নিশ্চিত হতে হবে।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে তালেবান শাসন চলে। তাদের শাসনামলে হামলা হয় টুইন টাওয়ারে। হামলার পর তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আফগানিস্তানে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা। ওই অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হলে ‘সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী’ হিসেবে আবির্ভূত হয় তালেবান। সূত্র : বিবিসি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা