kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পুলিশের ওপর হামলা

দূরনিয়ন্ত্রিত বোমার আলামত ধরে তদন্তে ভিন্নমাত্রা

গোয়েন্দা তালিকায় শতাধিক উগ্র মৌলবাদী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দূরনিয়ন্ত্রিত বোমার আলামত ধরে তদন্তে ভিন্নমাত্রা

ধারাবাহিকভাবে পুলিশের ওপর তিনটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িতরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তবে প্রতিটি হামলায় ব্যবহার করা বোমার আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়েছে গোয়েন্দারা। এতে মামলা তদন্তে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘বোমার আলামত ধরেই ঘটনায় জড়িতদের শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’

জানা গেছে, পাঁচ মাসে একজন অপরাধীও গ্রেপ্তার না হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাদের ওপরও কিছুটা বিরক্ত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। বিভিন্ন ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারলেও খোদ পুলিশের ওপর হামলাকারীরা কেন ধরা পড়ছে না—এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও পুলিশকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।  

তবে জঙ্গিদের পাশাপাশি তাদের সহযোগিতাকারী কয়েকটি উগ্র মৌলবাদপন্থী দলের সম্ভাব্য কয়েকজন নেতাসহ শতাধিক সন্দেহভাজনকে তালিকায় রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হামলার ঘটনায় জব্দ করা আলামত, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য যাচাই চলছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জঙ্গিবাদকে উসকে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতেই টার্গেট হচ্ছে পুলিশ। আগে থেকেই দেশে উগ্র মৌলবাদ ধারণকারী কয়েকটি ইসলামী দলের নেতারাই নেপথ্যে থেকে পুলিশের ওপর হামলায় জঙ্গিদের উৎসাহিত করছে। এ ক্ষেত্রে দেশের বাইরে থেকেও পরোক্ষাভাবে হামলাকারীদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় পল্টন, তেজগাঁও, শাহবাগ ও নিউ মার্কেট থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকাজে সহাযোগিতা করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আট সদস্যের একটি বিশেষ টিম তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। গতকাল এই টিমের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, পুলিশের ওপর হামলাকারীদের সম্পর্কে এরই মধ্যে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য যাচাই করে ঘটনায় জড়িত প্রকৃত আপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। যেন একজন নিরপরাধ ব্যক্তিও এ ঘটনায় শাস্তি না পায় সেটাই তাঁদের উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত পাঁচ মাসে পুলিশের ওপর তিনটি বোমা হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে বোমার আলামত, হামলার ধরন ও ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে।’

তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের ওপর হামলার সঠিক রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি। এসব ঘটনার বাইরে আগের সব সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত ও মামলাগুলোর অধিকাংশেরই চার্জশিট হয়েছে। কিছু মামলার বিচার হয়েছে, কিছু বিচারাধীন। সেই কারণে পুলিশের প্রতি হামলাকারীদের একটা প্রচণ্ড ক্ষোভ রয়েছে। সূত্র মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর সব হামলার ধরন একই। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবের ঘটনা থেকে এখন পর্যন্ত ইভেস্টিগেশনে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে বোঝা যায়, মূলত পুলিশকে টার্গেট করেই ওই হামলা চালানো হয়।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে দুটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের তৎপরতা বেশি। এর মধ্যে আনসার আল ইসলামের মাঠপর্যায়ের সদস্য থাকলেও বড় মাপের নেতা নেই তাদের। তবে জেএমবি এ ক্ষেত্রে সব জঙ্গি সংগঠন থেকে কিছুটা আলাদা। তারা মূলত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে অনেককেই পাওয়া গেছে, যারা শিবিরের নেতাকর্মী।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা