kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার এমপিরা মাঠে নামেননি

তৈমুর ফারুক তুষার   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকার এমপিরা মাঠে নামেননি

রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগ ছড়াচ্ছে কয়েক মাস ধরেই। ডেঙ্গু মোকাবেলা এবং এই ভাইরাসের বাহক মশা এডিস নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এর জন্য সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এমন অবস্থায়ও মাঠে নামেননি ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা (এমপি)। ওই এমপিরা আওয়ামী লীগ এবং এর মিত্র দলগুলো থেকে নির্বাচিত। এখনো ডেঙ্গুর বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেননি ওই জনপ্রতিনিধিরা। তবে কয়েকজন এমপি আওয়ামী লীগ কিংবা ১৪ দল ঘোষিত কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে নিজেদের দায় সেরেছেন।

সংসদ সদস্যদের মাঠে না নামার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাদের বলা হয়েছিল। কিন্তু তাদের সেভাবে মাঠে দেখা যায়নি। এটা সত্য।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমপিরা মাঠে নামেননি এটা ঠিক নয়। হয়তো তাঁরা মাঠে নেমেছেন কিন্তু মিডিয়ার চোখে পড়েনি। কিন্তু তাঁরা কাজ করেছেন।’

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় গত ৬ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডেঙ্গুবিরোধী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে সংগঠনের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে ওই কর্মসূচি পালনের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আওয়ামী লীগ তৎপর হলেও পরে ঈদুল আজহার কারণে তা থমকে যায়। ঈদের পরপরই ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবসের নানা কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগকে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে ডেঙ্গুসংক্রান্ত কর্মসূচি নিয়ে সেভাবে মাঠে নামা হয়নি তাঁদের।

আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরের বেশ কয়েকটি থানা ও ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। ওই সব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ও কয়েকজন সংসদ সদস্যকে অংশ নিতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগও কয়েকটি স্থানে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করে। তবে সংসদ সদস্যরা উদ্যোগী হয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আয়োজন করেননি। এমনকি জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁদের অংশ নিতে দেখা যায়নি।

ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫টি সংসদীয় আসন আছে (ঢাকা-৪ থেকে ঢাকা-১৮)। আসনগুলোর মধ্যে ১২টিতে আওয়ামী লীগ, দুটিতে জাতীয় পার্টি এবং একটিতে ওয়ার্কার্স পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ঘোষিত ডেঙ্গুসংক্রান্ত কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন গত ৬ আগস্ট তাঁর নির্বাচনী এলাকা মতিঝিলে ১৪ দলের ডেঙ্গুসংক্রান্ত একটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। ৭ আগস্ট মিরপুর মাজার রোডে আওয়ামী লীগ ঘোষিত এক কর্মসূচিতে অংশ নেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক। তবে আসলামুল হকের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন ডেঙ্গুর বিষয়ে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছেন। বিভিন্ন মহল্লার অলিগলিতে নিজস্ব উদ্যোগে মশার ওষুধ ছিটিয়েছেন তিনি। ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আওয়ামী লীগ ঘোষিত একাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিচ্ছন্নতা অভিযান কিংবা জনগণকে সচেতন করতে কোনো কর্মসূচি নিয়ে অন্য সংসদ সদস্যরা এখনো মাঠে নামেননি। ঢাকা-৪, ঢাকা-৫, ঢাকা-৬, ঢাকা-৭, ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্যদের কাউকে মাঠে দেখা যায়নি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা