kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আসন্ন চসিক নির্বাচন

বিএনপি নেতারাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিএনপি নেতারাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন

একসময় চট্টগ্রামকে ‘বিএনপির ঘাঁটি’ বলা হতো। কিন্তু বিএনপির সেই শক্তিশালী অবস্থা অনেক দিন থেকেই নেই। সাম্প্রতিককালে কারারুদ্ধ দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে রাজনৈতিক কর্মসূচি দূরে থাক, স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যুতেও বিএনপি নেতারা এক হতে পারছেন না। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিভিন্ন নেতার দলাদলি, মামলা-মোকদ্দমায় সংগঠনের এই বেহাল। অনেকেই বলছেন, চট্টগ্রাম নগরে বিএনপি অনেকটাই কেন্দ্রীয় কর্মসূচিনির্ভর হয়ে পড়েছে। কয়েকজন নেতাকেই শুধু বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যায়, বেশির ভাগ নেতাই নিষ্ক্রিয়।

তবে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন ঘিরে কয়েকজন বিএনপি নেতার তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, সরকারবিরোধী কর্মসূচি পালনে যত না সক্রিয় নগর বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের নেতারা, এর চেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশি তৎপর হয়ে উঠেছেন চসিক নির্বাচন ঘিরে। আগামী বছরের প্রথম দিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হতে পারে। এই নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির কয়েকজন নেতা দলের নানা কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি সামাজিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে মাঠে রয়েছেন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন চসিক নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, চসিক নির্বাচন সামনে রেখে দলে যাতে বিশৃঙ্খলা না হয় সে জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশনায় নগরে সাংগঠনিক থানা ও ওয়ার্ডগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

তবে নেতারা বলেছেন, চসিক নির্বাচনে বিএনপি যে যাবে তা নিশ্চিত না হলেও নেতারা বসে নেই। নির্বাচন ঘিরে বিএনপি নেতাদের মধ্যেও এক ধরনের দৌড়ঝাঁপ রয়েছে। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এলাকায় অবস্থানের পাশাপাশি কেন্দ্রে বিভিন্নভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে তৎপর। তাঁরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। নগরের কয়েকজন নেতা এখন তৃণমূল কমিটির নেতাকর্মীদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগযোগ রাখতে শুরু করেছেন।

মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি মো. আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। বিএনপি নেতাদের দাবি, দুই থেকে তিন ডজনের বেশি মামলা-মোকদ্দমা মাথায় নিয়ে এই তিন নেতা মাঠে রয়েছেন। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি চসিক নির্বাচন ঘিরে তাঁরা এখন সক্রিয়। সেই সঙ্গে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডগুলোয়ও মনোনয়নপ্রত্যাশী তৃণমূল নেতারা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তবে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের চেয়ে নগর কমিটির কয়েকজন নেতা দৌড়ঝাঁপ করছেন বেশি।

নগর বিএনপি থেকে জোর দাবি উঠেছে এবার দল থেকে মেয়র পদে প্রার্থী দেওয়ার। সর্বশেষ দুটি নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছিল মোহাম্মদ মনজুর আলমকে। তিনি প্রথমবার ২০১০ সালের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনের কয়েক দিন আগে হঠাৎ বিএনপি থেকে মেয়র পদে সমর্থন পান। ওই নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামে তিনি আওয়ামী ঘরানার ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে রাজনীতিতে চমক সৃষ্টি করেছিলেন। নির্বাচনে বিজয়ের পর মনজুর আলমকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা হয়েছিল।

সর্বশেষ গত চসিক নির্বাচনে (২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল) মনজুর আলম দ্বিতীয়বার বিএনপির টিকিটে নির্বাচনে অংশ নেন। তবে এই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে পরাজিত হন। তবে ওই নির্বাচনে ফল ঘোষণার কিছু সময় আগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান মনজুর। সেই সঙ্গে রাজনীতি থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

আসন্ন চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে দল থেকে যোগ্য প্রার্থী চেয়েছেন নগর বিএনপির নেতারা। মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী নগর বিএনপির তিন নেতার মধ্যে ডা. শাহাদাত ও সুফিয়ান গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নগরের দুটি আসনে বিএনপির টিকিটে অংশ নেন। এর মধ্যে শাহাদাত চট্টগ্রাম-৯ এবং সুফিয়ান চট্টগ্রাম-৮ আসনে নির্বাচন করেছিলেন। তবে এই দুই নেতাই নির্বাচনে পরাজিত হন।

জানতে চাইলে মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেকোনো নির্বাচন আসলে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি আমরাও আতঙ্কিত হই। নির্বাচন মানে আমাদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা, হামলাসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন, হয়রানি করা। কিন্তু তার পরও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। আসন্ন চসিক নির্বাচনে দল যদি অংশগ্রহণ করে তাহলে আমি মেয়র পদে মনোনয়ন চাইব। নির্বাচন করার লক্ষ্যে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আমি বিভিন্ন এলাকায় কাজ করে যাচ্ছি।’

একই কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমরা চাই দলের ভেতরে ত্যাগী, যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতাদের মধ্য থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হোক। দলের বাইরে যেন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া না হয়, সেটা তৃণমূলেরও জোর দাবি। আমি নির্বাচন করতে আগ্রহী। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে দল থেকে যাকে প্রার্থী করা হবে আমরা সবাই তার পক্ষে কাজ করব।’

নগর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম বলেন, ‘দলের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে আসন্ন চসিক নির্বাচনে আমরা যাব কী যাব না। দল নির্বাচনে গেলে আমাদের দাবি, দলের বাইরে যেন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া না হয়। গতবারের মতো যেন আর ভুল না হয়।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা