kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ

বিয়ানীবাজারে আরেক ডাকাত নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ

টেকনাফে আলোচিত রোহিঙ্গা ডাকাত সরদার নুর মোহাম্মদ (৩৪) গতকাল রবিবার ভোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত নুর মোহাম্মদকে দুর্ধর্ষ ডাকাত, রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বঘোষিত নেতা ও ইয়াবা গডফাদার দাবি করে পুলিশ বলছে, তিনি একাধিক মামলার পলাতক আসামি, বিশেষ করে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।

সিলেটের বিয়ানীবাজারে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ডাকাত সরদার মিসবাহ উদ্দিন। গতকাল ভোরে শেওলা সেতু এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ মিসবাহর লাশ উদ্ধার করে। মিসবাহ উদ্দিনের বাড়ি জকিগঞ্জ উপজেলার শরিফাবাদ এলাকার রোহার সাঙ্গন।

টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বরাত দিয়ে ইউএনবি জানায়, গতকাল ভোর পৌনে ৬টার দিকে টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম এস দোহার নেতৃত্বে বিশেষ পুলিশের দল গ্রেপ্তার করা নুর মোহাম্মদকে নিয়ে উপজেলার হ্নীলা জাদিমোরা ২৭নং ক্যাম্পের পাহাড়ি জনপদের বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে অভিযানে যায়। ওই সময় রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠন ও মাদক কারবারি সিন্ডিকেটের সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে নুর মোহাম্মদকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

ওসির দাবি, ওই সময় নুর মোহাম্মদ বাহিনীর গুলিতে থানার পরিদর্শকসহ (তদন্ত) তিনজন আহত হন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা গভীর পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নুর মোহাম্মদকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি জানান, ঘটনাস্থল তল্লাশি করে চারটি এলজি, একটি থ্রি কোয়ার্টার, ১৮ রাউন্ড গুলি, ২০ রাউন্ড খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

আমাদের বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, জকিগঞ্জ উপজেলার শরিফাবাদ এলাকার আব্দুল মালিকের ছেলে মিসবাহ উদ্দিনকে পুলিশ গত শনিবার জাফলং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার শিকারপুর এলাকায় ডাকাতির মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিসবাহ ডাকাতির কথা এবং তাঁর কাছে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর সেই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ অস্ত্র উদ্ধার করতে দুবাগের শেওলা সেতুসংলগ্ন এলাকায় মিসবাহকে নিয়ে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা তাঁর সহযোগী ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই সময় পুলিশও পাল্টাগুলি চালালে ঘটনাস্থলে মিসবাহ নিহত হন এবং অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, অত্যাধুনিক কাটার যন্ত্র ও অনেক রামদা উদ্ধার করে।

বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক জানান, অস্ত্র উদ্ধার করতে ডাকাত মিসবাহকে নিয়ে শেওলা সেতু এলাকায় অভিযানে গেলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া একদল ডাকাত পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশ পাল্টাগুলি ছোড়লে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ডাকাত মিসবাহ উদ্দিনের গুলিবিদ্ধ লাশ এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা