kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আসামি ধরতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে পেটাল পুলিশ

সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এসপির

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




আসামি ধরতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে পেটাল পুলিশ

আসামি ধরতে গিয়ে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামকে মারধর করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাঁচবিবির উঁচনা গ্রামের লুত্ফর রহমানের ছেলে জহুরুলকে রবিবার বিকেলে পাঁচবিবি উপজেলার উঁচনা মাদরাসা মাঠে মারধর করে পুলিশ।

আহত ছাত্রলীগ নেতার বড় ভাই লাইজুর রহমান হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, রবিবার বিকেল ৫টার দিকে উঁচনা দাখিল মাদরাসা মাঠে জহুরুল ফুটবল খেলতে যান। এ সময় একজন সোর্সসহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আমিরুলের নেতৃত্বে পাঁচজন ওই এলাকা থেকে আব্দুল মজিদ নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করলে তাঁর স্বজনরা সমবেত হয়ে কান্নাকাটি করে। জহুরুল এ দৃশ্য দেখতে গেলে গোয়েন্দা পুলিশের দল নাম জিজ্ঞেস করেই তাঁকে হেলমেট, বেল্ট ও হাতকড়া

দিয়ে বেপরোয়া পেটাতে শুরু করে। এতে তাঁর নিচের পাটি থেকে দাঁত আলাদা হয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাঁকে হেলমেট ও হাতকড়া পরা অবস্থায় মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের হাটখোলায় যায়। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের অন্য এক কর্মকর্তার মাধ্যমে ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া হোসেন রাজার সুপারিশে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে জহুরুলকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা আধুনিক হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৪ নম্বর কেবিনে ভর্তি থাকা আহত ছাত্রলীগ নেতা জহুরুল ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসে বক্তব্য নিতে যান কালের কণ্ঠ’র জেলা প্রতিনিধি আলমগীর চৌধুরী, প্রথম আলোর আক্কেলপুর প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের হারুনুর রশিদ, একুশে টিভির শফিকুল ইসলাম, সময় টিভির শাহিদুল ইসলাম সবুজ এবং এসএ টিভির মোয়াজ্জেম হোসেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি নিতে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মমিনুল হক পুলিশ সুপার সালাম কবিরের দোতলা অফিসে যান। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ সুপার নিচে গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শকের অফিসকক্ষে এসে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কী শুরু করেছেন? ছোট্ট একটা ঘটনাকে এত পেঁচাচ্ছেন কী জন্য? কী এমন ঘটনা ঘটেছে যে দল বেঁধে আপনারা উঠেপড়ে লেগেছেন?’ তিনি সাংবাদিকদের আরো বলেন, ‘আপনারা কে কোথায় মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে যাতায়াত করেন সবই আমার জানা আছে। আমিও দেখব কিভাবে আপনারা চলাফেরা করেন।’ এ সময় সেখানে জয়পুরহাট পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান আকস্মিকভাবে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর কথায় কোনো পাত্তা না দিয়ে উল্টো তাঁকেও ধমক দিয়ে পুলিশ সুপার ওপরে চলে যান। এ ঘটনার প্রতিবাদে জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবে বিকেল ৫টায় সাংবাদিকরা এক জরুরি সাধারণ সভা ডেকেছেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা