kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দেখা নেই বিএনপির সেই ‘প্রার্থীদেরও’

শফিক সাফি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দেখা নেই বিএনপির সেই ‘প্রার্থীদেরও’

রাজধানীতে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারে জনসচেতনতায় কর্মসূচি ঘোষণা করেও তা বাস্তবায়ন করতে পারছে না বিএনপি। বিশেষত এই কর্মসূচি সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন পাওয়া ১৫ প্রার্থী এই সামাজিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে পারেননি। এমনকি মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর প্রার্থীদেরও দেখা মেলেনি।

ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে জোরালোভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশনা ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। বাস্তবে তাঁর সেই নির্দেশনাকেও গুরুত্ব দেননি বেশির ভাগ নেতা। তবে বিএনপির হাতে গোনা কয়েকজন সিনিয়র নেতা, দুই মেয়র প্রার্থী এবং মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কয়েকজন নেতাকে সপ্তাহে দুই-তিন দিন ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচিতে দেখা গেছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিণের নেতারাসহ কাউন্সিলর প্রার্থীরা চেষ্টা করছেন কর্মসূচি পালন করতে। কিন্তু সামাজিক কর্মসূচিতেও সরকার নানাভাবে বাধা দিচ্ছে। এমনকি প্রতীকী হিসেবে আমিও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে বাধা দেওয়া হয়েছে। নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করেই কাজ করতে হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুকে সামনে নিয়ে সারা দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে চলা সমাবেশের কর্মসূচি স্থগিত করে ডেঙ্গু সচেতনতায় সামাজিক কার্যক্রম ঘোষণা করা হয়। গত ২৯ জুলাই গুলশানে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দেন, বিএনপি রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি চালাবে। তবে ১ আগস্ট কর্মসূচির শুরুতেই বাধার মুখে পড়ে বিএনপি। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে বাধা দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, জনসচেতনতা কর্মসূচিতে পুলিশি বাধার প্রসঙ্গ নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির নেতারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নির্দেশনা দেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি নেতা এবং কাউন্সিলররা এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন। আর পুরো প্রক্রিয়া সমন্বয় করবেন গত জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয় আসনে মনোনয়ন পাওয়া দলীয় প্রার্থীরা।

জানা গেছে, ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রমে সালাহ উদ্দিন আহমেদ (ঢাকা-৪), মির্জা আব্বাস (ঢাকা-৮), আফরোজা আব্বাস (ঢাকা-৯) ও সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিকী (ঢাকা-১৪) স্থানীয়ভাবে শো-ডাউনভিত্তিক কর্মসূচি পালন করলেও পরে আর তাঁদের মাঠে দেখা যায়নি। এ ছাড়া নবীউল্লাহ নবী (ঢাকা-৫), আব্দুল মান্নান (ঢাকা-১০), আহসান উল্লাহ হাসান (ঢাকা-১৬), সাইফুল আলম নীরব (ঢাকা-১২) ও আবদুস সালামের (ঢাকা-১৩) চোখে পড়ার মতো তৎপরতা ছিল না।

সূত্র জানায়, আব্দুস সালাম গত জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে আসা-যাওয়ার মধ্যে রয়েছেন। আব্দুল মান্নান বার্ধক্যজনিত কারণে অধিকাংশ সময় বাসায়ই অবস্থান করেন। নবীউল্লাহ নবী, আহসান উল্লাহ হাসান, সাইফুল ইসলাম নীরবকে বড় ধরনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ছাড়া মাঠে দেখা যায় না। আবার ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী শামীম আরা বেগম পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব রয়েছেন।

তবে বিজেপির ঢাকা-১৭ আসনের আন্দালিব রহমান পার্থর দুস্থদের মাঝে মশারি বিতরণ কর্মসূচি কিছুটা সাড়া জাগিয়েছে। গণফোরাম থেকে ঢাকা-৬ আসনে নির্বাচন করা সুব্রত চৌধুরী ডেঙ্গু সচেতনতার লিফলেট দিয়েছেন বলে দাবি করেন। আর মোস্তফা মহসিন মন্টু (ঢাকা-৭), জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. মো. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের শহীদ উদ্দিন মাহমুদকে (ঢাকা-১৮) কোনো ইস্যুতেই মাঠে দেখা যায়নি।

সালাহ উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করছি। যাঁরা পারছেন না তাঁদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন নানাভাবে তাঁদের নাজেহাল করছে।’ সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার এলাকায় পাঁচটি ওয়ার্ডে প্রতিদিনই লিফলেট বিলি ও সচেতনতার বিষয় তদারক করছি। নেতাকর্মীরা কাজ করছে।’

পবিত্র হজব্রত পালনে সৌদি আরবে অবস্থানকালে শামীম আরা বেগম টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। দেশে ফেরার পর নিজেই কর্মসূচি পালনে মাঠে নামবেন। সুব্রত চৌধুরী জানান, তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় তিন দিন ডেঙ্গু সচেতনতার লিফলেট বিলি করেছেন।

আফরোজ আব্বাসকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। আর নবী উল্লাহ নবী, আব্দুল মান্নান, আহসান উল্লাহ হাসান ও সাইফুল আলম নীরবের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

৫৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মনোনয়ন পাওয়া কাউন্সিলর হাজি মো. মোজাম্মেল বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করতে পারিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে।’ ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া আব্দুল কাদের বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে দেওয়া গেঞ্জি পরে কর্মসূচি করতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এখন সিটি করপোরেশনের কর্মসূচিকে সামনে রেখে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে হচ্ছে।’

তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, আব্দুল্লাহ আল নোমান, রুহুল কবীর রিজভী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ কয়েকজন নেতাকে রাজধানীর কয়েকটি স্থানে ডেঙ্গু সচেতনতার লিফলেট বিলি ও শোভাযাত্রায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা