kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাঁচ কারণে নদীতে আসছে না ইলিশ

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাঁচ কারণে নদীতে আসছে না ইলিশ

দিন কয়েক আগেও প্রায় খালি ট্রলার নিয়ে সাগর থেকে ফিরেছিল জেলেরা। খরচ পোষানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল তারা। কিন্তু বর্ষার পানি পড়তেই সাগরে এখন জেলেদের জাল ভরে আসছে ইলিশ। তবে উল্টো চিত্র দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে। ‘রুপালি শস্যের’ দেখা নেই এখনো।

জেলে ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তত পাঁচ কারণে এখনো নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। তাঁরা বলছেন, সাগরের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ইলিশ নদীতে আসতে দেরি হচ্ছে। ইলশেগুঁড়ি (ঝিরঝিরে) বৃষ্টিও কম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইলিশের পেটে ডিম আসার সময় পিছিয়ে গেছে। বর্ষণ কম হওয়ায় নদীর পানিও বাড়েনি। সাগর মোহনায় নদীতে জেগে ওঠা চর ইলিশের পথ আটকে দিচ্ছে।

মাছ ব্যবসায়ীরা বলছে, জুলাই থেকে নভেম্বরের শেষ অবধি ইলিশের মৌসুম। এ বছরের শুরু থেকেই মাছের আমদানিতে টান। সাগরে ধরা পড়া কিছু মাছ হিমাগারে থাকলেও সেগুলোর দাম

 চড়া। তা ছাড়া সাগরের মাছ সড়কপথে সরাসরি রাজধানী ঢাকায় চলে যাচ্ছে। তাই স্থানীয় বাজারে ইলিশের দাম অত্যন্ত চড়া। তবে আগামী সপ্তাহ থেকেই নদীগুলোতে ইলিশের দেখা মিলতে পারে বলে তারা ধারণা করছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ব্যবসায়ীরা বলছে, স্থানীয় বাজারে সাগরের ইলিশের তেমন চাহিদা নেই। তাই সেগুলো ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

আর স্থানীয় ক্রেতারা বলছে, সাগরের চেয়ে নদীর ইলিশের স্বাদ বেশি।

গত শুক্রবার বরিশাল শহরের সবচেয়ে বড় ইলিশের মোকাম পোর্ট রোড এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ইলিশের আমদানিও কম। দাম বেশির কারণে ক্রেতাসমাগমও কম। কেউ আবার ইলিশের আকার দেখে উল্টো পথ নিচ্ছে।

ক্রেতাদের আক্ষেপ, ভরা শ্রাবণেও বড় ইলিশের দেখা মেলেনি এ বাজারে। এখন ভাদ্রেও ইলিশ নেই।

পোর্ট রোড়ের বড়বাজারে মাছের আড়তের পাশেই মাছ নিয়ে বসে খুচরা বিক্রেতারা। তাদের দাবি, অন্য বছর এই সময় নানা মাপের ইলিশে বাজার ভরে যেত। কিন্তু এ বছর চিত্রটা কার্যত উল্টো। তারা বলছে, গত বছর এই বাজারে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ পাওয়া গেছে। ওই ইলিশের স্বাদই আলাদা। কিন্তু এ বছর সেখানে ৫০০-৭০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ মিলছেই না।

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে মাছ ধরেন শামীম শরীফ। তিনি বলেন, বর্ষা দেরিতে আসায় এমন হচ্ছে। এ ছাড়া যে ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ইলিশ সমুদ্র ছেড়ে নদীর মিষ্টি পানিতে ডিম পাড়তে ঢোকে সেই বৃষ্টির দেখা মিলছে না। তিনি বলছিলেন, কালাবদর নদীর মোহনায় চার ডুবোচর জাগায় ইলিশের পথ আটকে গেছে। এ কারণে কীর্তনখোলায় ইলিশ আসছে না।

পটুয়াখালীর রাঙাবালী উপজেলার চর মোন্তাজ ইউনিয়নের জেলে ইমাম সিকদার বলছেন, বঙ্গোপসাগরে ইলিশ পাচ্ছেন তাঁরা। তবে সাগরের পানি এখন বেশি গরম। নদীতে ইলিশ না আসার এটাও একটা কারণ। এ ছাড়া বৃষ্টি কম হওয়ায় নদীর পানিও বাড়েনি।

বরিশালের হিজলা উপজেলার কুয়াবাড়ি এলাকার জামাল হোসেন ইলিশ শিকার করেন মেঘনায়। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে না। আবার ঝিরঝিরে বৃষ্টিও নেই। এ কারণে নদীতে ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। তিনি বলছেন, সাগরে লঘুচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে অর্থাত্ যখন সম্ভাব্য ঝড়ের আভাস দিয়ে সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়, তখন নদীতে ইলিশ ধরা পড়ে।

যেসব কারণে নদীতে ইলিশ মিলছে না বলে জেলেরা দাবি করছে তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বরিশাল জেলা মত্স্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস। এ বিশেষজ্ঞ কালের কণ্ঠকে বলেন, মৌসুমে পূর্ণিমা-অমাবস্যার জো গেলেও এখন পর্যন্ত নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মেলেনি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মাছের পেটে ডিম আসার সময়ও পিছিয়ে গেছে। এখনো মাছের পেটে ডিম না আসায় ইলিশ এখনো নদীতে আসছে না। এ কারণে গেল কয়েক জোতে নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়নি। তবে কয়েক দিনের মধ্যে ডিম আসা শুরু হলে নদীর দিকে ছুটবে ইলিশ। তখন প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা