kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাসপোর্ট অফিসের সার্ভারে রোহিঙ্গাদের ডাটাবেইস যুক্ত হয়নি

ওমর ফারুক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাসপোর্ট অফিসের সার্ভারে রোহিঙ্গাদের ডাটাবেইস যুক্ত হয়নি

কোটি কোটি টাকা খরচ করে শত শত কর্মকর্তার অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি করা রোহিঙ্গাদের ডাটাবেইস এখনো যুক্ত হয়নি পাসপোর্ট অফিসের সার্ভারের সঙ্গে। ফলে রোহিঙ্গারা ভুয়া পরিচয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট করার সুযোগ পাচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের ধরা যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গাকে ধরা হয়েছে তাদের ভাষা শুনে এবং জেরা করে। ডাটাবেইসটি শুরু থেকে পাসপোর্ট অফিসের সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে তা করা হয়নি বলে তথ্য মিলেছে। তবে শিগগিরই এ ডাটাবেইস যুক্ত করা হচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।

২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেইস তৈরি শুরু হয়। বর্তমানে নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের ভেরিফিকেশন চলছে বলে জানান শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের পরিচয় শনাক্ত করতে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে এ প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের দু-একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কারণে পাসপোর্ট অফিসের সার্ভারে রোহিঙ্গাদের ডাটাবেইস যুক্ত করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের তথ্য পাসপোর্ট অফিসের সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ ছিল। বারবার চেষ্টা করা হলেও রহস্যজনক কারণে ওই কর্মকর্তারা বাধা দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মুনিম হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ডাটাবেইস পাসপোর্ট অফিসের সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সেটি সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পাসপোর্ট অফিসের সার্ভারের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ডাটাবেইস সংযুক্ত হয়ে যাওয়ার পর তারা কেউ বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে আর পাসপোর্ট করতে পারবে না।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ডাটাবেইসটি ব্যবহার না করার কারণে যদি ১০ জন রোহিঙ্গাও বাংলাদেশি পাসপোর্ট করার সুযোগ পেয়ে থাকে, তাহলে কী লাভ হলো এই ডাটাবেইস করে! আমাদের দেশের নাগরিকরা বিদেশে গেলে সেখান থেকে রেমিট্যান্স আসে। রোহিঙ্গারা কেন সেই সুযোগ পাবে? রোহিঙ্গারা গেলে বাংলাদেশের কী লাভ? উল্টো সেখানে গিয়ে কোনো অপরাধ করে ধরা পড়লে বাংলাদেশেরই সুনাম নষ্ট হবে।’

২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেইস তৈরি শুরু করা হয়। চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত দুই বছরে ১১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হলেও এ পর্যন্ত তা পাসপোর্ট অফিসের ডাটাবেইসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেইস পাসপোর্ট অফিসের সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত না হওয়ায় অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি সেজে পাসপোর্ট নিয়েছে। এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা নাগরিককে ভুয়া পাসপোর্ট করতে এলে অথবা বিদেশে যাওয়ার সময় বিমানবন্দর এলাকা থেকে আটক করে আশ্রয়শিবিরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে কতসংখ্যক রোহিঙ্গা পাসপোর্ট হাতে পেয়েছে এবং অন্য দেশে পাড়ি জমাতে পেরেছে তার তথ্য নেই কারো কাছে।

এ বিষয়ে শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (RRRC) কার্যালয় থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে শরণার্থী ও প্রত্যাবাসনের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ সামছু দ্দৌজা গতকাল বিকেলে টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসংক্রান্ত কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

সূত্র জানায়, তবে রোহিঙ্গাদের যে রেজিস্ট্রেশনগুলো হয়েছে সেগুলো ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে বর্তমানে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা