kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাবেক কর্মকর্তার তথ্য

নেপালে রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছিল ভারতীয় ‘র’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেপালে রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছিল ভারতীয় ‘র’

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র) নেপালে রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেবকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছিল বলে দাবি করেছেন সংস্থাটির সাবেক স্পেশাল ডিরেক্টর অমর ভূষণ। সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর ‘ইনসাইড নেপাল’ গ্রন্থে তিনি এমনটি দাবি করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘র’-এর গুপ্তচরদের ভূমিকা শুধু বিভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য সৃষ্টিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ‘র’ সেখানে অত্যন্ত গোপনে কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তহবিলও গঠন করেছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি নিউজ অ্যান্ড অ্যানালিসিসে (ডিএনএ) গত সোমবার ‘ইনসাইড নেপাল’ গ্রন্থ বিষয়ে এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে ভারতের ‘র’ প্রতিবেশী নেপালে সাংবিধানিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজতন্ত্র অবসানে কার্যক্রম শুরু করেছিল। তাদের শত্রুভাবাপন্ন শক্তিগুলো যাতে নেপালকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করাই ছিল গুপ্তচরদের লক্ষ্য।

অমর ভূষণ ‘র’-এর পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরোর প্রধান হিসেবে ‘জীবনাথান’ নাম ধারণ করেছিলেন। রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেবের রাজতন্ত্র উত্খাতে ১৯৮৯-৯০ সালে ওই ব্যুরো শক্তি সঞ্চার করেছিল। এরপর রাজীব গান্ধীর সরকার নেপালে গণ-আন্দোলনকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নেপালের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ভারতের কয়েক দফা কূটনৈতিক কৌশলে ফল মেলেনি। নেপালে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেবকে বাধ্য করতে খাদ্য সরবরাহের ওপর ভারত অবরোধ আরোপ করেছিল। এরই মধ্যে ভারতের প্রভাব কমাতে নেপালের রাজা চীনের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। এটি ছিল ভারতের জন্য দ্বৈত সংকট। কারণ ভারত কখনো চায়নি তার প্রতিবেশীর ওপর চীনের পদচিহ্ন। শেষ পর্যন্ত নেপালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পড়েছিল ‘র’-এর প্রধান এ কে ভার্মার ওপর। তিনি তাঁর নেপাল অপারেশনে সেরা গোয়েন্দা ‘জীবনাথান’কে নিয়োগ করেন।

‘জীবনাথানের’ জন্য সেটি ছিল একটি আরাধ্য কাজ। কারণ ‘র’-এর পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরোকে গুপ্তচরবৃত্তি কার্যক্রমে এর আগে কখনো এত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ‘জীবনাথান’ নেপালে ‘র’-এর দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘র’-এর প্রধানকে আশ্বস্ত করেছিলেন, কূটনীতিকদের অসমাপ্ত কাজ তিনি সম্পন্ন করবেন।

‘ইনসাইড নেপাল’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে অন্য দলগুলোর সঙ্গে হাত মেলানোর জন্য মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল ওরফে প্রচণ্ডকে পটাতে ‘র’-এর উল্লেখযোগ্য সময় লেগেছিল। এরপর প্রচণ্ড ২০০৮ ও ২০১৬ সালে নেপালের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন। মাওবাদী নেতার সঙ্গে বৈঠক করে তাঁকে রাজি করাতে তাঁর বিপজ্জনক গোপন আস্তানায় ‘র’কে কয়েক মাস ও কয়েক দফা বৈঠক করতে হয়েছিল। ‘র’-এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচণ্ডের সন্দেহ ছিল। একবার এক বৈঠকে ‘জীবনাথান’কে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমরা রাজার শাসনে থাকি, নাকি জনগণের গণতন্ত্রে বাস করি, তা নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন?’ ‘র’-এর নেপাল অপারেশনের পর নেপালি দলগুলোর অনেক নেতাই ‘জীবনাথানের’ খোঁজ করেছিলেন। কিন্তু  তিনি চুপিসারে গায়েব হয়ে যান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা