kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোহিঙ্গাদের মোবাইল সুবিধা বন্ধের নির্দেশ

ক্যাম্পের ব্যবহার করা ৮-৯ লাখ সিমের মালিকদের খুঁজে বের করা হবে

বিশেষ প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গাদের মোবাইল সুবিধা বন্ধের নির্দেশ

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুবিধা না পায় তা সাত দিনের মধ্যে নিশ্চিত করতে দেশের সব মোবাইল ফোন অপারেটরকে ‘জরুরি’ নির্দেশনা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। পাশাপাশি মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় বিষয়গুলোও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। 

গত রবিবার এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. জাকির হোসেন খান গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান। তিনি বলেন, আগামী রবিবারের মধ্যেই মোবাইল ফোন অপারেটররা এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অপারেটরদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ছাড়া কারো কাছে মোবাইল ফোনের সিম বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। আর আশ্রিত রোহিঙ্গাদেরও এ দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার কথা নয়। এ অবস্থায় তারা সিম সংগ্রহ করলে বাংলাদেশি কারো মাধ্যমে অবৈধভাবেই তা করছে। আবার রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্রও সংগ্রহ করেছে। তবে যদি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সব মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গতকাল বিকেলে দুটি মোবাইল ফোন অপারেটরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে এসব তথ্য জানান

এই পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার বিকেলে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে বিটিআরসি বৈঠকে বসে এবং চার ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

এগুলো হচ্ছে—১. ওই এলাকায় থ্রিজি ও ফোরজি সেবা বিকেল ৫টা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে। গতকাল বিকেল থেকেই এটি কার্যকর হওয়ার কথা; ২. উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন সিম বিক্রি বন্ধ থাকবে; ৩. সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অংশে যে মোবাইল নেটওয়ার্ক রয়েছে, তা আজ মঙ্গলবারের মধ্যে বন্ধ করতে হবে বা যথাসম্ভব কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং ৪. উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে যে ৮-৯ লাখ সিম ব্যবহূত হচ্ছে, সেগুলোর কাদের নামে নিবন্ধিত, তা আগামী সাত দিনের মধ্যে যাচাই করে জানাতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকালের বৈঠকে বিটিআরসির দুজন কমিশনার ও সব মোবাইল ফোন অপারেটরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গত রবিবার মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছে পাঠানো বিটিআরসির চিঠিতে গত বছরের ৯ অক্টোবর পাঠানো একই বিষয়ে আগের চিঠির সূত্রে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গুরুত্ব বিবেচনা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসুরক্ষার স্বার্থে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যাতে মোবাইল সুবিধাদি না পায় এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আপনাদের সংস্থাসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু কমিশন থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকারী কমিটি এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যাপক হারে সিম/রিম ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এমতাবস্থায়, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোন প্রকার সিম বিক্রি, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কর্তৃক সিম ব্যবহার বন্ধ তথা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মোবাইল সুবিধাদি প্রদান না করা সংক্রান্ত সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বিটিআরসিকে অবহিতকরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হলো।’

এ বিষয়ে এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব.) বলেন, ‘মোবাইল অপারেটররা সব সময়ই বিটিআরসির নির্দেশনা মেনে চলে। এ ব্যাপারে তারা নিজেদের আয়ত্তের মধ্যে সম্ভব যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। এখানে আরো বলা দরকার যে এনআইডি ডাটা বেইসের সঙ্গে বায়োমেট্রিক নিশ্চিতকরণের পরেই কেবল মোবাইল সিম সক্রিয় করা যায়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা