kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিলেটে ভাঙা সড়কে জনদুর্ভোগ

সিলেট অফিস   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিলেটে ভাঙা সড়কে জনদুর্ভোগ

পিচঢালা সড়কের স্থানে স্থানে ভাঙাচোরা। বিটুমিন উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যানবাহন চলছে ঝাঁকি খেয়ে। ধীরগতির চলাচলের কারণে প্রায়ই লেগে যায় যানজট। আবার ভাঙা অংশ এড়াতে চালকরা সুযোগ পেলেই বিপরীত পাশের লেনে চলে যায়। এতে করে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শঙ্কাও রয়েছে। সিলেট মহানগরের সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের তিনটি অংশে দীর্ঘদিন ধরেই এই পরিস্থিতি চলছে।

গতকাল সোমবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের নগরের পাঠানটুলা পয়েন্টসংলগ্ন সড়ক, মদিনা মার্কেট-পাঠানটুলার মধ্যবর্তী লতিফ মঞ্জিলের সামনের সড়ক এবং মদিনা মার্কেট পয়েন্টে সড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এসব জায়গায় ভাঙার কারণে গাড়ি, অটোরিকশা, রিকশাসহ শত শত যানচলাচল করছে ধীর গতিতে। তা ছাড়া ড্রেনের পানি সড়কে উঠে আসায় যানবাহন চলার সময় ছিটকে আসা পানিতে অনেক সময় পথচারীদের কাপড় নোংরা হচ্ছে। বিশেষ করে লতিফ মঞ্জিলের সামনের এবং পাঠানটুলা পয়েন্টের কাছে ভাঙা অংশে রোদ-বৃষ্টি সব সময় পানি জমে থাকে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ে পথচারীরা।

নগরের মদিনা মার্কেট হাওলদারপাড়ার বাসিন্দা আইনজীবী রণেন সরকার রনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি এ অবস্থায় রয়েছে। মদিনা মার্কেট থেকে কেউ আম্বরখানা কিংবা বন্দরবাজার যেতে চাইলে এই তিনটি অংশ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন দুটি জেলার হাজার হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু এটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, আধাঘণ্টা বৃষ্টি হলেই সড়কের এই তিনটি স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তখন যানবাহন চলাচল করতে পারে না। মূলত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আর রাস্তায় পানি জমে থাকায় পিচ উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়।

নগরের পাঠানটুলার বাসিন্দা রীতা দাস বলেন, ‘মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতে দুপুরে বের হয়েছি। ফুটপাত ধরে হাঁটছিলাম। পাশ দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় রাস্তায় জমে থাকা ময়লা পানি এসে জামা নোংরা করে দেয়। এখন এ অবস্থায় স্কুলে যাব, না ফিরে এসে কাপড় চেঞ্জ করে যাব বুঝতে পারছিলাম না। হাতে সময় কম থাকায় বাধ্য হয়েই এ অবস্থায় স্কুলে যেতে হয়েছে।’

এলাকার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর অন্যতম এ সড়কের পাশে পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়, স্কলার্সহোম, শাহজালাল জামিয়া কামিল মাদরাসাসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের অবস্থান। মদিনা মার্কেট এলাকায় একটি বড় বাজারও রয়েছে। এ ছাড়া সড়কটি দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডেও যেতে হয়। অথচ সড়কটি মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

সিটি করপোরেশনের ভেতর দিয়ে গেলেও এটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতাধীন সড়ক। বিষয়টি নিয়ে সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ এই সড়কের কয়েক জায়গায় ভেঙেছে। বাকিটা ঠিকই আছে। মূলত সিটি করপোরেশন ড্রেনের কাজ শুরুর পর ড্রেনের পানি উপচে পড়ে রাস্তার ক্ষতি করেছে।’ তার পরও যেসব জায়গায় বেশি ভাঙে সেখানে ইট সলিং করে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের কাজ সম্পন্ন হলে আমরা এসব স্থানে সংস্কারের কাজে হাত দেব।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা