kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পদ আছে গবেষণাগার আছে, নেই পদধারীরা

পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা অফিস

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পদ আছে গবেষণাগার আছে, নেই পদধারীরা

খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস আছে; কিন্তু লোক বলতে গেলে নেই। অফিসে ঢুকলে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। যদিও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণ জরিপ, দূষণকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই অফিসের।

এখানে ল্যাবরেটরি (পরীক্ষাগার) আছে দুটি। নিয়মিত কিছু বিষয়ের পরীক্ষা করার কথা, তথ্য পাঠানোর কথা নিয়মিত; কিন্তু এখানে কোনো কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছে না। বিভাগীয় এই অফিসে সর্বোচ্চ কর্মকর্তার পদটি উপসচিব পদমর্যাদার পরিচালকের পদ। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক না এসে পরিচালকের পদে আসেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। তাঁরা আবার দ্রুততম সময়ের মধ্যে বদলি হয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কেমিস্ট, টেকনিশিয়ান পদেও লোক নেই। অফিসের সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) অনুযায়ী জনবল থাকার কথা ৫৮ জন, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ৪১টি পদই শূন্য। বাকি ১৭ জনের মধ্যে প্রশিক্ষণ, প্রেষণ ও ছুটিছাঁটার হিসাব ধরলে বাস্তবে থাকেন পাঁচ থেকে ছয়জন।

খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের এই বিভাগীয় অফিসের নিজস্ব ভবন আছে। নাম পরিবেশ ভবন। নগরীর বয়রা এলাকার বিভাগীয় কমিশনারের অফিসসংলগ্ন বিশাল এলাকার মধ্যে দ্বিতল পরিবেশ ভবন। ২০০৫ সালে এই ভবনের যাত্রা শুরু হয়।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে এই অফিস ভবনের প্রধান ফটকে গেলে চোখে পড়ে সেবা তোরণ। ভেতরে প্রবেশ করলেই হেল্প ডেস্ক, কর্মকর্তাদের চেয়ার-টেবিল, সেবাপ্রত্যাশীদের বসার জায়গা। তবে সেবাপ্রত্যাশী বা সেবা প্রদানকারী কাউকে দেখা গেল না। ভবনজুড়ে একধরনের সুনসান নীরবতা। উপসচিব মর্যাদার পরিচালক সাইফুর রহমান খান সপ্তাহজুড়ে ঢাকায় কোনো এক সভায় আছেন বলে অফিস সহকারী জানান। সহকারী বায়োকেমিস্ট নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস আট সপ্তাহের প্রশিক্ষণে সাভার লোক প্রশাসন কেন্দ্রে রয়েছেন।

অফিসটিতে থাকার কথা আটজন পরিদর্শক; কিন্তু আছেন একজন, নাম হাসান আলী। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন চার-পাঁচজন ছাড়া কেউ অফিসে আসে না।’ এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গত ২৬ জুন পত্র মারফত জানানো হয়েছে। ওই পত্রে বলা হয়েছে, অফিসটিতে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৫৮ জন। এর মধ্যে ৪১টি পদই শূন্য। কর্মরত ১৭ জনের মধ্যে ছুটি, প্রশিক্ষণ, প্রেষণে দায়িত্ব পালন প্রভৃতি কারণে নিয়মিত মাত্র চার-পাঁচজন অফিসে হাজির হন।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণ জরিপ, দূষণকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা এই অফিসের একটি অন্যতম প্রধান কাজ। কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদটি শূন্য থাকায় কোনো অভিযান নেই, নিয়মিত কাজকর্মও নেই। এ ছাড়া নতুন স্থাপিত হতে যাওয়া শিল্প-কলকারখানার পরিদর্শন, পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন তৈরি করা প্রভৃতি নিয়মিত কাজগুলো একেবারে বন্ধ হয়ে আছে বলা চলে।

বর্তমানে পরিচালকের পদে কর্মকর্তা থাকলেও তিনি বেশির ভাগ সময় ঢাকায় থাকেন। উপপরিচালকের চারটি পদের তিনটি শূন্য; একটি পদে কর্মকর্তা আছেন, তবে তিনি ছুটিতে। সহকারী পরিচালকের ছয়টি পদই শূন্য। সিনিয়র কেমিস্টের দুটি পদের একটি শূন্য, অন্য পদে কর্মকর্তা আছেন, তবে তিনি অসুস্থ, একা চলাফেরা করতে পারেন না। জুনিয়র কেমিস্টের তিনটি পদই শূন্য। পরিদর্শকের সাতটি পদের মধ্যে মাত্র একজন কর্মরত। সহকারী বায়োকেমিস্টের দুটি পদের একজন আছেন, তিনি ঢাকায় প্রশিক্ষণে রয়েছেন। সিনিয়র টেকনিশিয়ান ও ড্রাফটসম্যানের একটি করে পদ, দুটিই শূন্য। উচ্চমান সহকারী পদে একজন, তিনি প্রেষণে যশোরে আছেন। অফিস সহকারীর দুটি পদ শূন্য। ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের তিনটি পদের একটি শূন্য এবং একজন প্রেষণে কুষ্টিয়া জেলায় কর্মরত।

ক্যাশিয়ার পদে একজন কর্মরত। তবে তিনি সদর দপ্তর ঢাকা ও বাগেরহাট জেলা অফিসেরও দায়িত্ব সামলান। স্টোরকিপারের একটি পদ শূন্য, গবেষণাগার সহকারী তিনটি পদের দুটিই শূন্য; একজন যিনি আছেন তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। নমুনা সংগ্রহকারী চারজনের মধ্যে তিনজন আছেন, বাকি পদটি শূন্য। প্রসেস সার্ভারের একটি পদ শূন্য। ল্যাব অ্যাটেনডেন্টের দুটি পদের একটি শূন্য; অফিস সহায়কের তিনটি পদই শূন্য। আউটসোর্সিংয়ে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাঁচটি পদই শূন্য।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা