kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার বিকেলে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এদিকে একই দিন এর আগে মিন্নিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। মিন্নিকে জামিন দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল দুপুরে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপক্ষ এ আবেদন করে। আজ সোমবার আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। এই আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে মিন্নি কারাগার থেকে বের হতে পারবেন কি না।

নিয়ম অনুযায়ী হাইকোর্টের জামিনের রায়ের কপি এখন বরগুনা আদালতে যাবে। ওই আদালতে জামিনের আদেশ পৌঁছানোর পর আসামিপক্ষ (মিন্নি) থেকে বরগুনার আদালতে জামিননামা দাখিল করতে হবে। এরপর ওই আদালত এই রায়ের কপি সত্য কি না, তা যাচাই করবেন। যাচাই-বাছাই শেষে তা কারাগারে পাঠাবেন। কারা কর্তৃপক্ষও এই জামিনের আদেশ সঠিক কি না, তা যাচাই করবে। জামিনের আদেশ সত্য হলে এবং এই আদেশ আপিল বিভাগে যদি স্থগিত না হয়ে থাকে, তবে মিন্নিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেবে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে দ্রুত মিন্নির কারামুক্তির জন্য তাঁর আইনজীবীদেরও তৎপর হতে হবে। জামিনের আদেশ বরগুনা আদালতে পৌঁছানোর পর জামিননামা দাখিল করা এবং তা দ্রুত কারাগারে পাঠানোর উদ্যোগ তাঁদেরই নিতে হবে।

এদিকে হাইকোর্টের রায় প্রকাশিত হওয়ার পরপরই ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সুফিয়া খাতুনকে দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন প্রস্তুত করে তা আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করেন অ্যাডভোকেট সুফিয়া খাতুন।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৯ আগস্ট এক রায়ে মিন্নির জামিন মঞ্জুর করেন। গতকাল দুপুরে হাইকোর্টের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে জামিন মঞ্জুরের বিষয়ে বলা হয়—এক. মামলার এজাহারে বর্তমান আসামিকে (মিন্নি) ১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সংবাদদাতা এজাহারে উল্লেখ করেছেন যে তিনি ঘটনার বিষয়ে ভিকটিম রিফাতের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনেছেন। দুই. গ্রেপ্তারের আগে আসামিকে (মিন্নি) দীর্ঘ সময় স্থানীয় পুলিশ লাইনে আটক রাখা, তিন. আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ না পাওয়া, চার. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আগেই অর্থাৎ রিমান্ডে থাকা অবস্থায় গণমাধ্যমের সামনে স্থানীয় পুলিশ সুপারের বিভিন্ন বক্তব্য; যথা—‘আসামি দোষ স্বীকার করেছে, মিন্নি শুরু থেকেই যারা হত্যাকারী ছিল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে এবং এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আগেও সে পরিকল্পনার জন্য যা যা দরকার হত্যাকারীদের সঙ্গে মিটিং করেছে’ এবং পাঁচ. আসামি একজন মহিলা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারার ব্যতিক্রমের সুবিধা পেতে পারেন। এসব কারণে তাঁকে জামিন দেওয়া ন্যায়সংগত মনে করছি। আদালত বলেন, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে জামিননামা সম্পাদনের শর্তে জামিন প্রদান করা হলো। আসামি কর্তৃক অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের সুবিধা অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আদালত আইনের নির্ধারিত নিয়মে জামিন বাতিল করতে পারবেন।

২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ূন কবির গতকাল বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বরগুনার বিশেষ শাখার পুলিশ সুপারের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, তদন্ত শেষে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এর আগে গত ২২ আগস্ট আদালত চার্জশিট দেওয়ার জন্য ৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

অভিযোগপত্রে থাকা ২৪ জনের সবার নাম জানা যায়নি। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তাঁরা হচ্ছেন রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী, চন্দন সরকার, রাব্বি আকন, হাসান, অলি, টিকটক হৃদয়, সাগর, কামরুল ইসলাম সাইমুন, আরিয়ান শ্রাবণ, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, তানভীর, নাজমুল হাসান, রাতুল সিকদার ও আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুসা বন্ড, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রায়হান ও রিফাত হাওলাদারকে এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। তিনি নিহত হওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করেছেন।

গত ২৬ জুন সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যা করে। গত ১৬ জুলাই রাতে মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পরদিন ১৭ জুলাই তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই গত ১৯ জুলাই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মিন্নি। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগের দিন ১৮ জুলাই দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন বরগুনার এসপি মারুফ হোসেন। এ অবস্থায় প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এবং পরে জেলা জজ আদালতে মিন্নির জামিনের আবেদন করা হলেও ওই দুই আদালতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়। এরপর হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা