kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাকৃবি গবেষকদলের সাফল্য

গবাদি পশুর ব্রুসেলোসিস রোগের টিকা উদ্ভাবন

বাকৃবি প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গবাদি পশুর ব্রুসেলোসিস রোগের টিকা উদ্ভাবন

দেশে প্রথমবারের মতো গবাদি পশুর ব্রুসেলোসিস রোগের টিকা উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। প্রাণীর প্রজননতন্ত্রে সংক্রমিত হয়ে গর্ভপাত, বন্ধ্যত্ব ও মৃত বাচ্চা প্রসবজনিত জটিলতা সৃষ্টিকারী ওই রোগের টিকা উদ্ভাবনে গবেষকদলটি প্রায় দেড় বছরের গবেষণায় এই সফলতা পেয়েছেন। প্রাণিদেহে এই টিকা আশানুরূপ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হলে তিন বছরের মধ্যে এটি বাংলাদেশে বাজারজাত করা হবে। গতকাল সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান ও তাঁর সহযোগী গবেষকরা সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। গবেষকদলের অন্য সদস্যরা হলেন ডা. আব্দুল্লাহ আল মারুফ, ডা. ফারজানা ইয়াসমিন, ডা. সুকুমার রায় ও ডা. আনন্দ চৌধুরী।

গবেষকরা বলেন, ‘ব্রুসেলোসিস প্রতিরোধে আমরা বাংলাদেশের গবাদি পশুতে ব্রুসেলা বায়োভার-৩ শনাক্ত করে সেখান থেকে হিট কিলড ভ্যাক্সিন তৈরি করেছি। গবেষণা কার্যক্রমে আমরা গর্ভপাত ঘটেছে এমন গাভি থেকে মৃত বাচ্চা ও গর্ভফুল নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করেছিলাম। পরে এসব নমুনা থেকে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক

পদ্ধতি অবলম্বন করে কালচারের মাধ্যমে জীবাণু আলাদা করি। পরে সেই জীবাণুকে নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে অকার্যকর করা হয় যেন তা প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টি করতে না পারে। টিকা হিসেবে এর কার্যকারিতা দেখার জন্য অকার্যকর জীবাণু গিনিপিগের শরীরে এটি প্রবেশ করানো হয়। সাত দিন পর পর ৯ সপ্তাহ পর্যন্ত ফল রেকর্ড করা হয়। দেখা যায়, দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এই টিকা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে থাকে। এটি চতুর্থ সপ্তাহে সর্বোচ্চ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। এরপর এটির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে এবং নবম সপ্তাহে এর কোনো প্রতিরোধক্ষমতা পাওয়া যায়নি।

টিকা বাজারজাতকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর বলেন, উদ্ভাবিত টিকা আরো কার্যকর এবং মানসম্মতভাবে তৈরি করার জন্য গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে তিন বছরের মধ্যে এটি বাংলাদেশে বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা