kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সবিশেষ

৩৮ লাখ বছর আগের মাথার খুলি!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩৮ লাখ বছর আগের মাথার খুলি!

ইথিওপিয়ায় প্রায় ৩৮ লাখ বছর আগের একটি মাথার খুলি পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রথম দিকের মানুষের মতো দেখতে এপ প্রজাতির পূর্বজ। নতুন এ নমুনাটির বিশ্লেষণ এপ প্রজাতির বানর থেকে মানুষে রূপান্তরিত হওয়ার বিবর্তন প্রক্রিয়ার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

নতুন মতবাদ বলছে, লুসি নামে এপ প্রজাতির বানর থেকে প্রথম মানুষের উৎপত্তি হওয়ার যে মতবাদ প্রচলিত আছে, তা আবার বিবেচনা করার অবকাশ আছে। নেচার জার্নালে এ আবিষ্কার সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

ইথিওপিয়ার আফার রাজ্যের মিল্লা জেলার মিরো দোরা এলাকায় মাথার খুলিটি খুঁজে পান অধ্যাপক ইয়োহানেস হাইলি সেলাইসি। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়োর ক্লিভল্যান্ড মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত এ বিজ্ঞানী বলেছেন, তিনি সঙ্গে সঙ্গেই জীবাশ্মটির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমি নিজেই নিজেকে বলি, আমি যা দেখছি সেটি কি আসলেই সত্যি? তারপর হঠাৎই আমি লাফিয়ে উঠি এবং বুঝতে পারি যে এটিই আমার সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল।’

অধ্যাপক হাইলি সেলাইসি বলেন, মানুষের পূর্বপুরুষ হিসেবে পরিচিত এপ প্রজাতির এ পর্যন্ত পাওয়া নমুনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে এটি। ওই প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম অস্ট্রালোপিথিকুস আনামেনসিস—সবচেয়ে পুরনো অস্ট্রালোপিথিসিন, যা প্রায় ৪২ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে বাস করত।

ধারণা করা হয়, অস্ট্রালোপিথিকুস আনামেনসিস ছিল আরো উন্নত প্রজাতি, যা অস্ট্রালোপিথিকুস আফারেনসিস নামে পরিচিত তার সরাসরি বংশধর। এ উন্নত প্রজাতিটি প্রাথমিক মানুষের প্রথম জেনাস বা বর্গ বা দল, যা হোমো নামে পরিচিত ছিল, তাদের পূর্বজ। বর্তমানে বেঁচে থাকা মানুষের বর্গকেও হোমো বলা হয়।

অধ্যাপক হাইলি সেলিইসি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে, মানুষের পূর্বপুরুষ হিসেবে আফারেনসিসের নাম আসত সবার আগে, কিন্তু আসলে আগের সেই অবস্থানে নেই আমরা। এখন আমাদেরকে ওই সময়ে বেঁচে থাকা সব প্রজাতিকেই বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে, আসলে প্রথম মানুষের সঙ্গে কোনটির সবচেয়ে বেশি মিল ছিল।’

অধ্যাপক হাইলি সেলাইসি মানব বিবর্তন নিয়ে কাজ করা গুটি কয়েক আফ্রিকান বিজ্ঞানীর মধ্যে একজন। এখন তিনি বেশ পরিচিতি পেলেও এ অধ্যাপক স্বীকার করেছেন, ‘যোগ্য আফ্রিকান গবেষকদের জন্য পশ্চিমাভিত্তিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে গবেষণার তহবিল পাওয়া বেশ দুঃসাধ্য। আমাদের উদ্ভবের সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগ জীবাশ্মই আফ্রিকায় পাওয়া যায়। আর আমার মনে হয়, আফ্রিকানদের তাদের নিজেদের মহাদেশে থাকা এসব সম্পদ ব্যবহারে সক্ষমতা পাওয়া উচিত।’ সূত্র : বিবিসি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা