kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

যেকোনো সময় দলের কাউন্সিল করতে প্রস্তুত

লায়েকুজ্জামান   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যেকোনো সময় দলের কাউন্সিল করতে প্রস্তুত

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুর আগে তাঁর ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর জি এম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ওই সময় এরশাদের স্ত্রী ও দলের কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি জি এম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান মানেন না। গত শনিবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন দলীয় প্রধানের পদ নিয়ে আবারও কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কে হবেন সেটা দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে ঠিক হবে।

রওশনের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জি এম কাদের। গতকাল রবিবার তিনি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, যেকোনো সময় জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব নির্ধারণে দলীয় কাউন্সিল করতে প্রস্তুত তিনি। এ ছাড়া ছেলে সাদ এরশাদকে স্বামীর শূন্য আসনে প্রার্থী করার বিষয়ে রওশনের অনড় অবস্থানের বিষয়েও কথা বলেছেন জি এম কাদের।

জি এম কাদের বলেন, ‘পার্টি যখন জাগতে শুরু করেছে ঠিক সেই সময় কিছু লোক বারবার দলের ভেতরে বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা করছেন। কেউ কেউ দলীয় চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে কথা বলেন। আমি তাঁদের উদ্দেশ্যে খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আছি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারেই। যেকোনো সময় পার্টির কাউন্সিল করতে প্রস্তুত। কাউন্সিলে দলের নেতাকর্মীরাই তাদের আস্থার নেতৃত্ব বেছে নেবে। কারো যদি চেয়ারম্যান হওয়ার ইচ্ছা থাকে তিনি কাউন্সিলে প্রার্থী হবেন।’

জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ক্ষমতাবলে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাঁকে চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করে গেছেন জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘পার্টি নেতৃত্বের সর্বোচ্চ ফোরাম আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা আমার সঙ্গে মিলে কাজ করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এর আগেও একবার রওশন এরশাদের নাম দিয়ে চেয়ারম্যান পদ নিয়ে একটি উড়োচিঠির মতো ফেসবুকে ছাড়া হয়। সেখানে কয়েকজন দলীয় নেতার নাম ছিল। যাঁদের নাম ছিল তাঁদের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে আমাকে বলেছেন যে তাঁরা চেয়ারম্যান পদ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি।’ পদ নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তিনি উড়িয়ে দেন। জি এম কাদের বলেন, ‘রওশন এরশাদ আমার মাতৃতুল্য। তাঁকে আমি শ্রদ্ধা করি। তিনি অভিভাবক আছেন, অভিভাবক হয়েই থাকবেন। জাতীয় পার্টি চলবে সংগঠনের ধারায়, গঠনতন্ত্র অনুসারে এরশাদের আদর্শ ধারণ করে।’

এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর (সদর) আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘শুনেছি কেউ নাকি তাঁর সন্তানকে প্রার্থী করার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে থাকা অবস্থায় এটা বলা যায় না, এটা নৈতিকতাবিরোধী। রংপুরে যাঁরা প্রার্থী হতে চান তাঁরা সবাই এরশাদের সন্তানতুল্য। এরশাদ পরিবারের অনেকেই প্রার্থী হতে চাইছেন। এটা আমারও পরিবার। তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে আমি কোনো আত্মীয়র কথা প্রকাশ্যে বলতে পারি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় পার্টির একটি পার্লামেন্টারি বোর্ড আছে, প্রার্থীরা সেখানে আবেদন করবেন। বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। বোর্ডকে বাদ দিয়ে দলীয় কোনো নেতার পক্ষে একা সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়, বোর্ডের সদস্যদের উপেক্ষা করে নেতৃস্থানীয় কারো প্রকাশ্যে কথা বলাও ঠিক না।’

উপনির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি কি আত্মীয়তার বা পরিবারের গণ্ডি থেকে বের হতে পারবে—এমন প্রশ্ন করা হলে জি এম কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টির দলীয় মনোনয়ন পেতে হলে কিছু বিষয় থাকতে হবে, সেটা আমরা ঠিক করে দিয়েছি। দল ও নির্বাচনী এলাকার জনগণের কাছে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং দলে তাঁর অতীত ত্যাগ, বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যতে তাঁর পক্ষে দলকে কতটা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব—এগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। শুধু এরশাদের আত্মীয় হলেই হবে না। প্রার্থীকে তো জিতে আসতে হবে। তবে এটা ঠিক যে রংপুরবাসীর কাছে এরশাদ একটি ফ্যাক্টর, সে ক্ষেত্রে হয়তো এরশাদ পরিবারের গ্রহণযোগ্য কেউ প্রার্থী হলে তিনি কিছুটা সুবিধা পাবেন।’ 

কেন্দ্র থেকে কোনো প্রার্থীকে চাপিয়ে দেওয়া হলে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে জাতীয় পার্টিতে বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে বলে শোনা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জি এম কাদের বলেন, ‘হয়তো বিদ্রোহ হবে না, তবে পার্টি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এটা অস্বীকার করছি না। তৃণমূলকে মূল্যায়ন করতে না পারলে, তাদের উপেক্ষা করলে রংপুরে জাপাকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে আমি মনে করি। এটা আমাদের জন্য বড় এক অগ্নিপরীক্ষা।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা